ভারত: ১৪৯/৬ (শেফালি ৬৪, হরমনপ্রীত ২৪, সুলতানা ৩০/৩, রাবেয়া ২২/১)
বাংলাদেশ: ১০৯/৭ (দীপ্তি ২৬/৩, নন্দিনী ১০/২)
৪০ রানে জয়ী ভারত।
হংকংকে ১৩৭ রানে উড়িয়ে শেষ চারের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ব্যাটিং ততটা জমল না। স্লো পিচে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। পদ্মাপারের দেশের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে হরমনপ্রীতরা করলেন ৬ উইকেটে ১৪৯ রান। জবাবে ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪০ রানে জিতে মহিলাদের ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে উঠল ভারত।
আরও পড়ুন:
এদিন রান পাননি স্মৃতি মন্ধানা (২)। দ্বিতীয় ওভারে তাঁকে ফেরান সুলতানা খাতুন। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতীকা রাওয়ালের সঙ্গে অর্ধশতরানের জুটি গড়েন শেফালি। ব্যক্তিগত ২০ রানের মাথায় রাবেয়া খানের বলে সাজঘরে ফেরেন প্রতীকা। এরপর ভাগ্যের সহায়তায় তিনবার জীবন পেয়ে তুরীয় মেজাজে খেলতে থাকেন শেফালি। ঠিক যে সময় মনে হচ্ছিল আরও বড় রানের দিকে এগোচ্ছেন, সেই সময় সুলতানার বলে ফারজানা ইয়াসমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ৪০ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে ছিল সাত চার, তিনটি ছক্কা।
Marching into the Final! 🇮🇳
A dominant display by #TeamIndia as they win by 4️⃣0️⃣ runs to seal their spot in the Final of the #WomensAsiaCup 🥳
Scorecard ▶️ https://t.co/6OyMx9q1ih#INDvBAN pic.twitter.com/MtVYlVDv8n
— BCCI Women (@BCCIWomen) September 10, 2026
শেফালি ফিরতেই কমে যায় ভারতের রানের গতি। ধীর উইকেটে ক্রিজে নেমেই বড় শট খেলা সহজ ছিল না। থমকে থমকে আসছিল বল। তাই ক্রিজে এসে নতুন ব্যাটারের পক্ষে ট্রেড মার্ক টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং সম্ভব ছিল না। হরমনপ্রীত কৌর ২৮ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকলেও অধিনায়কের ব্যাটে দেখা যায়নি পরিচিত ঝড়। বঙ্গকন্যা রিচা ঘোষ ১৬ বলে ২১ করে কিছুটা গতি বাড়ান। শেষের দিকে দীপ্তি শর্মার ৬ বলে ১৩ রানের ক্যামিও ভারতকে দেড়শোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। শেষ দু’বলে দু’টি উইকেট পড়ায় আর রান যোগ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ১৫০।
জবাবে শুরুটা খারাপ করেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আকতার এবং জুয়াইরিয়া ফিরদৌস। ভারতীয় পেসারদের ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে এই ভারতীয় দলে শ্রী চরণীর মতো স্পিনার রয়েছেন। তিনি বোলিংয়ে আসতেই থরহরিকম্প অবস্থা হয় বাংলাদেশের। জুয়াইরিয়াকে ১৪ রানে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের হাফসেঞ্চুরি করেন মধ্যপ্রদেশের এই স্পিনার। এরপর দীপ্তির বলে ২১ রানে সাজঘরের রাস্তা দেখেন দিলারা। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু স্লো উইকেটে দেড়শো রানের পিছনে ছোটার জন্য রানের যে গতির দরকার ছিল, তা উধাও ছিল। রান উঠছিল পাঁচের উপর। ভারতীয় স্পিনাররা স্লো উইকেটে মুশকিলে রেখেছিলেন বাংলাদেশকে। এই চাপের মধ্যেই দীপ্তির বলে আউট সোবহানা মোস্তারি। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা চেষ্টা করলেও প্রেমা রাওয়াতের বলে তাঁর লড়াই থামে ১৯ রানে। তিনি আউট হতেই ভারতের জয় ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশের ইনিংস ১০৯ রানের বেশি এগোল না।
When the going got tough, Shafali Verma got going! 💥
Striking at a solid 160 to steer the innings, she bags the Player of the Match award 👏#TeamIndia | #WomensAsiaCup | #INDvBAN | @TheShafaliVerma pic.twitter.com/EGnt8V2qQE
— BCCI Women (@BCCIWomen) September 10, 2026
৩ উইকেট পেলেন দীপ্তি। নন্দিনী শর্মা পেলেন ২ উইকেট। শ্রী চরণী এবং প্রেমা রাওয়াতের শিকার ১টি করে উইকেট। তবে মন্থর উইকেটে দুই দলের মধ্যে ফারাক গড়ে দিল শেফালির ঝোড়ো ৬৪ রান। প্রশ্নাতীত ভাবে ম্যাচের সেরা হন তিনিই। ফাইনালের টিকিট পেলেও ভূরি ভূরি ক্যাচ মিস ও ব্যাটিং কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে ভারতের কোচ অমল মজুমদারকে। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এশিয়া কাপ হয়েছে ১০ বার। প্রতিযোগিতার প্রত্যেক আসরেই ফাইনালে উঠল উইমেন্স ইন ব্লু। রোববার ফাইনাল জিতে ভারতীয় মহিলা দলের সামনে ৮ বার এশিয়াসেরা হওয়ার সুযোগ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তোমার বাবার টাকায় খাই?’, ৬৭ বছর বয়সে বিয়ের কথা শুনেই রেগে আগুন নীনা গুপ্তা
-
এবার সরাসরি ‘নীতুদা’র নাম নিয়ে আক্রমণ! ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্যও বিস্ফোরক বার্তা অস্কারের
-
ব্রিকসে যোগ দিতে চায় পাকিস্তানও, সমর্থন চিনের! কী পদক্ষেপ নয়াদিল্লির?
-
ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়! লোকেশনের তথ্য দিতেন কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট
-
উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে ওরাংওটাং উদ্ধারে দিঘা যোগ, হোটেল থেকে আটক ৩