রূপনারায়ণের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচলেন বধূ

অসীম সাহসিকতার নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন লঞ্চঘাটে থাকা উৎসুক জনতা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০১৮, ১৫:৫১

options
link
রূপনারায়ণের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচলেন বধূ

সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: এক কিশোরের তৎপরতায় রক্ষা পেলেন গৃহবধূ। রূপনারায়ণ নদের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই মহিলা। নিজের জীবন বিপন্ন করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে ১৬ বছরের ওই কিশোর। শনিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামপুর থানার গাদিয়াড়ায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁয়ত্রিশের ওই গৃহবধু এদিন সন্ধ্যায় গাদিয়াড়ায় এসে দীর্ঘক্ষণ গাদিয়াড়ার লঞ্চঘাটের জেটিতে বসে থাকার পর হঠাৎই রূপনারাণের জলে ঝাঁপ দেন। সেই সময় একটি লঞ্চ গাদিয়াড়া থেকে নূরপুরের দিকে যাচ্ছিল। লঞ্চে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নূরপুরের কিশোর সরিফউদ্দিন মোল্লা ঘটনাটি দেখতে পায়, তৎক্ষনাৎ সে লঞ্চ থেকে রূপনারায়ণের জলে ঝাঁপ দেয়। তখন রূপনারায়ণের প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন ওই গৃহবধু। সরিফউদ্দিন তলিয়ে যেতে থাকা ওই গৃহবধুকে উদ্ধারের জন্য মরণপণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু জলের প্রবল স্রোতের কাছে তার চেষ্টা বারবার ব্যাহত হতে থাকে। এই ঘটনা দেখে লঞ্চে থাকা মাঝি-মাল্লাসহ আরও কয়েকজন জলে ঝাঁপ দেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সকলের প্রচেষ্টায় ওই গৃহবধুকে অচৈতন্য অবস্থায় ডাঙায় তোলা সম্ভব হয়। গাদিয়াড়ার লঞ্চঘাটে তখন অসংখ্য মানুষের ভিড়। ১৬ বছরের ওই কিশোরের এই অসীম সাহসিকতার নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন লঞ্চঘাটে থাকা উৎসুক জনতা।

Advertisement

স্থানীয় চিত্রশিল্পী প্রদীপ গুড়িয়া জানান, সন্ধ্যার কিছুটা আগে ওই গৃহবধু লঞ্চঘাটে বসে কান্নাকাটি করছিলেন। কয়েকজন তাঁর কাছে কান্নার কারণও জানতে চান, কিন্তু গৃহবধুটি কোনও উত্তর দেননি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ওই গৃহবধু হঠাৎই জেটিঘাট থেকে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নদীতে তখন জোয়ার থাকায় নিমেষের মধ্যে জলের প্রবল তোড়ে ভেসে যেতে থাকেন তিনি। জেটিঘাটে থাকা লোকজন যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এই দৃশ্য দেখছিলেন ঠিক তখনই নদীবক্ষে থাকা লঞ্চ থেকে কিছু একটা জলে পড়ার শব্দ পান তাঁরা। তারপর এক কিশোরকে নদীর প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে জলে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। গৃহবধু যখন জলে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় ওই কিশোর তাঁকে তীরের দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করে। কিন্তু জলের প্রবল স্রোতের কাছে তার অসম সংগ্রাম বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এক রত্তি কিশোরের এই দুঃসাহস দেখে লঞ্চের উপরে থাকা মাঝি-মাল্লারা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন নি। তাঁরাও তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিয়ে ওই কিশোরের সঙ্গে গৃহবধুকে উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় অবশেষে পাড়ে তোলা সম্ভব হয় ওই গৃহবধুকে। তখন তিনি অচেতন, তাঁকে স্থানীয় মানুষরা সেবা-শুশ্রূষা করে কিছুটা সুস্থ করার পর পুলিশ ওই মহিলাকে কমলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি রয়েছেন। পুলিশ ওই গৃহবধুর স্বামীকে ডেকে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রদীপ গুড়িয়া জানান, সরিফউদ্দিন মোল্লার এই সাহসিকতাকে তারা সম্মান জানান। তাঁরা সরিফউদ্দিনকে সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মহিলার বাড়ি শ্যামপুর থানার শশাটিতে। সাংসারিক অশান্তির কারণ ওই মহিলা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সরিফউদ্দিন মোল্লাকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে বলে, চোখের সামনে একজন মানুষ এভাবে মারা যাবে এটা ভেবেই সে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এজন্য সে নিজেকে কোনও কৃতিত্ব দিতে রাজি নয়।

Advertisement

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.