SIR

এসআইআর ‘আতঙ্কে’ হৃদরোগে মৃত্যু প্রৌঢ়ের, চাঞ্চল্য দত্তপুকুরে

এদিন সকালেই এসআইআর 'আতঙ্কে' জলপাইগুড়িতে মৃত্যু হয় একজনের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১৮:৪৯

options
link
এসআইআর ‘আতঙ্কে’ হৃদরোগে মৃত্যু প্রৌঢ়ের, চাঞ্চল্য দত্তপুকুরে
এসআইআর আবহে ফের বাংলায় মৃত্যুর অভিযোগ।

অর্ণব দাস, বারাকপুর: এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যু! এবার ঘটনাস্থল দত্তপুকুর থানার পশ্চিম খিলকাপুর পঞ্চায়েতের চাটুরিয়া গ্রাম। এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বছর সত্তরের জিয়া আলির নাম ২০০২সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও তাতে ছিল না এপিক নম্বর। ফলে এনুমারেশন ফর্ম আদৌও পূরণ করতে পারবে কি না, সেই দুশ্চিন্তা থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার জিয়া আলির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম খিলকাপুর পঞ্চায়েতের চাটুরিয়া গ্রামেই জন্ম হয় পেশায় ইটভাটার কর্মী জিয়ার আলির। গ্রামের পৈতৃক বাড়িতেই থাকতেন তিনি। তাঁর চার ছেলে এবং এক মেয়ে। পরিবারের দাবি, লোকসভা, বিধানসভা-সহ পঞ্চয়েতেও সকল নির্বাচনের ভোট দিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে এসআইআরের কাজ শুরু হতেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম থাকলেও এপিক নম্বর না থাকায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন জিয়া। দিন কয়েক আগে এনুমারেশন ফর্ম পেয়ে এপিক নম্বর না থাকায় ফর্ম পূরণ কীভাবে হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। এপিক নম্বর লেখার জায়গায় কি লিখবেন, তা নিয়ে পরিবার পরিচিতদের বারবার দেখিয়েছিলেন তিনি। এসআইআরে দেশ ছাড়া হওয়ার আতঙ্কের কথাও ছেলেদের ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি। সেই আতঙ্ক থেকেই বৃহস্পতিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রথমে বারাসত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রেফার করা হয় আরজিকর হাসপাতালে। সেখানেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় জিয়ার আলিকে রেফার করা হয় এন আর এস হাসপতালে। সেখানেই এদিন সকালে মৃত্যু হয় জিয়ার আলির। তাঁর ছেলে সইদুল আলি বলেন, “২০০২ সালের ভোটার লিস্টে এপিক নম্বর না থাকায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে বারবার আমাকে বলত, তাহলে কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। এই বয়সে কোথায় যাব। সেই আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাক হয় বাবার মৃত্যু হয়েছে।”

Advertisement

পশ্চিম খিলকাপুর পঞ্চায়েতটি মধ্যমগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত। নিজের বিধানসভার প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে এদিন দুপুরে মৃতের বাড়িতে আসেন স্থানীয় বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। ছিলেন বারাসত ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হালিমা বিবি, মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ সহ অন্যান্যরা। মন্ত্রীর সামনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মৃতের পরিবার তাদের সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে রথীন ঘোষ বলেন, “বিজেপি নেতাদের মুখে ‘ঘুষপেটিয়া’ কথাটি বারবার শুনে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জিয়ার আলির নাম ভোটার লিস্টে থাকলেও এপিক নম্বর না থাকা কমিশনের ভুল। এর মাশুল দিতে হল জিয়ার আলিকে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন