রাজকুমার, আলিপুরদুয়ার: একের পর এক ঘূর্ণাবর্ত। নিম্নচাপ। লাগাতার বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে। অন্যদিকে বর্ষাপ্রবণ বলে পরিচিত উত্তরবঙ্গে সেইভাবে বৃষ্টির দেখা নেই। তাতেই ক্ষতির মুখে চা চাষ। এই সময় আমন ধানের মরশুম। বৃষ্টি না হওয়ায় মার খাচ্ছে ধান চাষ। সব মিলিয়ে কৃষিকাজে প্রবল সমস্যার মুখে পড়েছে উত্তরবঙ্গের কৃষকরা। মাথায় হাত চা বাগানের কর্তৃপক্ষেরও।
আলিপুরদুয়ারের বক্সা এলাকা উত্তরবঙ্গের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল। প্রতিবছর ৩০হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই জায়গায় জুলাই মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ৫২ মিলিটার। শতাংশের হিসাবে ৫০ শতাংশ। এত কমবৃষ্টির জেরে চা-বাগানের পাতা হচ্ছে না। শুকিয়ে যাচ্ছে চা পাতা। গরমে পাতা তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফসল যেমন কম হবে, ঠিক তেমনভাবেই চায়ের গুণগত মান কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষক ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ।
শুধু চা পাতা নয়। জুন-জুলাই মাস আমন ধান বোপন করার ভরা মরশুম। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। উত্তরবঙ্গের ১ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। যার মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে সেচের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ বেশিরভাগ জমির চাষ নির্ভর বৃষ্টির জলের উপর। কিন্তু উত্তরবঙ্গে দেখা নেই বৃষ্টির। স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় ওরাও বলেন, “বৃষ্টি হচ্ছে না। আমন ধান বোপন করার সময়। করতে পারছি না। খাব কী? ভগবান কাছে প্রার্থনা করছি বৃষ্টি হোক।” আরও এক বাসিন্দার কথায়, “আমাদের জমিতে সেচের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টির জলের উপরই ভরসা। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। জানি না কী হবে।”
এদিকে উত্তরবঙ্গে বিশ্বাস করা হয় ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি নামে। সেই রীতিমেনে এবারও ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রীতিমতো উৎসবের মেজাজে বিয়ে দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের বিশ্বাস ব্যাঙের বিয়ে দিলে তাঁরা একসঙ্গে ডাকবে। তারপর বৃষ্টি নামবে। সেই বিশ্বাস মেনেই ব্যাঙের বিয়ে দিলাম। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি বৃষ্টি হবে।”
সর্বশেষ খবর
-
ওবিসি জটেই ঝুলে! ৩১ আগস্টের মধ্যে হচ্ছে না ২৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, জানিয়ে দিল এসএসসি
-
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার, অভিষেকের ক্রিকেট কেরিয়ার কি শেষ? কী ভাবছে দিল্লি ক্যাপিটালস, সিএবি?
-
দাড়িভিটে নিহত ছাত্রদের সম্মান জানাতে উদ্যোগী এবিভিপি, ২০ সেপ্টেম্বর ভাষা দিবস পালনের ডাক
-
নিউটাউনের পর পূর্বস্থলী! ঘরে তরুণীর দেহ, জেরায় অসঙ্গতি থাকায় আটক লিভ-ইন সঙ্গী
-
FCRA বিল নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়, দরকারে ‘ঠান্ডা ঘরে’ পাঠাতে রাজি সরকার! দাবি সূত্রের