সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বিজেপির পথসভা থেকে পুলিশের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর হল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে। গত ১০ জানুয়ারি বিজেপির তরফে এরাজ্যের পর্যবেক্ষক তথা দলের কেন্দ্রীয় নেতা পুরুলিয়ার ঝালদার বিরসা মোড় এলাকায় পথসভা করেন। ওই মঞ্চ থেতে পুলিশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। ওই ঘটনার পর ১৬ দিনের মাথায় গত ২৬ জানুয়ারি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ঝালদা থানায় এফআইআর করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা অলোক চট্টোপাধ্যায়।
জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে CAA‘র সমর্থনে বিজেপি অনুমতি ছাড়াই অভিনন্দন যাত্রা করে। সেই মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বিজেপির সঙ্গে তাদের খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মী জখম হন বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের। ওই ঘটনায় মাথা ফাটে ঝালদা থানার আইসি-র। পুলিশ পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ, দলের জেলা সভাপতি-সহ ৩০০ জনের নামে এফআইআর করে। একাধিকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তার বিরুদ্ধেই গত ১০ জানুয়ারি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ঝালদা শহরে মিছিল এবং পথসভা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-সহ বাংলার চার সাংসদ। তাঁদের সামনেই দলের কেন্দ্রীয় নেতা পুলিশকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন। ওই পথসভায় পুলিশকে আক্রমণ করে কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya) বলেন, “বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার করে এমন আধিকারিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষমতায় এলে ওই আধিকারিকদের ‘মুরগা’ বানানো হবে। বিজেপি কর্মীদের উপর নির্যাতন চলবে আর আমরা চুড়ি পরে বসে থাকব তা হবে না। ইট সে ইটা বাজা দেঙ্গে।”
[আরও পড়ুন: সরস্বতী পুজোয় বাহারি হেয়ার স্টাইল, রেগে গিয়ে ছাত্রের চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষক]
তৃণমূল নেতা তথা ঝালদা থানার ইচাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুকি গ্রামের বাসিন্দা অলোক চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গত ১০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটা–পাঁচটার সময় ঝালদার বিরষা মোড়ে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় অন্তত দেড়–দু’হাজার কর্মী–সমর্থক-সহ প্রতিবাদ মিছিল এবং পথসভা করেন। ওই মঞ্চ থেকেই পুলিশের উদ্দেশে অত্যন্ত অপমানজনক এবং কুরুচিকর মন্তব্য করেন। পুলিশকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। ওই তৃণমূল নেতা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, “এই ঘটনা আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে। এবং আমার মনে হয়েছে এই রকম মন্তব্য এবং হুমকি সমাজে অস্থিরতা তৈরি এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার জন্য যথেষ্ট। আমার মনে হয় এরকম ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।” যদিও এফআইআর প্রসঙ্গে পালটা গেরুয়া শিবিরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ খবর
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?
-
চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী! চক্ষুদান করবেন? কী জানাল ক্লাব
-
রাষ্ট্রপতি সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, অভিযুক্ত আমলাকে ‘রিলিজ’ নবান্নের
-
প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সিএবি’তে, পঙ্কজ-পুত্রের পালটা, ‘সব অপপ্রচার’
-
‘দরিদ্র সেবাই শিবের পুজো’, বিবেকানন্দের মন্ত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুললেন জীতু