মহারাষ্ট্রের ভোটে বিজেপি প্রার্থী বীরভূমের ভোটার! ভিনরাজ্যের ভোটারের নাম গোপনে দুবরাজপুরের ভোটার তালিকায় তোলার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্রের নাসিকের স্থায়ী বাসিন্দা উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গলে। চলতি বছরে জেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী বলে অভিযোগ। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ২০২৫ সালের দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকায় তার নাম নথিভুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দুবরাজপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৪ নম্বর বুথের ভোটার উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গুলে। যদিও নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁকেও নোটিস দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সেই ডাক পেয়ে তিনি হাজিরা দেন। শুনানির পরে কী হবে সে নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। তবে বহিরাগতদের এ রাজ্যে ভোটার হিসাবে ঢুকিয়ে দেওয়ার তৃণমূলের অভিযোগ হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, বিজেপি ও কমিশন দোসর। গণতান্ত্রিকভাবে জিততে পারবে না বুঝেই জালিয়াতি। বিজেপি ও কমিশনের আঁতাত না থাকলে এ-জিনিস ঘটতেই পারে না। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “যিনি নাসিকের বিজেপির ভোটের প্রার্থী। তিনি আবার বাংলার ভোটার। আমরা এটাই তো বারবার বলেছি। এটাই কারচুপি। এই ভাবেই লুকিয়ে চুরিয়ে ওরা নাম ঢোকাচ্ছে। চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাচ্ছে এবার।”
উজ্জ্বলার স্বামী আপ্পা শংকর বুরুঙ্গুলে পেশায় শহরের সোনা রুপোর পালিশ কারিগর। দুবরাজপুরের বাজারে তাঁর একটি দোকান আছে। তিনি জানান, “গত দশ বছর ধরে আমরা এখানে থাকি। তবে বাবা-মা থাকেন নাসিকে। বড় ছেলে বাবা-মায়ের কাছে থাকে। ছোট ছেলে থাকে দুবরাজপুরে। নাসিকে বিজেপি-শিবসেনার প্রার্থী হিসাবে জেলা পরিষদের আসনে উজ্জ্বলা প্রার্থী হয়েছে।”
কিন্তু যে বিজেপি বহিরাগত অনুপ্রবেশ নিয়ে এত সরব, সেখানে এই দ্বিচারিতা কেন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুন্ডুর নজরে প্রথম এমন কাণ্ড নজরে আসে। তিনিও দলের নজরে আনেন। দুবরাজপুর তৃণমূল শহর সভাপতি স্বরুপ আচার্য্য বলেন, “এটা নিছক একটা ঘটনা নয়। এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ করে আসছেন। বিজেপি বাইরের ভোটারদের রাজ্যে আমদানি করে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার মতলব করছে।” ১৯৪ পার্টের বিএলও লক্ষণ রেওয়ানী বলেন, “কমিশনের নির্দেশ অনুসারে আমরা তাঁদের নিজের হাতে ভর্তি ফর্ম আপলোড করে দিয়েছি। শুনানিতে তাঁদের আনম্যাপ হওয়ায় ফের ডাক পড়েছে। কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে জানা নেই।” তবে বিজেপির বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, “কেন দু’জায়গায় নাম তা কমিশন বলতে পারবে। তবে এটা বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা চাইব স্বচ্ছ বৈধ ভোটারদের তালিকা।” ডিএমের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, বলেছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে