তৎকালীন রাজ্যপালের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ানোর ‘শাস্তি’। চার বছর পরও সেই ‘শাস্তির খাঁড়া’ উঠল না মাথার উপর থেকে। তাই এবারও রেড রোডের প্যারেডে অংশ নিতে পারবে না কলকাতা পুলিশের মাউন্টেড পুলিশের ঘোড়ারা। তবে আসল ঘোড়াদের বদলে সেনাদের যান্ত্রিক ‘রোবোটিক মিউল’ দেখেই আশ মেটাতে পারেন দর্শকরা। অবশ্য প্যারেডে অংশ না নিলেও সাধারণতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) সকাল থেকে ময়দানে ডিউটিতে থাকবে মাউন্টেড পুলিশের ঘোড়াবাহিনী। কুচকাওয়াজ দেখতে আসা দর্শকদের কোনও সমস্যা বা আইন ও শৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখবে পুলিশের ঘোড়াবাহিনী।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি। সেদিনও ইস্টার্ন কম্যান্ডের সেনাদের প্যারেড দিয়ে শুরু হয় রেড রোডের কুচকাওয়াজ। ঘোড়া নিয়ে রেড রোডে কুচকাওয়াজ করে মাউন্টেড পুলিশ। ঘোড়ার উপর বসে স্যালুট দেন কলকাতার মাউন্টেড পুলিশের আধিকারিক। কুড়িটি ঘোড়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে যায়। কিন্তু দলছুট হয়ে গিয়ে গোলমাল সৃষ্টি করে পুলিশের ঘোড়া ‘আইকনিক’। তখন তার বয়স ছিল ১১ বছর।
আরও পড়ুন:
তার আগে বার চারেক সে সাধারণতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু সেদিনই হঠাৎ দলছুট হয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ায়। যদিও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে তার সওয়ার কুচকাওয়াজের লাইনে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। লালবাজারের কর্তারা তদন্ত করে জানতে পারেন যে, রেড রোডে কুচকাওয়াজের দৃশ্য দেখানো হয় রাস্তার পাশেই থাকা জায়ান্ট স্ক্রিনে। সেদিন পুলিশের ঘোড়াদের ছবিই দেখানো হচ্ছিল জায়ান্ট স্ক্রিনে। নিজেদের চলমান ছবি দেখেই ‘আইকনিক’ মনে করেছিল, অন্য একদল ঘোড়া সেখানেই এসে জুটেছে। ওই ঘোড়াগুলিকে ‘ভাল করে দেখতে’ একেবারে নব্বই ডিগ্রি মোচড় খেয়ে মূল মঞ্চের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে পড়ে। ততক্ষণে অন্য ঘোড়াগুলি এগিয়ে গিয়েছে।
যদিও কয়েক সেকেন্ড এই ছন্দপতনের পরই ‘আইকন’কে কুচকাওয়াজে ফেরানো হয়। কিন্তু তার পর থেকেই সাধারণতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে কলকাতা পুলিশের ঘোড়াবাহিনী বা মাউন্টেড পুলিশকে কুচকাওয়াজে রাখা হয় না। লালবাজার সূত্রের খবর, এই বছরের কুচকাওয়াজেও অংশ নেবে না মাউন্টেড পুলিশ। তবে সূত্রের খবর, কুচকাওয়াজে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টরা এগিয়ে আসবেন রেড রোড ধরে।
এ ছাড়াও সেনাবাহিনীর ‘রোবোটিক মিউল’ রেড রোডের প্যারেডে অংশ নিতে পারে। যান্ত্রিক এই ‘মালবাহী খচ্চর’রা সেনাদের রিমোট কন্ট্রোলের নির্দেশ মেনে এগিয়ে যাবে রেড রোড ধরে। যে কোনও পাহাড়ি রাস্তা থেকে শুরু করে সিঁড়ি বেয়ে মাল বহন করতে সক্ষম এই রোবটিক মিউলরা। গত ডিসেম্বরে শহরে ‘মিলিটারি ট্যাটু’তেও দেখা গিয়েছিল ওই রোবটদের।
লালবাজার জানিয়েছে, সোমবার রেড রোডে প্যারেড দেখতে আসবেন কয়েক হাজার মানুষ। তাঁদের ও রেড রোডের মঞ্চে থাকা অভ্যাগতদের নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রবিবার রাত থেকেই আঁটসাঁট নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হবে রেড রোড। প্যারেডের আগে মূল মঞ্চ-সহ পুরো রেড রোড পরীক্ষা করবে পুলিশ কুকুর। এ ছাড়াও মূল অনুষ্ঠান মঞ্চের আশপাশে কম্যান্ডো ও বিশেষ বাহিনী থাকছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আমজনতার পকেটে ধাক্কা! ক্যানসারের ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে ‘হ্যাঁ’ মোদি সরকারের
-
‘হিংস্র আলিয়াকেই পছন্দ’, দীপিকা চক্ষুশূল হলেও রণবীরপত্নীকে তৈলমর্দন ‘অ্যানিম্যাল’ সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার!
-
‘ট্রাম্প না থাকলে সম্ভবই হত না’, আমেরিকায় বিশ্বকাপ বিতর্ক নিয়ে আজব সাফাই ফিফা প্রেসিডেন্টের
-
রাস্তায় সরকারি বাস বাড়ানোই লক্ষ্য, দায়িত্ব নিয়ে সুভাষ চক্রবর্তীকে মনে করলেন অর্জুন
-
এখনই সরাসরি যোগ নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে সর্বস্তরে জোট চান মমতা