সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: প্রথমে যা ভাবা হয়েছিল, তদন্তে মিলল তার চেয়ে অনেক বেশি। পাওয়া গেল মহিলার অন্তর্বাস। নাইটি। কন্ডোম। মদের বোতল। কোনওটা খালি। কোনওটা আধা ভরা। সঙ্গে তোয়ালে এবং একটি মোবাইল। এই সেই মোবাইল যার খোঁজে হন্যে হয়ে উঠেছিল পুলিশ।
দুর্গাপুরে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার দম্পতির হাতে এক ‘ব্যাঙ্ক মিত্র’ পদাধিকারি মহিলার খুনের অভিযোগের তদন্তে এই মোবাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বলছেন পুলিশ কর্তারা। উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি ফরেনসিকে পাঠানো হবে। তার সঙ্গেই যাবে অন্তর্বাস-সহ অন্যান্য জিনিসও। শুক্রবার পুলিশি তল্লাশিতে এই সব জিনিস মিলেছে দুর্গাপুরের বাসিন্দা ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমারের রানিগঞ্জের ওই ভাড়া বাড়ি থেকে। এই বাড়িতেই যে বাঁকুড়ার মেজিয়ার শিল্পা আগরওয়ালকে নিয়ে ফুর্তি চলত তার। স্ত্রীর চোখে ধুলো দিয়ে কাজের অজুহাতে সহকর্মী শিল্পাকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে পড়ত রাজীব। রানিগঞ্জের বাড়িতে শিল্পাকে নিয়ে অনেকবারই গিয়েছিল সে। সেখানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলতো সুরা ও নারী সঙ্গলাভ, উত্তাপ আদানপ্রদান।
[ট্রলিব্যাগে যুবতীর দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ]
প্রথমদিকে রাজীবের স্ত্রী মনীষা বিষয়টি না জানলেও পরে স্বামীর এই কীর্তি জানতে পারে সে। সেই থেকেই শিল্পার সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে সংসারে টানাপোড়েনের শুরু। বুধবার শিল্পা আগরওয়াল হত্যা কাণ্ডে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমার ও তার স্ত্রী মনীষা কুমারী গ্রেপ্তার হয়। এরপর পুলিশি জেরায় রাজীব ও মনীষার দেওয়া বয়ানে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতেই ধৃত রাজীব ও মনীষাকে নিয়ে রানিগঞ্জের সেই ভাড়া বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখান থেকেই পুলিশ উদ্ধার হওয়া মৃতার মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে শিল্পা ও রাজীবের মোচ্ছবের আরও কতগুলি আস্তানার খবর পেয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনই তা জানাতে চাইছেন না তদন্তকারী অফিসাররা। গতকাল দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গির বহুতল আবাসনে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীবের ট্রলিতে শিল্পার নগ্ন পচা-গলা দেহ মেলার পর থেকে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, রাজীব ও তার স্ত্রী মনীষা ট্রলি ব্যাগে তরুণীর দেহ পুরে তা লোপাট করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে শেষমেশ এই ঘটনার কথা তারা পুলিশকে জানায়।
রাজীবের কুকীর্তির সবটাই জানত স্ত্রী মনীষা। ধৃত স্বামী-স্ত্রীকে জেরায় পুলিশ আধিকারিকদের কাছে এমনটাই স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এই ঘটনার রেশ মেলায়নি। শিল্পশহরের বাতাস ভারী। চায়ের দোকান থেকে ঝাঁ চকচকে শপিং মল। সর্বত্রই এখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের ট্রলি ব্যাগে তরুণীর দেহ নিয়ে চলছে আলোচনা। রয়েছে চাপা গুঞ্জন। পাশাপাশি মেজিয়াতেও তরুণীর এমন মর্মান্তিক পরিণতির প্রভাব পড়েছে। কারণ মেজিয়াতেই তো শিল্পার বাড়ি। ছ’মাস আগে মেজিয়ারই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় রাজীব কুমার ম্যানেজারের পদে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এদিন মেজিয়ায় শিল্পা খুনের প্রতিবাদে এলাকার ব্যবসায়ীরা ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডাকেন। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী শিল্পার খুনে মূল অভিযুক্ত রাজীব কুমার ও তার স্ত্রী মনীষা কুমারীর চরম শাস্তির দাবি তুলেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন। গোটা এলাকাই থমথমে রয়েছে। মেজিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সোমনাথ চন্দ বলেন, “এমন মিশুকে মেয়েটা এভাবে চলে যাবে তা আমরা ভাবতেই পারছি না। আমরা অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই।”
[অবরোধকারীদের উপর দিয়ে ট্রেন চালানোর অভিযোগ, তুমুল উত্তেজনা যাদবপুরে]
সর্বশেষ খবর
-
কালি লাগিয়ে চোটের নাটক! পাকিস্তানের নাক কাটলেন ইমাম, মাঝ সিরিজে দেশে ফেরত কোচ-প্লেয়াররা
-
কর্মী-সমর্থকদের ঘেরাটোপে থানায় হাজিরা অভিষেকের, ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডের তলবে সাড়া
-
নেপালের বন্যায় ভেসে গিয়েছে বাসস্থান, নিখোঁজ প্রভু! ধ্বংসস্তূপে ঠায় অপেক্ষা কুকুরের
-
স্কুলেই ‘তাল উৎসব’, মিড ডে মিলে পাতে পড়ল তালের বড়া, ফুলুরি, লুচি! চেটেপুটে খেল পড়ুয়ারা
-
‘ও একটা আবর্জনা, নদর্মার মতো মানসিকতা,’ সানা মকবুলের নিশানায় মাহি ভিজ! জোর জল্পনা