শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটে নতুন আকর্ষণ ‘ঝর্ণা’! জলের টানে সেখানে ক্রমশ বাড়ছে পর্যটকের ভিড়। সোনাঝুরি হাট মানেই লাল মাটির পথ, খোয়াইয়ের ঢেউ খেলানো ভূপ্রকৃতি, শাল-সেগুনের ছায়া আর বাউলের সুর। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এই চেনা ছবির সঙ্গেই এবার যেন নতুন এক আকর্ষণ যোগ হয়েছে। সোনাঝুরি হাটে এলেই বহু পর্যটকের নজর এখন আটকে যাচ্ছে একটি ‘ঝর্ণা’র দিকে। প্রকৃতির তৈরি নয়, জল ছাড়ার পর তৈরি হওয়া এই জলধারাই বর্তমানে পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র। আর সেটাই এখন ক্রমশ মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে পুলিশের কাছে।
আরও পড়ুন:
বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে একের পর এক ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। পর্যটকদের ভিড় এবং জলধারায় নেমে ছবি তোলা কিংবা ভিডিয়ো করার প্রবণতা বাড়তে থাকায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।
সোনাঝুরি হাটে ঢোকার মুখেই একটি সেতুর নীচে রয়েছে এই জলধারা। সেচ দপ্তর জল ছাড়লেই সেখানে হু-হু করে জল নেমে আসে। সেতুর নীচ দিয়ে প্রবল স্রোতে জল যাওয়ার সময় দূর থেকে দেখলে অনেকটাই ঝর্ণার মতোই মনে হয়। আর সেই দৃশ্য দেখতেই ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের পর্যটকেরা। কেউ দাঁড়িয়ে সেই জলধারার ছবি তুলছেন, কেউ আবার মোবাইলের ক্যামেরায় মুহূর্ত বন্দি করছেন। আবার অনেকেই ঝর্ণার জলে নেমে ভিজে আনন্দে মেতে উঠছেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই সব ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই সোনাঝুরির এই জলধারা নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকের কাছেই সোনাঝুরি হাট ঘোরার তালিকায় এখন এই ‘ঝর্ণা’ও ঢুকে পড়েছে। তবে আনন্দের আড়ালেই রয়েছে বিপদের আশঙ্কা। সেতুর নীচ দিয়ে জল প্রবল স্রোতে বয়ে যাওয়ার সময় সেখানে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জল কখন বাড়বে, স্রোতের তীব্রতা কতটা থাকবে—তা সবসময় অনুমান করা সম্ভব নয়। ফলে পর্যটকদের অসতর্কতার সুযোগে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকছে।

বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে একের পর এক ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। পর্যটকদের ভিড় এবং জলধারায় নেমে ছবি তোলা কিংবা ভিডিয়ো করার প্রবণতা বাড়তে থাকায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে। বিপজ্জনকভাবে জলে নামা থেকে পর্যটকদের বিরত করতে এখন কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ঝর্নার আশেপাশে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানা গিয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, শান্তিনিকেতনের পর্যটন মানচিত্রে সোনাঝুরি হাটের জনপ্রিয়তা বহুদিনের। হাটের শিল্পকর্ম, বাউল গান আর খোয়াইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতি সপ্তাহেই বহু মানুষ এখানে আসেন। তারই মধ্যে জল ছাড়ার সময় সেতুর নীচে তৈরি হওয়া এই ‘ঝর্ণা’ যেন সাময়িকভাবে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১০৮ জন উদ্ধার হলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়, জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
গাড়ি থামিয়ে জোর করে টাকা আদায়! সাসপেন্ড কলকাতা পুলিশের দুই কর্মী
-
অশোকনগরে শুরু তেল উৎপাদন, তৃণমূলকে দুষে শমীক লিখলেন, ‘শক্তিশালী হোক বাংলার অর্থনীতি’
-
স্মার্টওয়াচ অতীত, শরীরের খুঁটিনাটি হিসেব রাখবে অত্যাধুনিক ‘টেম্পল’, কবে আসছে ভারতের বাজারে?
-
পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপের