সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া বা এসআইআর শুরু হয়েছে রাজ্যে। এনিয়ে আমজনতার হাজার আশঙ্কা, উদ্বেগের মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যেই ব্লক স্তরের সরকারি আধিকারিক বা বিএলও-দের এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষ। আজ, মঙ্গলবার থেকে তাঁরা বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শুরু করবেন।এদিকে, এসআইআরে যাতে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে, সেই দাবি বরাবর করেছে তৃণমূল। এই আবহে রাজ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর আতঙ্কের অভিযোগ ওঠায় তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অযথা মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করার অভিযোগে আজই পথে প্রতিবাদে নামছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই কাজ চলবে আগামী একমাস অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই একমাসের মধ্যে ওই ফর্মপূরণের কাজ হবে। তার ভিত্তিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। আর তারপর রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাবে।
গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএলও-দের প্রশিক্ষণ চলেছে। প্রশিক্ষণ পর্বেই তাঁরা দাবি তুলেছেন, ফর্ম বিলি ও সমীক্ষার কাজে তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিলে কাজ করতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সুরক্ষা-সহ তিনদফা দাবি তাঁরা জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। যদিও সেসব দাবি খারিজ করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তা তথা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখার দায়িত্ব পুরোপুরি রাজ্যের। ফলে জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে, এমন চিন্তা নিয়েই মঙ্গলবার বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলির কাজ শুরু করছেন বিএলও-রা। ২০০২ সালে এসআইআরের নিরিখে ভোটার তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে চলবে এর পরবর্তী ধাপ।
ফর্ম বিলির পর সেই ফর্ম ভোটারদের বাড়ি থেকে সংগ্রহের দায়িত্বও বিএলও-দের। এই কাজে তাঁদের সাহায্য করবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিএলএ অর্থাৎ বুথ স্তরের এজেন্টরা। তাঁদেরও আলাদা করে দলের তরফে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এ বিষয়ে যথেষ্ট সাবধানী। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিএলএ-দের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করে সব বুঝিয়েছেন, দিয়েছেন একাধিক পরামর্শও। এসআইআরের কাজ স্বচ্ছভাবে করতে বিএলও-দের এক মুহূর্তও যেন চোখের আড়াল না করা হয়, বিএলএ-দের সেই পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক।
এছাড়া তৃণমূলের তরফে পঞ্চায়েত, পুরএলাকাগুলিতে মোট ৬২০০ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হচ্ছে আজ থেকেই। এই কেন্দ্রগুলিতে এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করতে আমজনতাকে সাহায্য করবেন দলীয় কর্মীরা। উদ্দেশ্য একটাই, একচুল ভুলেও যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়ে। সবমিলিয়ে, বহু দোলাচল নিয়েই আজ থেকে রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
ভেনেজুয়েলা বিপর্যয়ের মধ্যেই জোরাল ভূমিকম্পে কাঁপল দিল্লি, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি
-
থ্রেট কালচারে ভিত হেডমাস্টার! স্কুলে গুদাম তৃণমূল ‘দাদা’র, পালাবদলের পর উদ্ধার করল গ্রামবাসীরা
-
‘দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি’, জলভরা-মনোহরা-নৌকার জিআই প্রাপ্তিতে কী প্রতিক্রিয়া নির্মাতাদের?
-
সাগরে ‘সালামি স্লাইসিং’ চিনের! স্থলে চৈনিক চালের মোকাবিলা করেছে ভারত, জলে কি পারবে আমেরিকা?
-
মালদহের প্রাথমিক স্কুলে ছাত্রীদের যৌন নিগ্রহ! গ্রেপ্তার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাকলিন