গুমনামি বাবাই কি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু? এই বিষয়ে কোনও নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তবে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে (বর্তমান অযোধ্যা) নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো ‘গুমনামি বাবা’ বা ‘ভগবানজি’কে অনেকে নেতাজিই মনে করেন। তাহলে সত্যিটা আসলে কী? দীর্ঘ গবেষণায় অসংখ্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে, গুমনামি বাবার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বয়ান ঘেঁটে চমকে দেওয়া উত্তর পেয়েছেন দুই লেখক ও গবেষক সৈকত নিয়োগী ও সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত হচ্ছে সেই ধারাবিবরণী— ‘মহামানবের চরণতলে’।
আমাদের গাড়িটা একটা সরু গলি পথের মুখোমুখি থামল। সেখান থেকে দূরে মন্দিরটা দেখেই চিনতে পেরেছিলাম। গাড়ি থেকে নেমে যেন রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ালাম আমরা। ১৯৮৬ সালে নর্দান ইন্ডিয়া পত্রিকার ‘দ্য ম্যান অফ মিস্ট্রি’ ধারাবাহিক প্রবন্ধে এই মন্দিরের ছবি দেখেছি। জয়শ্রী পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সুরজিৎ দাশগুপ্তের মুখে শুনেছি, সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের এই মন্দিরে থাকার দিনগুলি সম্পর্কে। এখানেই পড়ে গিয়ে পায়ে প্রচণ্ড চোট পেয়েছিলেন। একটা বিশেষ ধরনের চেয়ার বানিয়ে দিয়েছিলেন মহাত্মাশরণ নামক একজন কাঠমিস্ত্রি। তারপরেও অবশ্য বেশ কয়েকবার সন্ন্যাসী বিদেশ যাত্রা করেছেন। ইতিহাস এখানে থমকে ছিল স্মৃতির আয়নায়।
আরও পড়ুন:
আমরা দ্রুত ছুটে গেলাম মন্দিরের সামনে। কিন্তু একি অবস্থা! এখানে পিছনে একটা মাঠ ছিল বলে শুনেছি। মাঠের পাশে একটা ছোট মন্দির সংলগ্ন ঘরে পর্দার আড়ালে তিনি থাকতেন। রাতের অন্ধকারে যখন মন্দিরের ভক্তসমাগম শেষ হত, পর্দার আড়াল থেকে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসতেন। বসতেন এই মন্দিরের চাতালে। আজ জায়গাটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। গাছ নেই মাঠ নেই, চারপাশে কংক্রিটের জঙ্গল। আশপাশের বাড়ি থেকে উকি ঝুঁকি মারছে সবাই। আমাদের আবেগ উচ্ছ্বাস দেখে বিষয়টা বুঝতে পেরেছে। “হা, বাবু এহি পে রহতে থে” ষাটোর্ধ্ব ভদ্রমহিলা জানালেন। আশেপাশে কোন স্মারক নেই, কোন সংগঠন লিখেও রাখেনি এই কথা। লিখে রাখার তো কথা নয়। তিনি যে অজ্ঞাত জীবন চেয়েছিলেন, সমগ্র পৃথিবী সেখানে ব্রাত্য। আমরা ছুটে গিয়ে মন্দিরের উপরে লেখা ফলকটার দিকে চাইলাম। “জয় শ্রী রাধে কৃষ্ণা! রাধা কৃষ্ণ মন্দির ১৮/১/৫ তুলসি নগর, ছোটি দেও কালী রোড, শ্রীধাম অযোধ্যাজি।”

ব্যবস্থাপক পণ্ডিত নন্দকিশোর মিশ্রা। এই সম্পূর্ণ অঞ্চলটা দীর্ঘদিন ধরে ছিল কংগ্রেসের গড়। হয়তো সেই কারণেই এখানে সার্ভিলেন্স কম হবে বলেই সুভাষবাবু এখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। গান্ধী পরিবার সবই জানত। জানত দেশের নেতা-মন্ত্রীরা। আজও সব জানে। কিন্তু জানতে দেয়া হয় না দেশের মানুষকে। প্রশ্ন কোরো না! প্রশ্ন করলে হয়তো এই কমনওয়েলথ ব্যবস্থা পুরো ভেঙে পড়বে। হয়তো প্রশ্ন চিহ্ন উঠে যাবে আমরা কি সত্যিই পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছি? তাই প্রশ্ন করো না!
বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর সন্ন্যাসীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পেয়েছিলেন। যেদিন আসার সময়, একজন আইবি অফিসার এসে তাঁর পথ রোধ করেন।
আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমরা ছুটে গেলাম মন্দিরের দরজার সামনে। কিন্তু একী, দরজা বন্ধ! আমাদের হাতে সময় নেই যে পরের দিন আসব। সন্ধে নামলে যে দালানে গিয়ে বসতেন সুভাষবাবু, তার ছবি কি তোলা যাবে না? একটু বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। তখনই দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে চোখ যেতেই দেখতে পেলাম সেই দালান। না বিগ্রহ দেখার কোন অবকাশ নেই। কিন্তু আমাদের ঈশ্বর যেখানে অধিষ্ঠিত ছিলেন সেই চাতালটা বেশ দেখা যাচ্ছে। দরজার গরাদ দিয়ে একটু কায়দা করে মোবাইলটা ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিব্যি পেয়ে গেলাম ছবিটা।
“হা হামলোগ বহি পে আকে বৈটতে থে!” রাজকুমারজি কখন আমাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন খেয়াল করিনি। দুই চোখ স্থির হয়ে রয়েছে মন্দিরের ভেতরের চাতালটার দিকে। তিনি বলে চললেন, এত বছর হয়ে গেল জায়গাগুলো তো পালটাবেই। দুঃখ এটাই কেউ জানতে পারল না। এখন আমার মনে হয়, ভগবানজি যেমন চাইতেন, তেমনই তো হয়েছে। তিনি যতদিন না চাইবেন, সত্য সামনে আসবে না।

আই এম বোস চ্যানেলের কর্ণধার কুণালদা ভিডিও করতে করতে এসে বলল, এই জায়গাগুলোর এমন অবস্থা অথচ নেতাজি ভবনে কত জৌলুস! বাংলা বলতে পারেন না, রাজকুমারজি। কিন্তু এতদিন বাঙালিদের সংস্রব লাভের পর, বাংলা বুঝতে পারেন। তিনি বললেন, কলকাতা থেকে কেউ আসলে ভগবানজি বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করতেন। ক্ষোভ নয়, প্রচন্ড অভিমান ছিল। প্রচন্ড কষ্ট পেলে, স্তব্ধ হয়ে যেতেন। কেউ তাঁর সন্ধানে এলে, মাতাজি সরস্বতী দেবী এই মন্দিরের বাইরের অংশে এসে তাঁর পরিচয় এবং উদ্দেশ্য জানতে চাইতেন। একটা চিরকুটে লিখে দিতে হত ক্রিডেনশিয়াল। তা নিয়ে ভিতরে গিয়ে পর্দার ওপারে থাকা অদৃশ্য মহামানবের অনুমতি নিতে যেতেন। অনুমতি পেলে তবেই দেখা হত। একসময় এখানে আসার চেষ্টা করেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক বিষম্ভর নাথ আরোরা। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অনুমতিও পেয়েছিলেন। যেদিন আসার সময়, একজন আইবি অফিসার এসে তাঁর পথ রোধ করেন। এরপর আর কখনও সুযোগ হয়ে ওঠেনি।
নীল রংয়ের ভেঙেচুরে পড়া বাড়ির পিছনে অংশে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সবকিছু এতটাই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষার মতো আর কোনও অংশই পড়ে নেই। খসে পড়া পলেস্তারা, আর এক বুক আবেগ নিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম পাণ্ডা রামকিশোর মিশ্রার বাড়ির দিকে। আমাদের পথপ্রদর্শক জ্বরে আক্রান্ত কিন্তু উদ্যোমের সঙ্গে সে কালের তরুণ রাজকুমার।

পান্ডা রামকিশোরের পিতা ছিলেন কংগ্রেসের এক বরেণ্য নেতা। প্রহ্লাদ মিশ্রা। ১৯২৮ সালে যখন কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশন বসে, উত্তর প্রদেশ থেকে প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন। সেই বছরই বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেসের ভেতরে দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে সুভাষচন্দ্রকে সেই অধিবেশনে কোন বিশেষ পদ দেয়া হয়নি। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবকদের তদারকির দায়ভার তুলে নিলেন। গড়ে উঠল বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স। রাজনীতির সেই দুর্দিনেই সুভাষচন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঠাকুর প্রহ্লাদ মিশ্রা। সেই যোগসূত্র অটুট ছিল ষাটের দশকেও। ১৯৬৭ সালের ৮ই মে প্রহ্লাদ মিশ্রের মৃত্যু হয়। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত নৈমিষারণ্যের চক্রতীর্থের পাশে অজ্ঞাতবাসের পর সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র এসেছিলেন অযোধ্যায় লখনৌ হাথা মন্দিরে। বলাবাহুল্য, প্রধান উদ্যোগী ছিলেন প্রহ্লাদ মিশ্রা।
