২০০৮ সালের পর ২০২৬। ফের আন্দোলন মাথাচাড়া দিচ্ছে সিঙ্গুরে! সেবার আন্দোলন ছিল জমির অধিকারের দাবিতে। জমিমালিকদের অনুমতি না নিয়েই ন্যানো গাড়ি কারখানার জন্য তৎকালীন বাম সরকার টাটা গোষ্ঠীর হাতে জমি তুলে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবারও আপত্তি সেই জমি নিয়েই। তবে বিরোধিতা এবার বিজেপির বিরুদ্ধে। আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে ‘টাটার মাঠে’ জনসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Singur Rally)। সেখান থেকে একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধনও করবেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি না নিয়েই জমিতে সভামঞ্চ তৈরি হচ্ছে। এনিয়ে বিডিওর কাছে লিখিতভাবে আপত্তির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন। এভাবেই ১৮ বছর পর শিল্প আর রাজনীতির লড়াই মিলে গেল সিঙ্গুরের মাটিতে।
আরও পড়ুন:

জমি মালিকদের সম্মতি ছাড়াই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য সভামঞ্চ তৈরি হচ্ছে। বুধবার সিঙ্গুরে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ করেছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তাঁর কথায়, ”দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরের যে জমিতে সভা করবেন, সেই জমির মালিকদের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হয়নি। গোপালনগর মৌজার ওই সব জমির মালিকরা বিডিও এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।” কৃষকদের অভিযোগপত্র দেখিয়ে মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ”সিঙ্গুরের মাটি গণতন্ত্র প্রিয় মানুষের মাটি। এখানে অনেক রাজনৈতিক নেতারা আসাযাওয়া করেন। কিন্তু দুঃখের কথা, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়ম মানেন না।” প্রমাণ হিসাবে জমির মালিকরা বিডিওকে যে চিঠি দিয়েছেন, তার প্রতিলিপি সাংবাদিকদের হাতে তুলেও দিয়েছেন তিনি।

সেসব চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, দিলীপকুমার কোলে, মোহিতকুমার কোলে, সনাতন সাঁতরার মতো স্থানীয় কৃষকরা প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য অনুমতি ছাড়া তাঁদের জমির দখল নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য তাঁদের কাছ থেকে জমি সংক্রান্ত কোনও মৌখিক অথবা লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি।
যদিও তাঁদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সিঙ্গুরের বিজেপি নেতা সঞ্জয় পাণ্ডে। তাঁর দাবি, ”এখন কেউ মিথ্যে অভিযোগ করতেই পারে। তার অন্য ব্যবস্থা আছে। আমরা ওসব নিয়ে চিন্তিত নই।” আয়োজকদের দাবি, জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এসপিজি টিম সুরক্ষা খতিয়ে দেখে তবেই এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘দর্শক আমার ছবি ব্লকবাস্টার করবে’, পুজো রিলিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সৃজিত
-
উপনির্বাচনের আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হুমায়ুন? রেজিনগরে নয়া সমীকরণ!
-
গান্ধীজয়ন্তীতে মহাচমক! বাপুকে স্মরণ করে ‘জাতির জনক’ অবতারে এলেন মনোজ বাজপেয়ী
-
সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালি, তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে বিচার হবে, রায় কলকাতা হাই কোর্টের
-
১৯৬৭-তে চন্দননগরে আসেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র! কেউ জানত না?