যৌন নিগ্রহের পাশাপাশি লাগাতার পাশবিক নির্যাতন, শিশুর শরীরে মিলল ৭টি সূচ

পলাতক অভিযুক্ত বৃদ্ধ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৭, ১৪:৪৫

options
link
যৌন নিগ্রহের পাশাপাশি লাগাতার পাশবিক নির্যাতন, শিশুর শরীরে মিলল ৭টি সূচ

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পাশবিক অত্যাচারের শিকার সন্তান, তবুও মুখ খোলেননি মা। আর সেই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন করেছে সনাতন ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছে পুরুলিয়ায় পরিচারিকার সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড নাকি বশীকরণ বিদ্যা জানতেন! আর তাই স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে বশ করে নিয়েছিলেন। সেকারণেই নিজের সন্তান পাশবিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছে জেনেও চুপ করে ছিলেন ওই মহিলা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন সনাতন ঠাকুরের আত্মীয়স্বজন ও পড়শিদের। এমনকী শিশুটি ক্রমশ অসুস্থ হয়ে নেতিয়ে পড়ার পরেও সেদিকে মায়ের কোনও নজর ছিল না। পুরুলিয়ার শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সামনে এসেছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Advertisement

[কর্নাটকের এই গ্রামে নগদের প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন?]

এদিকে, আক্রান্ত শিশুটিকে প্রথমে ভরতি করা হয় পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো সদর হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে শিশুটিকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শিশুর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শনিবার দুপুরে তাকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়। অন্যদিকে, শিশুটির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক্স-রে পরীক্ষায় তার দেহে সাতটি সূচ থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। শিশুটির পাঁজর, তলপেটে ও যৌনাঙ্গের পাশে সূচগুলি পাওয়া গিয়েছে। পুরুলিয়া চাইল্ড লাইনের অভিযোগ ওই শিশুটিকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাই অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি এফআইআরে এই খুনের চেষ্টার বিষয়টিও যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

Advertisement

[বাড়বাড়ন্ত ইভটিজিংয়ের, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আদব নিদান এই স্কুলের]

ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুর। পুলিশ গেলেও সন্ধান পায়নি ওই অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ডের। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তর এখনও খোঁজ মেলেনি।’ এর মধ্যেই শিশুটির মায়ের আচরণ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ হাসপাতালে ভরতির দু’সপ্তাহ আগে থেকেই নাকি শিশুটি অসুস্থ ছিল। সন্তানের শরীর খারাপের কথা বলা হলে তিনি নাকি বলতেন, ‘আমার সন্তান আমি বুঝে নেব।’ প্রতিনিয়ত শারীরিক অবস্থা খারাপ হলেও কোনও ভ্রূক্ষেপ ছিল না ওই মহিলার। এদিকে, সনাতন ঠাকুরের বাড়ির লোকেরাও জানিয়েছে তিনি ঝাড়ফুঁক, তুকতাক করতেন। এমনকী বশীকরণ বিদ্যাও জানতেন। তাঁদের আশঙ্কা ওই মহিলাকেও তন্ত্র-মন্ত্র করেছিলেন সনাতন। তারপরই তার সন্তানের উপর পাশবিক অত্যাচার চালান। কিন্তু কেন সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকন্যার উপর পাশবিক অত্যাচার চালাতেন ওই বৃদ্ধ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশের মনে। ইতিমধ্যে সনাতন ঠাকুরের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

Advertisement

[মায়ের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি, প্রেমিকের হাতে খুন যুবক]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.