Santipur

বেতন অমিলে বাড়ছিল ক্ষোভ, শান্তিপুরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগে ব্যান্ড পার্টি সেলিব্রেশনে সাফাই কর্মীরা!

চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর বৃহস্পতিবার পুরসভা চত্বরে রীতিমতো উৎসবের আমেজ।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১৮:৫৪

options
link
বেতন অমিলে বাড়ছিল ক্ষোভ, শান্তিপুরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগে ব্যান্ড পার্টি সেলিব্রেশনে সাফাই কর্মীরা!
শান্তিপুর পুরসভায় ব্যান্ড পার্টি নিয়ে সেলিব্রেশনে সাফাই কর্মীরা। নিজস্ব ছবি।

টানা তিন দিনের আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ এবং ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামাণিক। অনিয়মিত বেতন-সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে পুরসভার সাফাই কর্মীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের জেরেই চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগ বলে দাবি কর্মীদের। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর বৃহস্পতিবার পুরসভা চত্বরে রীতিমতো উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন সাফাই কর্মীদের একাংশ। কর্মচারীদের দাবি, এ দিনের অনুষ্ঠান মূলত বিশ্বকর্মা পুজোর পাট পুজো উপলক্ষে হলেও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের খবর তাঁদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Advertisement

বুধবার বিভিন্ন এলাকার পচা, আবর্জনা নিয়ে পুরসভায় হাজির হন বিক্ষোভকারীরা। পুরসভার ভিতরে ঢুকে আবর্জনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মৃত কুকুর থেকে পচনশীল আবর্জনা ছড়ানো হয়। বাদ যায়নি পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের ঘরও। সেই ঘরের দরজার বাইরে একইভাবে আবর্জনা ছড়িয়ে রাখা হয়। বকেয়া বেতন-সহ অন্যান্য দাবিতে তার মধ্যেই চলতে থাকে বিক্ষোভ।

সাফাই কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া রয়েছে। পরিচয়পত্র-সহ একাধিক দাবিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানানো হচ্ছিল। অভিযোগ, আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। বেতন পাওয়াও দুরস্থ। গত তিনদিন ধরে সাফাই কর্মীরা কর্মবিরতিতে ছিলেন। কিন্তু তারপরেও পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও হেলদোল দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত বুধবার বিভিন্ন এলাকার পচা, আবর্জনা নিয়ে পুরসভায় হাজির হন বিক্ষোভকারীরা। পুরসভার ভিতরে ঢুকে আবর্জনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মৃত কুকুর থেকে পচনশীল আবর্জনা ছড়ানো হয়। বাদ যায়নি পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের ঘরও। সেই ঘরের দরজার বাইরে একইভাবে আবর্জনা ছড়িয়ে রাখা হয়। বকেয়া বেতন-সহ অন্যান্য দাবিতে তার মধ্যেই চলতে থাকে বিক্ষোভ। সাফাই কর্মীদের বক্তব্য, বকেয়া বেতন না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিয়মিত কাজ করার পরও বেতন না পেলে কীভাবে তাঁরা সংসার চালাবেন? তিনদিন ধরে কর্মবিরতি চললেও চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি বলেও অভিযোগ।

Advertisement
বুধবার চেয়ারম্যানের ঘরের সামনে আবর্জনা ছড়িয়ে বিক্ষোভ সাফাই কর্মীদের। নিজস্ব চিত্র

বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিজেরাই সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে দেন তাঁরা। এদিকে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর তাঁর ঘরের নেমপ্লেট খুলে ফেলা হলেও ভাইস চেয়ারম্যানের ঘরের নেমপ্লেট এখনও রয়েছে। কেন ভাইস চেয়ারম্যানের নেমপ্লেট খোলা হয়নি, তা কর্তৃপক্ষই বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। তিন দিনের আন্দোলনের পর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। এবার নতুন চেয়ারম্যানের অধীনে সাফাই কর্মী-সহ পৌরসভার সমস্ত কর্মচারী আরও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.