চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: অ্যাডমিট নিতে হলে দিতে হবে সাড়ে তিনশো টাকা। স্কুলের শিক্ষিকাদের দাবি মতো সেই টাকা দিতে না পারায় মাধ্যমিকে বসা হল না ৬ পরীক্ষার্থীর৷ এই অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা শিক্ষা দপ্তর৷ অ্যাডমিট আবার কেনা যায় না কি? না, আলাদা করে অ্যাডমিট ফিস জমা দিতে হয়? রানিগঞ্জের অঞ্জুমান উর্দু গার্লস হাইস্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে অ্যাডমিট ফিস দিতে না পারায় তাঁদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি৷ অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাস্কুল পরিদর্শক৷ অ্যাডমিট ফিস চাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষিকা৷ তবে স্কুলে ৬টি অ্যাডমিট কার্ড যে পড়ে রয়েছে তা স্বীকার করেছেন তিনি৷ কেন ওই অ্যাডমিট কার্ড ৬ ছাত্রীর হাতে পৌঁছয়নি তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষিকা ইসরত আরা৷
[অ্যাম্বুল্যান্স কাণ্ডে রাতভর নার্সিংহোমে তল্লাশি পুলিশের, গ্রেপ্তার মালিক-সহ ২]
রানিগঞ্জের তারবাংলা এলাকার টিকিয়া পাড়ার বাসিন্দা আফরিন পারভিন নামে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, ছাত্রীর স্কুলের দুই শিক্ষিকা সুমেলা সিদ্দিকি ও সাবিকা পারভিন তাঁর কাছ থেকে ৩৫০ টাকা অ্যাডমিট ফিস চেয়েছিলেন৷ ছাত্রী আফরিন পারভিন জানিয়েছিলেন, স্কুলের ফিস তার বকেয়া নেই৷ কিন্তু ওই শিক্ষিকারা জানান, অ্যাডমিট কার্ড পেতে হলে ফিস জমা দিতে হবে৷ এরকমই লিখিত অভিযোগ প্রধান শিক্ষিকার কাছে জমা করেছে ওই ছাত্রী৷ মাধ্যমিকের চতুর্থ দিনের মাথায় এই ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ আত্মীয় ও পাড়া প্রতিবেশীরাও জানতেন না আফরিন পরীক্ষা দিতে পারেনি এবার৷ শনিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ঘেরাও করেন তাঁরা৷ স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান৷ শনিবার আফরিন কাঁদতে কাঁদতে জানায়, তাঁর বাবা আনোয়ার খান ভ্যান রিকশচালক৷ লোকের ভ্যান ভাড়া নিয়ে দিনমজুরি করেন৷ তাঁর মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন৷ তাই ওই টাকা তাঁদের দেওয়া সম্ভব ছিল না৷ এরপরেই প্রতিবেশীরা আফরিনকে নিয়ে স্কুলে যান৷ সেখানে প্রধান শিক্ষিকা আফরিনকে সব জিজ্ঞাসাবাদ করেন৷ আফরিন জানায়, ৮ মার্চ সে স্কুলে গিয়েছিল ওইদিনই এই ঘটনা ঘটে৷ কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা দায় এড়িয়ে বলেন, তিনি আর ওই শিক্ষিকারা ওইদিন স্কুলে আসেননি৷ তাঁরা কলকাতা গিয়েছিলেন৷ আফরিনের অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন৷ এরপরেই বিক্ষোভকারীরা প্রধান শিক্ষিকার কাছে জানতে চান ১৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন ছাত্রী কেন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অ্যাডমিট সংগ্রহ করল না তার খোঁজ কেন নেননি? প্রধান শিক্ষিকা তাঁদের জানান, এরকম কোনও নিয়ম নেই৷ স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি শাহিদ খান প্রধান শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়ে দাবি করেন ওই ছাত্রী মিথ্যা কথা বলছে৷
[পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তর না বলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উপর হামলা পড়ুয়াদেরই]
পশ্চিম বর্ধমানের সহকারি স্কুল পরিদর্শক অজয় পাল বলেন, যেখানে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য অ্যাডমিট পাঠিয়েছে সেখানে অ্যাডমিট আটকে রাখার কারও অধিকার নেই৷ তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষিকা যদি অ্যাডমিট ফিসের কথা অস্বীকারও করেন তাতেও তিনি দায় এড়াতে পারেন না৷ স্কুলকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে পরীক্ষার্থীদের জন্য৷ তিনি বলেন, আসানসোল ওল্ড স্টেশনে একই ঘটনা ঘটেছিল৷ দুই পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট স্কুলে পড়েছিল৷ তাঁরা খবর পেয়ে রবিবার রাত পর্যন্ত সেই অ্যাডমিট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন৷ সোমবার থেকে ওরা পরীক্ষা দেয়৷ প্রধান শিক্ষিকা কেন ওই ৬ জন ছাত্রীর নিয়ে কোনও খোঁজ নেননি তাঁর কৈফিয়ত দিতে হবে৷ তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই গম্ভীরভাবে দেখছেন৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড়া হবে না৷
[হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে ফাঁস মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র, মালদহে চাঞ্চল্য]
ছবি: মৈনাক মুখোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
-
সরাতেই হবে সেবাশ্রয়ের নির্মাণ, হাই কোর্টে আরও বিপাকে অভিষেক, কড়া পর্যবেক্ষণ বিচারপতির
-
তিলকের চওড়া ব্যাটে দলীপ ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চল, খেতাবি যুদ্ধে সুপারস্টার বাঁ-হাতিদের লড়াই
-
‘ভালোবাসা বেঁচে আছে…’, বেবি বাম্প আগলে শোভনের ‘মায়া ভরা রাত’ মনে করালেন সোহিনী
-
রিলসের নেশাই কাল! বৃষ্টি মাথায় ভরা গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে তলিয়ে গেলেন শিবপুরের যুবক
-
মাথায় পড়ল বাজ! ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়লেন ব্যক্তি, ভিডিও ভাইরাল, কীভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞ জানালেন…