সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: রুক্ষ পুরুলিয়ার খটখটে পাথুরে জমির কথা মাথায় রেখে ১০০ দিনের কাজে বিধি বদলের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণভাবে ৫২ সিএফটিতে একটি শ্রমদিবস তৈরি হয়। জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব, সিএফটি কমিয়ে এবার এই জেলায় ৪২ সিএফটিতেই একটি শ্রমদিবস তৈরি হবে। রবিবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কাজে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য হুড়া ব্লকে স্ট্যাগার ট্রেঞ্চ তৈরি হচ্ছে, যাতে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে আশ্বাস প্রশাসনের।

যে পাথুরে শক্ত মাটিতে কোদাল–গাঁইতি চালাতে ভরা শীতেও ঘাম ঝরে, পুরুলিয়ার সেই রুক্ষ জমিতে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা কর্মসূচি অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজে এই জেলা বিগত চার বছরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। ২০১৯–২০ আর্থিক বছর শেষ হতে মাস তিনেক বাকি থাকলেও ২৯ ডিসেম্বরের হিসেব বলছে, এই কাজের মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই বিগত চার বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়া বিরাট সম্ভাবনা। ফি দিন ৫০ হাজার শ্রমদিবস তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য সফল করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে দিন প্রতি শ্রমদিবসের টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৪০০। এই কাজে চলতি মাসের রবিবার পর্যন্ত এক লক্ষ ৭০ হাজার পরিবারকে কাজ দিয়ে দিয়েছে প্রশাসন, যা ২০১৭–১৮তে ছিল সর্বোচ্চ এক লক্ষ ৭৪ হাজার। ওই বছরেই ছিল সবচেয়ে বেশি শ্রমদিবস তৈরির রেকর্ড।
[আরও পড়ুন: পাওনা টাকার আদায়ে যুবককে বেধড়ক মার, বাঁচাতে গিয়ে মৃত বাবা]
রবিবার রাজ্যের ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত পোর্টালের তথ্য বলছে, এদিন পর্যন্ত ৬৯ লক্ষ ৭৬ হাজার শ্রমদিবস সৃষ্টি করেছে পুরুলিয়া। তবে চলতি আর্থিক বছরে এখানকার শ্রমদিবসের টার্গেট রয়েছে এক কোটি ২০ লক্ষ। এই প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত পুরুলিয়ার নোডাল অফিসার সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিগত চার বছরের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষাতেই রয়েছি আমরা। নতুন রেকর্ড গড়তে ফি দিন ৫০ হাজার শ্রমদিবসের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছি।” প্রশংসার মতো তথ্য আরও আছে। বর্তমানে এই জেলার কাজের গড় ৪১, যেখানে গোটা রাজ্যে গড় ৩৬।
শুধু শ্রমদিবস তৈরিতেই নয়, ব্যয়ের হিসেবেও বিগত চার বছরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছে পুরুলিয়া। এই কাজে টাকা খরচের ক্ষেত্রেও ২০১৭–১৮ আর্থিক বছরই এখনও পর্যন্ত সেরা। ওই বছর প্রায় ১৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা খরচ হয়।
[আরও পড়ুন: পকেট ডায়েরিতে উন্নয়নের খতিয়ান, পুরুলিয়ার ৫২টি প্রকল্পের বিবরণ প্রকাশ]
এই কাজে একাধিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে পরিকাঠামো উন্নয়নেও এবার নজর কেড়েছে জেলা। তার মধ্যে হুড়া ব্লকের মাঙ্গুরিয়া লালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়পাহাড়ে টিলা–পাথর কেটে নজর কাড়ছে স্ট্যাগার ট্রেঞ্চ। এই পরিখায় জল ধরে রুখাভূমিকে সবুজ করার কাজ শুরু হুড়া পঞ্চায়েত সমিতির। এছাড়া জেলায় তৈরি হয়েছে ২১৬৪ কিলোমিটার রাস্তা। আগামী ১৩–১৯ জানুয়ারি বাংলা আবাস যোজনা ও মিশন নির্মল বাংলা সপ্তাহে আরও ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে রাস্তার কাজের সূচনা হবে। এই পরিকাঠামো উন্নয়নে এখনই ১৩.৮২ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। সাম্প্রতিক কালে যা সর্বোচ্চ ছিল ২০১৮–১৯ আর্থিক বছরে – ৯.২৭ শতাংশ।
ছবি: অমিত সিং দেও।
সর্বশেষ খবর
-
‘বেকার গৌরব চা-সিগারেটের টাকাও নিত অন্তরার থেকে, খ্যাতি পেতেই বাড়ায় দূরত্ব’, গোপন তথ্য ফাঁস ‘বন্ধু’দের
-
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েই আইরিশ দলে, টিম ইন্ডিয়াকে উড়িয়ে দেওয়া কে এই ‘ভারতীয়’ বোলার?
-
বসিরহাটে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি বিজেপির, শুরু প্রস্তুতিও
-
শেষ মুহূর্তে গোল বাতিলে ঝুলে ইরানের ভাগ্য, নকআউটে মিশর-বেলজিয়াম, শেষ ৩২-এ আর কারা?
-
নিরাপদ নয় পাটুলি! ২ দিন রাস্তায় হেনস্থার শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ অভিনেত্রী রূপার, ওগরালেন ক্ষোভ