রেশনে ‘মাল’ না পেয়ে ১০ লক্ষ জরিমানা, পলাতক ডিলার

হাতে টাকা না থাকলে প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০১৮, ২০:২৭

options
link
রেশনে ‘মাল’ না পেয়ে ১০ লক্ষ জরিমানা, পলাতক ডিলার

ধীমান রায়, কাটোয়া:‌  রেশন সামগ্রী না দেওয়ার অভিযোগে সালিশি সভায় ডিলারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা৷ হাতে টাকা না থাকলে প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে, এমনই শর্তে মুচলেকা আদায় করা হয়েছে। কোন কোন সম্পত্তি বিক্রি করা হবে, সেই তালিকাও তৈরি করে ফেলা হয়েছে। আর এই ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার মুখে পড়ে এলাকা থেকে পলাতক রেশন ডিলার। সেই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলাকার একাংশের রেশন বন্ধ রয়েছে। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার দেপাড়া গ্রামে।

Advertisement

ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে গোপন ঠিকানায় সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন রেশন ডিলার ধনঞ্জয় মণ্ডল। প্রথমদিকে বিষয়টি চাপা ছিল। ক্রমশ জানাজানির পর থেকে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যদি কোনও রেশন ডিলার গ্রাহকদের বঞ্চিত করে থাকেন, তার জন্য প্রশাসন আছে। প্রয়োজনে তার সাজা হতে পারে। লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। কিন্তু তার কাছে জরিমানা আদায় করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। দ্রুত সমস্যা মিটে ওই এলাকায় গণবণ্টন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছি ।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[‘২০১৯-এ মানুষ থাপ্পড় মারবে তৃণমূলকে’, হাই কোর্টের রায়ে মন্তব্য দিলীপের]

কাটোয়ার সুদপুর পঞ্চায়তের অন্তর্গত দেপাড়া গ্রামের রেশন ডিলার ধনঞ্জয় মণ্ডলের সঙ্গে গ্রামের একাংশের বেশ কিছুদিন ধরেই একটা সমস্যা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, গ্রামের বেশ কয়েকজন ধনঞ্জয়বাবুকে দু’সপ্তাহ আগে গিয়ে ধরেন। তার কাছে গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দকৃত সামগ্রীর হিসেব চান। স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন সরকারিভাবে যতটা বরাদ্দ রয়েছে সেই হিসাবে ডিলার মাল দিচ্ছেন না। জানা গিয়েছে, এনিয়ে কয়েকদিন ধরেই বাকবিতণ্ডা চলছিল। তারপর গত ৯ ডিসেম্বর সালিশি সভা বসানো হয়। সেই সভায় ১০ টাকার ননজুডিশিয়াল পেপারের ওপর মুচলেকাপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে ধনঞ্জয়বাবুর কাছে। মুচলেকাপত্রে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করে গ্রহীতা হিসেবে রয়েছে দেপাড়া গ্রামের ক্লাব কমিটি। দাতার জায়গায় সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে ধনঞ্জয়বাবু ও তার স্ত্রী সুভদ্রা মণ্ডলের কাছে।

Advertisement

ওই মুচলেকায় ওদিন ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ২০ দিনের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত মতো আগামী ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। ধনঞ্জয়বাবু বলেন, “গ্রামের কয়েকজনের নেতৃত্বে বেশকিছু লোকজন আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা বাড়িতে ভাঙচুর করে। আমাকে ও ছেলেকে দফায় দফায় মারধর করে। জোর করে মুচলেকায় সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। জমির দলিলগুলো কেড়ে নিয়েছে। তারপর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা দিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা গ্রামছাড়া।”

[বিছানায় পড়ে গলায় ফাঁস দেওয়া দেহ, প্রৌঢ়ের রহস্যমৃত্যুতে খড়দহে চাঞ্চল্য]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধনঞ্জয়বাবুরা গ্রামছাড়া হওয়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগে একবার রেশন বিলি হয়। যদিও এখনও বেশ কিছু গ্রাহক রেশন পাননি। ধনঞ্জয়বাবুর দাবি তিনি রেশনে মালপত্র সঠিক বণ্টন করেন। তা সত্ত্বেও তার ওপর এই জুলুমবাজি করা হচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক শত্রুতা। ধনঞ্জয়বাবু বলেন, একসময় সিপিএম করতাম। এখন কোনও দল করি না। কিন্তু পুরনো আক্রোশেই আমার ওপর এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল এম আর ডিলার আ্যসোসিয়েশনের বর্ধমান জেলা সম্পাদক পরেশনাথ হাজরা বলেন, “রেশন বণ্টন নিয়ে ডিলার অনিয়ম করলে তার ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অন্য কোনও ঘটনার জেরে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা কখনই কাম্য নয়।”

ছবি: জয়ন্ত দাস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.