Medinipur

জঙ্গলে হাতির মুখোমুখি বৃদ্ধা, প্রাণভয়ে ছুড়লেন ‘সুর-অস্ত্র’, তাতেই ঘায়েল রামলাল!

মঙ্গলবার মেদিনীপুরের শিশিরবাঁধ গ্রামে এহেন দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত সকলে।

সম্যক খান
সম্যক খান

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১৮:৪৭

options
link
জঙ্গলে হাতির মুখোমুখি বৃদ্ধা, প্রাণভয়ে ছুড়লেন ‘সুর-অস্ত্র’, তাতেই ঘায়েল রামলাল!
২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। মেদিনপুরের শিশিরবাঁধের জঙ্গলে আচমকা উদয় রামলালের, নিজস্ব ছবি

‘বাবু ফরেস্টার ফরেস্টার, উপায় করো হাতি খেদাব…’। শাল, মহুলের জঙ্গলঘেরা এবড়োখেবড়ো লালমাটির পথে দুলে দুলে এই গান গেয়ে চলেছেন এক বৃদ্ধা। এ দৃশ্য যতটা সুন্দর, আরেকটু দূরে তাকালে যা দেখা যাচ্ছে, তা দেখে শিউরে উঠতে হয়। কয়েকহাত দূরে দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহলের আতঙ্ক – রামলাল (Ramlal)! হ্যাঁ, সেই হাতির কথাই বলা হচ্ছে। জঙ্গলমহলের স্থানীয় হাতি হলেও রামলালের খামখেয়ালি মেজাজের জন্য এখনও বাসিন্দাদের কাছে ত্রাস। আর সেই হাতিকেই গান শুনিয়ে শান্ত করলেন এক বৃদ্ধা। গানের সুরে রাগী রামলালের আচরণ দেখে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। বোঝাই যাচ্ছে, সে যতই ভয়াবহ হোক, সুররসিকও বটে!

Advertisement

স্থান বনবিভাগের মেদিনীপুর (Medinipur) ডিভিশনের নয়াবসত রেঞ্জের অন্তর্গত শিশিরবাঁধ গ্রাম। সময়টা মঙ্গলবার দুপুর। হাঁসফাঁস রোদের মাঝে শিশিরবাঁধের ঝোপঝাড় ঘেরা মেঠো পথটা হঠাৎই নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাঁশবাগানের ছায়ার আড়াল থেকে ডালপালা ভেঙে এগিয়ে আসছিল সে। জঙ্গলমহলের সকলের ‘প্রিয় অতিথি’ এবং একইসঙ্গে আতঙ্কের চরিত্র রামলাল। এই বিশালাকার বুনো হাতি তথা অতিথির হঠাৎ লোকালয়ে হানা দেওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু আজকের দিনটা একটু অন্যরকম। জঙ্গলে রামলালকে দেখে চারপাশে ভিড় করেন উৎসুক গ্রামবাসীরা। কেউ কেউ মোবাইলে সেই দৃশ‌্য ক‌্যামেরাবন্দি করছেন, তো কেউ কেউ আবার দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে আছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Woman Sings to Calm Ramlal in Medinipur
শিশিরবাঁধ গ্রামের জঙ্গলে রামলালকে দেখে গান শুরু করেন বৃদ্ধা, শুনেই চুপ রাগী হাতি, নিজস্ব ছবি

ঠিক সেই সময়েই ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে এলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। নাম পুষ্পলতা হেমব্রম। বাড়ি শিশিরবাঁধ গ্রামেই। পরনে মলিন শাড়ি, সাদা চুল। কোনও লাঠি বা মশাল নয়, তার হাতি তাড়ানোর অস্ত্র কেবল এক মুঠো সুর আর বুকভরা আকুতি। রামলালের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হাত নেড়ে নেড়ে এক অদ্ভুত সুরে গেয়ে উঠলেন, ‘বাবু ফরেস্টার ফরেস্টার, উপায় করো হাতি খেদাব, হাতির বাচ্চা যতে বারে বারে, অন্য হচ্ছে চাঁদ…’।

Advertisement

গ্রামের মানুষ যখন ভয়ে তটস্থ। কার ধানখেত নষ্ট হবে বা কার ঘরের চাল ভাঙবে, সেই আশঙ্কায় বুক দুরুদুরু। ঠিক তখনই ঠাকুমার সেই করুণ গলায় যেন কোনও আদিম যুগের বারণ বা প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বোঝাপড়ার এক প্রাচীন সুর বেজে উঠল। তিনি যেন ‘ফরেস্টারবাবু’দের অর্থাৎ বনকর্তাদের আকুল হয়ে ডাকছেন, ‘বনের রাজা’কে সম্মান জানিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে জঙ্গলে ফিরিয়ে দিতে। রামলালও থমকে দাঁড়িয়ে যেন একমনে শুনছিল সেই গান। বন্যপ্রাণ আর মানুষের এই চিরন্তন সংঘাতে লাঠিপেটা বা আতঙ্কের মাঝখানেও যে এমন এক সুরের সেতু তৈরি হতে পারে, শিশিরবাঁধের এই দৃশ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.