১৯৭৮ থেকে টানা ন’বার প্রার্থী, জঙ্গলমহল ঝালদায় কংগ্রেসের গড় রক্ষায় একা বাহাদুর

চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হন না

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১১, ২০১৮, ১৩:১৮

options
link
১৯৭৮ থেকে টানা ন’বার প্রার্থী, জঙ্গলমহল ঝালদায় কংগ্রেসের গড় রক্ষায় একা বাহাদুর

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: সত্যিই তিনি বাহাদুর। নামেও এবং কামেও। ১৯৭৮ থেকে ২০১৮। টানা ন’বার ভোট প্রার্থী। পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু হওয়ার সময় থেকে আজ পর্যন্ত কখনও পঞ্চায়েত সমিতি আবার কখনেও জেলা পরিষদে। তবে শুধু প্রার্থী হওয়াই নয় ১৯৭৮ থেকে ২০১৩, টানা আটবারই তিনি জয়লাভ করেছেন। তিনি অপরাজেয়। তিনি বাহাদুর মাহাতো। পুরুলিয়ার ঝালদা এক নম্বর ব্লকের নয়াডি গ্রামের বাসিন্দা। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা। এবার পুরুলিয়ার ঝালদা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সতেরো নম্বর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী। বলা যায় একেবারে দুঁদে রাজনীতিবিদ। রাজনীতির জন্য পুরুলিয়ায় সমবায়ের সুপারভাইজারের চাকরি ফিরিয়েছেন ১৯৭৮-এ। ৮৩-তে ফেরান নয়াডি গ্রাম পঞ্চায়েতে পাওয়া জব অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরিও। তাই কংগ্রেসের এই দুর্দিনেও আজও হাতের ঝান্ডা নিয়ে জঙ্গলমহল ঝালদায় লড়ে যাচ্ছেন তিনি।

Advertisement
[রাজ্যের ৩৪ শতাংশ আসনে ফল প্রকাশে সু্প্রিম স্থগিতাদেশ, কী প্রতিক্রিয়া বাম নেতাদের?]

ঝালদা এক নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি বিধায়ক নেপাল মাহাতোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক। বিধায়ক নেপাল মাহাতোর বাবা প্রয়াত সাংসদ দেবেন মাহাতোর আদর্শে তিনি কলেজে রাজনীতি করার পর ১৯৭৮-এ সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন। তারপর থেকে ঝালদার কংগ্রেস ‘গড়’ কে আগলে রাখতে লড়াই চলছে তাঁর। তাই ছেষট্টিতেও প্রার্থীও তিনি। তবে সাধারণত প্রার্থীরা যেমন প্রচার করে তাঁর ভোট প্রচার তেমন নয়। তাই সেভাবে মিটিং-মিছিলে হাঁটেন না তিনি। প্রচারে সোশ্যাল সাইট বা ডিজিটালও নেই। যেখানে এক-এক জনের প্রাথীর খরচ লাখ-লাখ টাকা। সেখানে ভোটে তার হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। ফলে প্রচার বলতে শুধু গাঁ-গঞ্জে ছোট-ছোট বৈঠক। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন তিনি। পঞ্চায়েতে টানা আটবার জিতে রেকর্ড গড়েছেন। সেই জয় কে ন’বারে নিয়ে যেতে এখন ঘুঁটি সাজাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কীভাবে একের পর এক ভোটে জয়লাভ করেন তিনি? তাঁর কথায়, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকি। মানুষের দাবি পূরণ করি। তাই ভোটের সময় আমাকে আলাদা করে কোন জনসংযোগ করতে হয় না। করতে হয় না কোন খরচও।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[নেই রাস্তা, ভোটের আগে তৃণমূল-সিপিএম চাপানউতোর তুঙ্গে পাণ্ডবেশ্বরে]

বলা যায় বাংলার বর্তমান রাজনীতির আবহে একেবারে ব্যতিক্রম চরিত্র এই বাহাদুর মাহাতো। ১৯৭৮-এ তিনি কংগ্রেসে টিকিট না পাওয়ায় নির্দল থেকে জিতে আবার কংগ্রেসে ফেরেন। ঝালদা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষর পদ পান। ১৯৮৩ সালে তিনি জিতলে ওই সমিতি কংগ্রেস দখল করতে পারেনি। তাই সমিতির বিরোধী দলনেতা হন। তবে এরপরের বারই ১৯৮৮ সালে জিতে সমিতির সভাপতির পদ পান। ১৯৯৩-এ তিনি হেরে গেলেও যে প্রার্থীর কাছে তাঁকে পরাজয় স্বীকার করতে হয় তিনি এনভিএফ কর্মী থাকায় ওই জয়ের বিরুদ্ধে আদালতে গেলে পঞ্চায়েতের বিধিতে ওই প্রার্থীর জয় খারিজ হয়। ওই আসনে আবার পুনর্নিবাচন হলে তিনি জয়লাভ করেন। এইসময় তিনি ঝালদা এক নম্বর ব্লক কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৯৮ সালে আবার তিনি জয়লাভ করে সমিতির সভাপতি হন। তারপরের বছর অর্থাৎ ২০০৩ সালেও আবার জয়লাভ করে সমিতির সভাপতির দায়িত্ব দেয় দল। সেবার সমিতি বিরোধীশূন্য ছিল। ২০০৮ সালে আবার জিতে ওই সমিতির বিরোধী দলনেতা হন। তবে ২০১৩-তে জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করে বিরোধী দলনেতার পদ পান।

Advertisement
[উন্নয়নের নামে তোলাবাজি চলছে, ভোট প্রচারে এসে তৃণমূলকে কটাক্ষ সেলিমের]

কিন্তু এবার দলের নির্দেশে আবার তাকে সমিতির প্রার্থী হতে হয়। তাঁর কথায়, “দল যখন যেখানে ভোটে দাঁড়াতে বলেছে, দায়িত্ব দিয়েছে আমি সেই দায়িত্ব পালন করেছি। কোথায় কাকে হারিয়েছি সব কিছু মনে নেই।”

ছবি- অমিত সিং দেও

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.