Raw litchis can be harmful for children

বাজার ছেয়েছে কাঁচা লিচুতে, খেলেই ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে শিশুদের

তাপপ্রবাহের জেরে এবার লিচুর ফলন বিশেষ ভাল নয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৭, ২০২৩, ১৯:৪৮

options
link
বাজার ছেয়েছে কাঁচা লিচুতে, খেলেই ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে শিশুদের

বাবুল হক, মালদহ: জেলার উদ্যানপালন দপ্তর বলছে, গাছের লিচু এখনও পরিপক্ক হয়নি। চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করবে। কিন্তু তার আগেই কালিয়াচকের কাঁচা লিচুতে ছেয়ে গিয়েছে মালদহের বাজার। ইংরেজবাজার শহরের রাজপথের ধারে ঠেলা গাড়িতে কিংবা ফলের বাজারে এখন থোকা থোকা লিচুর স্তূপ। বেশিরভাগ লিচুর রং সবুজ। আছে লালচে-বাদামি লিচুও। কিন্তু সেই লাল রংয়ের লিচুও রাসায়নিক রং মেশানো বলে অভিযোগ।

Advertisement

এক-একটি থোকায় থাকছে ৫০টি করে লিচু। সেই থোকার দাম ১৫০ টাকা। অর্থাৎ ১০০টি লিচুর দাম ৩০০ টাকা। চড়া দাম! তা-ও দেদার বিকোচ্ছে এই কাঁচা লিচু। আর এই কাঁচা লিচু নিয়েই উদ্বিগ্ন মালদহের জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। কারণ, কাঁচা লিচু খেলেই বিপদ। শিশুদের মৃত্যুও ঘটতে পারে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। স্বভাবতই দুশ্চিন্তা বেড়েছে মালদহের স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের। বুধবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) পাপড়ি নায়েক বলেন, “খালি পেটে লিচু খেলে ভীষণ সমস্যায় পড়তে পারেন। কাঁচা লিচু খেলে শিশুদের ভয়ংকর পরিণতি ঘটতে পারে। এই বিষয়গুলি সবাই জানেন। তা-ও আমরা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি। স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে সতর্ক করছেন। শিশুদের কাঁচা লিচু খাওয়ানো চলবে না।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: ওহ লাভলি! নেতা থেকে অভিনেতা মদন, সারলেন মিষ্টি পারিবারিক ছবির শুটিং]

মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ড. পুরঞ্জয় সাহা জানান, কাঁচা অর্থাৎ অপরিপক্ব লিচু খেলে ডায়রিয়া-সহ বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। কাঁচা বা আধ-পাকা লিচুতে থাকা টক্সিন হাইপোগ্লাইসিন ‘এ’ এবং মিথাইলিন-সাইক্লো-প্রোপাইল-গ্লাইসিন নামক টক্সিন বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তাতে শিশুদের মৃত্যুও ঘটতে পারে।” মেডিক্যাল কলেজের তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে এই ধরনের লিচি সিনড্রোম-এ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল। পরের বছরেও ৪ জন শিশু মারা যায়। আক্রান্ত হয়েছিল তিন শতাধিক শিশু। সেই বছরের পর বাজারে কাঁচা লিচু বিক্রি বন্ধ করতে অভিযান শুরু করেছিল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি। তারপর ৯টি বছর কেটে গিয়েছে। ফের মালদহের বাজারে কাঁচা লিচুর রমরমা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যদপ্তর। মালদহের সিএমওএইচ পাপরি নায়েক বলেন, “বাজারে নেমে তো আর আমরা ধরপাকড় করতে পারি না। স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষকে সচেতন করছেন।”

Advertisement

মালদহ জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক বলেন, “এই মরসুমে লিচু পাকতে শুরু করবে চলতি মে মাসের শেষের দিকে। তারপর বাজারে আসবে। তবে চলতি মাসের শুরু থেকেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কালিয়াচকের লিচু। এই সব লিচু অপরিপক্ব, কাঁচা। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাষিদের সতর্ক করেছি।” শহরের মকদমপুর বাজার এলাকায় লিচু বিক্রি করছেন সহদেব মণ্ডল। তিনি বলেন, “আমার লিচু কাঁচা। বাড়িতে কয়েকদিন রেখে খেতে হবে। এবার বাগানে লিচুর ফলন ভালো হয়নি। ১০০ লিচুর দাম এবার ৩০০ টাকা। এতেও অনেক কম লাভ করছি। কালিয়াচকের বাগান মালিকরা অতিরিক্ত লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের কাছে চাহিদা থাকায় আমরাও অপরিপক্ব লিচু কিনে এনে বাজারে বিক্রি করছি।”

উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিজুড়ে লিচু চাষ হয়ে থাকে। যার মধ্যে কালিয়াচক ১, ২ এবং ৩ নম্বর ব্লকেই লিচু চাষ বেশি হয়। এর বাইরে ইংলিশবাজার, রতুয়া, চাঁচোল ও ওল্ড মালদহ ব্লকে লিচু চাষ হয়। লিচুর চাহিদা গোটা রাজ্যজুড়েই রয়েছে। মালদহ থেকে লিচু মূলত পাঠানো হয়ে থাকে মুম্বইয়ের বাজারে। এছাড়া অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডেও ফি বছর লিচু রপ্তানি করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর এই জেলায় লিচুর গড় উৎপাদন থাকে ১৬ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এবার ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া। ভাল মুকুল আসেনি। লিচু গাছে যা মুকুল ধরেছিল, তাপপ্রবাহের জেরে তার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মালদহের কালিয়াচকেও লিচুর ফলন খুব খারাপ হবে বলেই মনে করছেন জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক।

তিনি জানান, এই জেলায় আমের পরে লিচুর স্থান। জেলার গঙ্গা নদী সংলগ্ন কালিয়াচকের তিনটি ব্লকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বোম্বাই জাতের লিচু উৎপাদন হয়। এই প্রজাতির লিচু অত্যন্ত উন্নতমানের। পাতলা খোসা, শাঁসও অনেক বেশি থাকে। রসে ভরপুর। বাজারে এই লিচুর খুব ভাল চাহিদা রয়েছে। চাঁচোলের দু’টি ও রতুয়ার দু’টি ব্লকে ফুলহর নদীর ধারে বেশ ভাল লিচু চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এবার উলটো চিত্র। সেভাবে লিচুই নেই গাছে। যা রয়েছে সেই লিচুই মুনাফা লাভের আশায় ভেঙে বিক্রি করতে শুরু করেছেন এক শ্রেণির চাষি বলে অভিযোগ। অনেকেই কাঁচা লিচুতে কেমিক্যাল মিশিয়ে লাল করে তুলছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, “সমস্যাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”

[আরও পড়ুন: ‘আবহাওয়া খারাপ, শরীর ভাল না, কয়েকদিন বিশ্রাম নাও’, অভিষেককে ‘বকুনি’ মমতার]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.