Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২ অক্টোবর ২০২৬
Gumnami Baba

১৯৬৭-তে চন্দননগরে আসেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র! কেউ জানত না?

উর্দু বাজারে খোলা উঠোনের এক পাশে ছোট গোপন কাঠের দরজাটা দেখে সেই ইন্টেলিজেন্স ফাইলগুলোর কথা মনে পড়ছিল আমাদের। অরুণ মিশ্রা বললেন, বাবার নির্দেশ ছিল এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা আসলে তাদের উপর নজর রাখার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২৬, ১৭:১৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২৬, ১৭:১৮

options
link
১৯৬৭-তে চন্দননগরে আসেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র! কেউ জানত না? zoom
সুভাষবাবু এখানে জীবনের পুরোনো অনেক গল্প বলতেন।
Advertisement

গুমনামি বাবাই  কি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু? এই বিষয়ে কোনও নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তবে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে (বর্তমান অযোধ্যা) নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো ‘গুমনামি বাবা’ বা ‘ভগবানজি’কে অনেকে নেতাজিই মনে করেন। তাহলে সত্যিটা আসলে কী? দীর্ঘ গবেষণায় অসংখ্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে, গুমনামি বাবার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বয়ান ঘেঁটে চমকে দেওয়া উত্তর পেয়েছেন দুই লেখক ও গবেষক সৈকত নিয়োগী ও সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত হচ্ছে সেই ধারাবিবরণী— ‘মহামানবের চরণতলে’।

একে একে সকলে মারা যাচ্ছে। দিন ফুরিয়ে আসছে। ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ একটু একটু করে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিলক্ষণ বুঝতে পারছিলাম আমরা। যখন কেউ আজও প্রশ্ন করে, প্রমাণ কি আছে যে উত্তরপ্রদেশের সেই সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র ছিলেন? আমাদের মনে হয়, যুক্তি চিন্তার সমস্ত পথ বন্ধ করে একটা সিদ্ধান্তকে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যুক্তিবাদের এমন প্রহসন বোধহয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ চক্রান্ত। চন্দননগরের প্রবর্তক সংঘের প্রবীণতমা সদস্যা মমতা দাসের কথা মনে পড়ে। ১৯৬৭ সালে সুভাষচন্দ্রের চন্দননগরের পদার্পণের ঘটনার স্বপক্ষে প্রচুর নথিপত্র বিপ্লবীদের চিঠি, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ এসব কিছু নিয়ে বছরের পর বছর তিনি অপেক্ষা করেছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

“কতবার কতজনকে অনুনয় বিনয় করে অনুরোধ করেছি। কেউ গুরুত্ব দেয়নি। কুণাল যদি না থাকত!” উত্তরপ্রদেশের লখনৌহাথা মন্দির থেকে পন্ডা রামকিশোর মিশ্রার বাড়ির দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। কিন্তু এই পথে যেতে সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের লেগেছিল প্রায় এক বছর! রহস্যজনক! ১৯৬৭ সালে প্রহ্লাদ মিশ্রার মৃত্যুর সমকাল এবং পরের কিছুদিন কোথায় ছিলেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র? সুভাষচন্দ্রের অজ্ঞাত উপাখ্যানের পরতে পরতে রহস্য। তবে কি লখনৌহাথার মন্দির থেকেই সন্ন্যাসী যাত্রা করেছিলেন চন্দননগরে? ফরাসি আমলের চন্দননগরের বিপ্লবীরা যে আশ্রয় পেতো, সেই যুগ তো আর ছিল না পরে। ইউরোপে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের চুক্তির যে সুফল ফরাসি আমলে বিপ্লবীরা পেয়েছিল, ক্ষমতা হস্তান্তরিত ভারতে সেই সুযোগ কোথায়? চন্দননগর তখন খণ্ডিত ভারতের এক শহর মাত্র! সেখানে এসেই হয়তো সেই সত্য উপলব্ধি করেছিলেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র।

ব্রিটিশ গুপ্তচরদের নির্যাতন যিনি সহ্য করেছেন তার কাছে বালখিল্যতা ক্ষমতা হস্তান্তরিত ভারতে আইবি-র সার্ভিলেন্স।

“আই এ্যাম বোস” ইউটিউব চ্যানেলের কর্ণধার গবেষক কুণাল বসু। যেদিন চন্দননগরের মমতাদির কথা প্রথম জানতে পেরেছিলাম, নির্দ্বিধায় ফোন করেছিলাম আমরা তাঁকে।” আমি বহু বছর আগে মমতা দিদির কথা শুনেছিলাম। তখন বুঝিনি, তথ্যের প্রয়োজন ছিল। বিপ্লবী অরুণ দত্তের যে পরিচয়টা তুমি দিলে, তিনি যখন এই লেখা লিখেছিলেন “নবসংঘ” পত্রিকায়, তখন তাকে গুরুত্ব না দিয়ে থাকা যায় না। মুখার্জি কমিশনেও গিয়েছিলেন মমতাদি। এটা ব্রেকিং নিউজ আমি করবই! কিন্তু সৈকত, চন্দননগর ট্রেইলটা কোথায় গিয়ে শেষ হচ্ছে আমাদের খুঁজে বার করতে হবে! লেটস গো ফর ইট!” মমতাদি জানতেন না সুভাষবাবু কোথা থেকে এসেছেন, তিনি জানতেন না সুভাষবাবু কোথায় যাবেন। শুধু এতটুকুই জানতেন, তাঁর গুরু বিপ্লবী অরুণ দত্ত বলেছেন সুভাষবাবুর সেবা করতে। সেই সেবাতেই তাঁর মুক্তি। “কুণাল, বোধহয় এইটুকু দেখার জন্যই ঈশ্বর আমাকে এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছেন।”

