স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুনছেন?
Malda Medical College

এক রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন মালদহ মেডিক্যাল, নিত্য দুর্ভোগ রোগীদের

পুরসভা কিংবা প্রশাসনের তরফে মেডিক্যাল কলেজে জল ঢোকা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

Advertisement
বাবুল হক
বাবুল হক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১৫:৩৯

options
link
এক রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন মালদহ মেডিক্যাল, নিত্য দুর্ভোগ রোগীদের
এক রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন মালদহ মেডিক্যাল। ফাইল ছবি

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ দশম পর্ব।

Advertisement

রাতভর বৃষ্টিতেই জলে ভাসে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ (Malda Medical College) হাসপাতাল। ঢুকতে হয় হাঁটুজল পেরিয়ে। জল থই মধ্যেই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চলে। আর রোগীদের রেফার? তা লিখতেই হয় না চিকিৎসকদের। জলে ডোবার আতঙ্কে রোগীরাই পালিয়ে যান বেসরকারি নার্সিংহোমে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা। কিন্তু পুরসভা কিংবা প্রশাসনের তরফে মেডিক্যাল কলেজে জল ঢোকা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, অভিযোগ কর্তৃপক্ষের। গত সোমবারের বৃষ্টিতে মেল মেডিসিন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে হাঁটুজল জমে গিয়ে বিঘ্নিত হয় পরিষেবা। জলমগ্ন হয় হাসপাতালের মূল ভবন। বৃষ্টি কমলে সকালের পর জল নামতে শুরু করে। এক রোগীর আত্মীয় সুবোধ সরকার বলেন, “ফি বছর একটু ভারী বৃষ্টি হলেই হাসপাতালে জল ঢুকে পড়ে। অনেক রোগী নার্সিংহোমে পালিয়ে গিয়েছেন। হাসপাতাল ভবন লাগোয়া এলাকার নিকাশি সংস্কারের প্রয়োজন। অনেক রোগী নার্সিংহোমে পালিয়ে গিয়েছেন।”

Advertisement

হার্টের সমস্যা? এখনও দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাতে পারেনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজ। হঠাৎ বুকের যন্ত্রণা শুরু হলে এখনও শুধু ইসিজি রিপোর্ট। দিনে ভর্তি করলে রাতে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা তাঁকে ওষুধ দেন। হার্টের চিকিৎসা বলতে জোটে এটুকুই। ফলে হার্টের সমস্যা নিয়ে রোগীরা দ্রুত ছুটে যাচ্ছেন বর্ধমানের দুর্গাপুরে বেসরকারি হাসপাতালে। মালদহ মেডিক্যাল চালু হয় ২০১১ সালে। জানা গিয়েছে, ১১২০ শয্যার মেডিক্যালে ২৫০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। ইন্টার্ন ১২৫, হাউস স্টার্ফ ৬১, সিনিয়র রেসিডেন্ট ২২ জন রয়েছেন। মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসকের দাবি, হার্টের চিকিৎসার জন্য ইসিজির পাশাপাশি হার্টের গঠন ও ভালভের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইকোকাডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল টেস্ট, হল্টার মেশিন প্রয়োজন। ক্যাথল্যাব থাকতে হবে।

Advertisement

তাতে অ্যানজিওগ্রাফি, অ্যানজিওপ্লাস্টির মতো পরীক্ষা হবে। তবে মেডিক্যালে ইসিজি ছাড়া আর কিছুই হয় না। মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩২৫ কিলোমিটার দূরের কলকাতা, ২৫০ কিলোমিটার দূরের দুর্গাপুরে ছুটতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য কার্ডিওলজিস্ট প্রয়োজন। একাধিকবার স্বাস্থ্য ভবনে দরবার করেও কার্ডিওলজিস্ট পাওয়া যায়নি।”

এখনও পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওলজি বিভাগ কেন গড়ে ওঠেনি? মুখ খুলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। শুধু এখানেই শেষ নয়, মালদহ মেডিক্যাল কলেজের ট্রমা কেয়ার বিভাগেও পরিষেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ। টেকনিশিয়ান পেতেই সময় লেগেছে অন্তত দশটি বছর। ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু হলেও মাঝেমধ্যেই সিটি স্ক্যান ও ডিজিটাল এক্স-রে পরিষেবা বন্ধ থাকে। এজন্য ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় রোগীদের। হাত-পা ভাঙা অবস্থায় রোগীদের টেনে টেনে প্রায় দুশো মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে রোগীর এবং পরিজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.