১৯৩৯ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের পরে এবং ফরওয়ার্ড ব্লক গঠনের পরে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুভাষচন্দ্রের জনসভায় যোগী আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রহ্লাদ মিশ্রা। প্রহ্লাদবাবুর মৃত্যুর তারিখ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়েই সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের চন্দননগরে আসার উপাখ্যান কথিত হয়। প্রহ্লাদবাবুর পরিবারের কাছে কথা বলে জানতে পেরেছি, উর্দু বাজারে তাঁদের ভাড়া বাড়িতে আসা এবং লখনৌহাথা মন্দির ত্যাগের মাঝে বেশ কিছুটা সময় সন্ন্যাসীর অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।

রাজকুমারজির সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ছোটি দেও কালী রোড পেরিয়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এলাম। এবার রাস্তাটা মাঝখানে একটা বাড়িকে রেখে দুই ধার দিয়ে দু’দিকে চলে গিয়েছে। এই বাড়িটা একটা সময় ছিল পোস্ট অফিস। বাড়ির উপরে বড় বড় হরফে লেখা, পন্ডা রামকিশোর মিশ্রার নাম। কংগ্রেসের বরেণ্য নেতা প্রহ্লাদ মিশ্রার ছেলে রামকিশোর পরবর্তীকালে হয়ে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের প্রতি অনুরাগ এবং বিশ্বস্ততায় কোন ছেদ পড়েনি। ষাটের দশক এবং পরবর্তী সময়েও অটুট ছিল সেই বন্ধন। শ্রদ্ধা আবেগ এবং ভালোবাসায় মোড়া! পোস্ট অফিসের নিচের ঘরটায় তখন অফিস ছিল না। প্রাথমিক পর্বে কিছুদিন সুভাষ চন্দ্রকে এখানে রাখা হয়েছিল। ঘরে প্রবেশ করেই আমরা দেখলাম পণ্ডা রামকিশোর মিশ্রার এক ছবি, পিতা প্রহ্লাদ মিশ্রার ছবির সঙ্গে আরেকটা ছবি কংগ্রেস সেশনের, যেখানে মধ্যমণি হয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং তার ঠিক পাশেই রাম কিশোর মিশ্রা। এছাড়া রয়েছেন তৎকালীন মেয়র এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কংগ্রেসের ঘরে এমন নিরাপদ আশ্রয়েই ছিলেন সুভাষ বাবু।

রামকিশোরজির তিন ছেলে। এলাকায় ধর্মীয় প্রভাব পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ প্রকট। প্রধানত তারা কৃষ্ণের উপাসক। পন্ডা রামকিশোরের সম্মোধনে ভগবানজির দেওয়া ‘নন্দ বাবা’ নাম কতটা যথাযথ আমরা উপলব্ধি করলাম। বড় ছেলের নাম নন্দকিশোর। ধর্মীয় নাম প্যারা মহারাজ। মেজো ছেলে কৃষ্ণ, ধর্ম নাম বরফি মহারাজ। ছোট ছেলে অরুণ, ধর্ম নাম লাড্ডু মহারাজ। প্রথমেই আমাদের আতিথেয়তা জানালেন রামকিশোরের ছোট ছেলে লাড্ডু মহারাজ। ভগবানজির ক্ষণস্থায়ী ঘরটা ঘুরে দেখালেন। তিনি জানালেন, রামকিশোরের গল্প। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় স্তরে সন্ন্যাসীকে না-রাখার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অযোধ্যার আনাচে-কানাচে খবর রটে গিয়েছিল, এই বাড়িতে সুভাষবাবু রয়েছেন। কংগ্রেস হাইকমাণ্ডকে রামকিশোর স্পষ্ট জানায়, সন্ন্যাসী ওখানেই থাকবে। থানা, পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেই আসবে তাকে রামকিশোরের দেহের উপর দিয়ে যেতে হবে। এই হুমকিতে বেশ নাড়া পরে বিরোধী মহলে। কংগ্রেসের উচ্চ স্তর থেকেও শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের অবসান ঘটানো হয়, সন্ন্যাসী যেমন রয়েছেন তেমনি থাকতে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। সেই ঘরে সুভাষচন্দ্রের কোনও ছবি না দেখে আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনারা এখানে সুভাষবাবুর একটা ছবি রাখেননি কেন? অরুণ মিশ্রা বললেন, “তিনি এখানে অজ্ঞাতবাসী ছিলেন। চাননি কখনও, তাঁর নাম প্রচার করতে। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েই আমরাও সেই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করতে চাই না। আপনারা লিখুন, তার মধ্যে দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন।”
রাজকুমারজির সঙ্গে বহুদিন পরে সাক্ষাতে সম্ভাষণ সেরে নিয়েছিলেন আগেই। অরুণবাবু এবার আমাদের নিয়ে চললেন তাঁর পিতার ঘরের দিকে। বহু পুরনো দিনের কেল্লার মত বাড়ি। উচু উঁচু সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গরাদ দেওয়া লোহার গেট ঠেলে ছাদের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ পথ। আলাপ হল রামকিশোরের বড় ছেলে নন্দ মিশ্রার সঙ্গে। ছোটবেলায় তিনি সুভাষবাবুকে দেখেছেন। অনেক স্মৃতি রয়েছে তাঁর। প্রধানত বাবার কাছে শুনেছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। “আপনারা মুখার্জি কমিশনে গিয়েছিলেন? পরবর্তীকালে সহায় কমিশনে?”