চন্দননগরের ইন্টারভিউটার পর মমতাদি বেঁচেছেন মাত্র আর একটা বছর। প্রবর্তক সংঘের যাবতীয় নথিপত্র যা তিনি ইতিহাসের স্বার্থে রক্ষা করেছিলেন, আমাদের দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চন্দননগরের বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তির কু-তৎপরতায় তা আমাদের হাতে এসে পৌঁছাল না। প্রবর্তক সংঘের কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা আছে, সেই অসাধু ব্যক্তির থেকে ঐতিহাসিক দলিল পত্র তারা উদ্ধার করবেনই। সঙ্ঘগুরু মতিলাল রায় সহায়!

দেশনেতা, কলকাতার মেয়র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

দমদম পার্কে ৫ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে ডাক্তার পবিত্র মোহন রায়ের বাড়ি। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সন্ন্যাসীর জিনিসপত্রের তথ্য তালাশ করতে করতে পুলিশের ইনভেস্টিগেশন টিম এসে পৌঁছাল এই বাড়িতে। পবিত্রবাবুর উপর আইবি-র নজর ছিল বহু বছর ধরে। ব্রিটিশ গুপ্তচরদের নির্যাতন যিনি সহ্য করেছেন তার কাছে বালখিল্যতা ক্ষমতা হস্তান্তরিত ভারতে আইবি-র সার্ভিলেন্স। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে বাড়িতে জমেছে সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের চিঠিপত্র, নোট। ওরা আসছে মূলত তারই সন্ধানে। কী করবেন সেগুলো? ফৈজাবাদ তো শেষের দেড় বছর।

তার আগে বছরের পর বছর উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় সন্ন্যাসীর অবস্থান এবং সেখান থেকে লেখা রাজনৈতিক সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। সেইগুলির গতি করতে হবে। নইলে তাঁকে না পেয়ে তাঁর লেখা নিয়ে শেয়াল কুকুরের মতো কাটা ছেঁড়া হবে। নেতার প্রতি এমন অবমাননা কিভাবে সহ্য করবেন ডাক্তার রায়? আইবির হেনস্থা থেকে রক্ষা পেতে, তাই তিনি এক বিশ্বস্ত ভগবানজীর অনুগামীকে সেই নোট-পত্রগুলো রাখতে দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত পরে আর সেগুলি ফেরত পাননি। এমন তো হয়েই থাকে। তবে আজও, ডাক্তার পবিত্র মোহন রায়ের পরিবারের কাছে সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে লিখিত কথোপকথনের এমন অনেক নোট থেকে গিয়েছে, যা ঐতিহাসিক দলিল। কিন্তু বহমান নদীর জলধারার মতো যে ইতিহাসকে সংরক্ষণ করতে চাননি ইতিহাসপুরুষ, তার দুর্গতি ঠেকাবে কে?

এখান দিয়ে কেউ আসলে হল ঘরের ভেতরের খুপড়িগুলোর মধ্যে প্রথমেই যে খুপড়িটা পড়বে, সেটা সুভাষবাবুর আস্তানা।

গবেষণার স্বার্থে কুণাল বসু ডাক্তার পবিত্র মোহন রায়ের পুত্র রণেন্দ্রমোহন রায়ের সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। ক্রমে এই গবেষণার পরিচয়ে কুণাল বসু, সৌমব্রত এবং আমার সঙ্গে ডাক্তার পবিত্র মোহন রায়ের পরিবারের এক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। যতটুকু তারা বলতে চান, প্রকাশ্য আলোচনা আমরা ততটুকুতেই সীমিত রেখেছি। আমাদের উত্তরপ্রদেশ যাত্রার খবর আগে তাদের জানাইনি। আমাদের পুরো ইনভেস্টিগেশনের ভিডিও ছবি দেখে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলেন রণেনবাবু, সামগ্রিকভাবে আবেগঘন যে স্থান, তা অযোধ্যার উর্দু বাজার। এখানে সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের আস্তানা দেখলে পাষাণ প্রতিমারও চোখে জল আসে।

উর্দু বাজারের সেই আস্তানার বাইরে যে খোলা উঠোন মতো অংশটা উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে, তার পিছনের দরজাটা খুব ভালোভাবে দেখলাম আমরা। এই দরজাটা বেশ ছোট এবং বাড়ির পিছন দিকটায় উন্মুক্ত হয়েছে। এখান দিয়ে কেউ আসলে হল ঘরের ভেতরের খুপড়িগুলোর মধ্যে প্রথমেই যে খুপড়িটা পড়বে, সেটা সুভাষবাবুর আস্তানা। বেশ পরিকল্পনা করেই এই খুপড়িটা তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। রামকিশোর মিশ্রার ছোট ছেলে অরুণ বাবু জানালেন, সেই সময়ে আশপাশের খুপড়িগুলো তাঁরা ভাড়া রাখেননি। সম্পূর্ণটা জনশূন্য হয়ে গেলে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই আশপাশের অংশে লোক ছিল। কী সুনিপুন পরিকল্পনা!

