আকাশনীল ভট্টাচার্য ও সন্দীপ মজুমদার: বাংলায় নির্বাচন মানেই তৃণমূলের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে এমনটাই যেন মিথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারও তার অন্যথা হল না। নোয়াপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস। ১ লক্ষ ১ হাজার ৭২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিং। কংগ্রেসের থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করে তাঁর জয়ের ব্যবধান হয়েছে ৬৩ হাজার ১৮ ভোট। এই কপি মুদ্রণে যাওয়া পর্যন্ত উলুবেড়িয়া লোকসভায় তৃণমূল এগিয়ে প্রায় তিন লক্ষ ৬৯ হাজারের বেশি ভোটে। বোঝাই যাচ্ছে, এই আসনেও তৃণমূলের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবার দু’টি আসনেই আবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। যেখানে গত নির্বাচনেই সিপিএম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তবে বিজেপির পর সিপিএমের অবস্থান একেবারে গায়ে গায়ে। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই দ্বিতীয় স্থানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির ছবি বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই উপনির্বাচনও তারও ব্যতিক্রম হল না। একদিন আগেই এই ফলাফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মানুষ যা আশীর্বাদ, দোয়া করবে তাই মাথা পেতে নেব।” বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের ফল বেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের শাসকদলের উচ্ছ্বাসের ছবি ধরা পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। সময় যত গড়িয়েছে তত বেশি করে সবুজ আবিরে ঢেকে গিয়েছে এই দুই এলাকার পরিবেশ। ২০১৬ সালে নোয়াপাড়া আসনটি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু এবার সেই আসন পুনরুদ্ধার করল তৃণমূল। এবার কংগ্রেস সেখানে চতুর্থ আসন পেয়েছে।
তবে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই হয়েছে বিজেপির। সেই লড়াইয়ে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে তারা। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে সিপিএম পিছিয়ে পড়েছে। মর্যাদার লড়াইয়ে বিজেপির এই অবস্থান হলেও তৃণমূলের ধারেকাছে তারা যেতে পারেনি। যা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা সিপিএমে ভাঙন এখনও অব্যাহত। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই ফলাফলকে উন্নয়নের ফল বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। বলেছেন, “একদিকে কুৎসা, অপপ্রচার আর অন্যদিকে উন্নয়ন। মানুষ কোনওরকম কুৎসা, অপপ্রচারে কান না দিয়ে রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে তৃণমূলকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন।” নোয়াপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিংয়ের জয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, “এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। এই জয় নোয়াপাড়ার মানুষের জয়। এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়।”
উলুবেড়িয়ার মানুষের কাছেও বিপুল ভোট পেয়ে খুশি তৃণমূল প্রার্থী সাজদা আহমেদ। তবে যতক্ষণ না পুরোপুরি ফলাফল প্রকাশ পাচ্ছে ততক্ষণ প্রার্থী সাজদা আহমেদ এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি নন। তবে ট্রেন্ড যা বলছে তাতে আড়াই লক্ষ ভোটের ব্যবধান তাঁর আরও বাড়তে পারে। দুপুর পর্যন্ত গণনার শেষে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ২১১-এর কিছু বেশি। বিজেপি পেয়েছে ২ লক্ষ ১৮ হাজারের বেশি ভোট। বিজেপি এখানেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। সিপিএমের ভাঙন অব্যাহত এখানেও। এই ট্রেন্ড অব্যাহত থাকলে পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে তার প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উলুবেড়িয়ায় সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে কংগ্রেস।
সর্বশেষ খবর
-
নজরে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা! দ্রুত সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ শেষের আর্জি সাংসদের
-
‘বাবা ভুল করেছে, প্রায়শ্চিত্তও…’, বিগ বস বাংলার গ্রান্ড ওপেনিংয়ে চোখে জল তাপসকন্যা সোহিনীর
-
চিপস-ঠান্ডা পানীয়ে ‘বিষ’, তবু লোভ সামলাতে পারছেন না? এবার প্রতি প্যাকেটে থাকবে বিপদবার্তা!
-
মেঘালয়ে নাকা তল্লাশিতে পুলিশের উপর হামলা! পালটা গুলিতে নিহত ৪ সশস্ত্র দুষ্কৃতী
-
অভিষেক, ডেরেকের পর সুমিত! ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে সাংসদের পিএ-কে নোটিস পুলিশের