নন্দ বাবুর যাওয়ার কথা শুনে আমরা স্তম্ভিত। “আমাদের কিছু প্রমাণ করার নেই। আমরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আদেশ পালন করে যাব। আদেশ ছিল, কোথাও যেন কিছু না বলি! কিছু রহস্য রহস্য থাকাই ভালো।”
যুগ যুগ ধরে বৈদিক সমকাল থেকে যে সমাজতন্ত্রের ধারা ভারতীয় সমাজে বহমান, নেতা সুভাষ চন্দ্রের কণ্ঠে সেই ধারার অনুরণন শোনা যেত।
আমরা অনেক পীড়াপিড়ি করায়, শেষ পর্যন্ত কিছু কথা আমাদের বললেন। “সন্ন্যাসী সুভাষ চন্দ্রের কি মৃত্যু হয়েছিল?” হেঁয়ালি পূর্ণ উত্তর, ভগবানের কখনও মৃত্যু হয় না।
বাড়িটা সংলগ্ন গ্যারেজের মত একটা ঘর যেখানে মহাত্মাশরণ থাকতেন। সর্বত্রই দেখা যায়, শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্রের একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ১৯৩৩ সালে সাম্যবাদী সংঘ নামে তিনি যে পলিটিক্যাল ডকট্রিন লিখেছিলেন, সেখানে সমাজতান্ত্রিক ভারতবর্ষের নিজস্ব এক চিন্তা তিনি ব্যক্ত করেছিলেন। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক জীবন এবং অজ্ঞাতবাসের সময়ও সুভাষচন্দ্রের কথায় সেই সমাজতন্ত্রের চিত্র ধরা পড়তো। এই সমাজতন্ত্র কোনও রাজনৈতিক মতের ভিত্তিতে স্থাপিত নয়। যুগ যুগ ধরে বৈদিক সমকাল থেকে যে সমাজতন্ত্রের ধারা ভারতীয় সমাজে বহমান, নেতা সুভাষ চন্দ্রের কণ্ঠে সেই ধারার অনুরণন শোনা যেত। অজ্ঞাতবাসের সময়ও সেই কণ্ঠস্বর ছিল সাম্যবাদী সমাজতন্ত্র নির্মাণে। মহাত্যাশরণ, রাজকুমার শুক্লা, দুর্গাপ্রসাদ পাণ্ডের মতো মানুষদের সঙ্গে তিনি যতটা সচ্ছল বোধ করতেন, ততটা হয়তো সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজা হয়ে ওঠার অভীপ্সা নিয়ে থাকা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নয়। তাই তিনি রয়ে যান অন্তরালে।
সর্বশেষ খবর
-
‘সাপের মতো পালাবে’, অতি বামেদের এবার কার্বলিক অ্যাসিডের দাওয়াই অর্জুনের!
-
জুতোর মালা-কালো পতাকা দিয়ে হুমায়ুনকে কবর! মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনার প্রতিবাদে কর্মসূচি বিজেপি
-
এআই নয়, গুগলের পুরনো সার্চিং অভিজ্ঞতাই ভালো! কেন বলছেন বহু ইউজার?
-
জ্ঞানেশ ইস্যুতে বিরোধী ঐক্যে ফাটল! ‘ইন্ডি’ বৈঠক এড়াচ্ছেন অখিলেশ, কংগ্রেসে ‘আপত্তি’ ডিএমকের
-
মিগুয়েলের পেনাল্টি মিস, ছন্নছাড়া ফুটবলে শিল্ডে নর্থইস্টের কাছে আটকে গেল বিদেশি বোঝাই মোহনবাগান