Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
Hooghly

সত্যিই খুনের নেপথ্যে রবীন্দ্রনাথ? ধনেখালিতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু রহস্য ফাঁস! কী বলছে পুলিশ

ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মৃত্যুর প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করে চলছে তদন্ত।

সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১৯:২৩

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১৯:২৩

options
link
সত্যিই খুনের নেপথ্যে রবীন্দ্রনাথ? ধনেখালিতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু রহস্য ফাঁস! কী বলছে পুলিশ zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

শুক্রবারই হুগলির ধনেখালির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খুন নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে শুরু হয় চর্চা। যদিও প্রাথমিক তদন্তে তিনজনকে আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করেন পুলিশ আধিকারিকরা। তবে ঘরের দেওয়ালে এক ব্যক্তির নাম ঘিরে তৈরি হয় রহস্য! যেখানে লেখা ছিল, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী রবীন্দ্রনাথ।’ কিন্তু কেন? কে এই ব্যক্তি? সেই রহস্যের সন্ধানেই তদন্তে নামে পুলিশ। সেই ঘটনার সূত্রেই এবার চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ মুর্মু। যিনি মৃতদের প্রতিবেশী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়, মধুমিতার মা টিঙ্কু ওরফে ইন্দ্রাণী সিংহ রায় এবং মধুমিতার স্বামী জয় সিংহকে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে ধৃত চারজনকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় রবীন্দ্রনাথবাবুর সন্দেহের নজরে পড়ে যান উত্তম। কারণ ওই সময়েই বেশ কিছু সোনার গয়না বিক্রি করেছিলেন তিনি।

মৃতদের নাম উত্তম চাঁই, রূপা চাঁই এবং অঙ্কিতা। মৃত অঙ্কিতা উত্তম এবং রূপার মেয়ে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গত কয়েকমাস আগে ডানকুনির বাসিন্দা উত্তমবাবু ধনেখালির সোমসপুর দুলেপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নেন। পরে ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিং রায়ের কাছে বাড়িটি ক্রয় করার জন্য চার লক্ষ টাকা অগ্রিম বাবদ দেন উত্তম। কোনও এক সূত্রে উত্তমবাবুর যাতায়াত শুরু হয় প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মুর বাড়িতে। তৈরি হয় একটি সম্পর্ক। কিন্তু এরমধ্যে একটি ঘটনা উত্তম চাঁই এবং রবীন্দ্রনাথবাবুর মধ্যে সম্পর্কে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

Advertisement

জানা যায়, গত ১৬ অগস্ট রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা সোনার গয়না চুরি যায়। বাড়ির তালা ভেঙে সমস্ত কিছু চুরি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় রবীন্দ্রনাথবাবুর সন্দেহের নজরে পড়ে যান উত্তম। কারণ ওই সময়েই বেশ কিছু সোনার গয়না বিক্রি করেছিলেন তিনি। সেই টাকা থেকে বাড়ি কেনার জন্য ভাড়া বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়কে ৪ লক্ষ দেওয়া দিয়েছিলেন। আর সেটা জানতে পারেন রবীন্দ্রনাথবাবু। এরপরেই এই বিষয়টি নিয়ে উত্তমের বাড়িতে এসে চাপ দিতে থাকে রবীন্দ্রনাথ-সহ মধুমিতা, জয় ও ইন্দ্রাণী।

সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উত্তম চাঁই তার দোষ স্বীকার করেন। গয়না বিক্রি করে পাওয়া ৮ লক্ষ টাকা রবীন্দ্রনাথকে ফিরিয়ে দেন। চুরি যাওয়া সোনার বাজার দর অনুযায়ী আরও চার লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান রবীন্দ্রনাথকে। এই অবস্থায় ক্রমশ উত্তম চাঁই এবং তাঁর পরিবারের উপর চাপ আসতে থাকে। এমনকী এলাকা ছাড়ার কথাও বলা হয় বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনার পরেই পরিবারকে নিয়ে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত উত্তম নেন বলে সূত্রের খবর। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। দফায় দফায় ধৃত চারজনকে জেরা করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মৃত্যুর প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করে চলছে তদন্ত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.