পুরনো চন্দননগর। এখানেই এসেছিল গুমনামিবাবা ওরফে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

মনে পড়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইন্টেলিজেন্স ওয়ারফেয়ারে আইএনএ সিক্রেট সার্ভিসের প্রসঙ্গে এমআই ফাইভ এর বেশ কিছু নথিপত্র পড়েছিলাম। চট্টগ্রামের বেশ কিছু পাহাড়ে মেঘদূতের মতো নেমে এসেছিল প্যারাট্রুপার্স। তাদের উপর নির্দেশ ছিল শহরে প্রবেশ করে জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার। এই মিশে যাওয়ার বেশ কিছু নিয়ম নির্ধারিত ছিল। ইউএন দাস অ্যান্ড কোম্পানি! আদপে এমন কোনও কোম্পানির অস্তিত্ব নেই। কিন্তু যে যে বাড়িতে এই নামের সাইনবোর্ড দেখা যাবে, সেই বাড়িগুলি নেতাজি সুভাষচন্দ্রের সিক্রেট অর্গানাইজেশন ‘এম’-এর এজেন্টদের। সেখানে স্বচ্ছন্দে আশ্রয় নিতে পারে নেতাজির গুপ্তচরেরা। যে বাড়িতে এই সাইনবোর্ডটা উলটো করে অবহেলায় ঝুলবে, বুঝতে হবে সেখানে ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্সের সার্ভিলেন্স প্রবল। এমনই সব নির্দেশ ছিল আই এন এ সিক্রেট সার্ভিসের। পেনাঙের স্বরাজ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দেয়া হত। কোন জনবহুল অঞ্চলে কিভাবে আত্মগোপন করে থাকতে হবে?

সুভাষবাবু এখানে মিশ্রা পরিবারকে জীবনের পুরোনো অনেক গল্প বলতেন। কলকাতা পৌরসভার দিনগুলো, শহর পরিষ্কার রাখার জন্য তার নানান ব্যবস্থার কথা বলতেন।

ইন্টেলিজেন্স চিফ রাঘবানের ডিরেক্টিভ মাথায় বসিয়ে দেয়া হত শিক্ষা নবিশদের। জনবহুল এলাকায় প্রথমে একটা সিগারেটের দোকান দাও। কাগজে মুড়িয়ে তামাক দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট এজেন্টকে কখন সিক্রেট কোড লেখা কাগজ হাসতে হাসতে দিয়ে দেবে দোকানদার, ব্রিটিশ গুপ্তচররা টের পাবে না। আজাদ হিন্দ বাহিনীতে সিক্রেট সার্ভিসের দপ্তর সরাসরি নিজের হাতেই রেখেছিলেন সর্বাধিনায়ক সুভাষচন্দ্র। সেই সুভাষচন্দ্রের পক্ষে এমন অজ্ঞাতবাস অত্যন্ত সহজ এক জীবনযাত্রা।

উর্দু বাজারে খোলা উঠোনের এক পাশে ছোট গোপন কাঠের দরজাটা দেখে সেই ইন্টেলিজেন্স ফাইলগুলোর কথা মনে পড়ছিল আমাদের। অরুণ মিশ্রা বললেন, বাবার নির্দেশ ছিল এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা আসলে তাদের উপর নজর রাখার। সেই নজরদারির অভিনব সব পদ্ধতি নির্দিষ্ট হয়েছিল কেবলমাত্র সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। সুভাষবাবু এখানে মিশ্রা পরিবারকে জীবনের পুরোনো অনেক গল্প বলতেন। কলকাতা পৌরসভার দিনগুলো, শহর পরিষ্কার রাখার জন্য তার নানান ব্যবস্থার কথা বলতেন। এখানে যে গরিব মানুষগুলো হলঘরটিতে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের একত্রিত করে পরিষ্কার রাখার মাহাত্ম্য বোঝাতেন। কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে সেই সম্পর্কে বলতেন। সেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে আসতে আমরা যেন উপলব্ধি করলাম তাঁর অব্যক্ত উপস্থিতি। “আই এম বোস” চ্যানেলের জন্য ভিডিও রেকর্ড করতে করতে গবেষক কুণাল বসুর কিছুটা বিরতি নিলেন। এই জায়গাটা দেখলে মনে হয়, একমাত্র তিনি পারতেন এই জীবন বেছে নিতে।

(পরবর্তী পর্ব রবিবার, ৪ অক্টোবর)

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.