ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগ, মুসলিম শিক্ষককে মারধর গ্রামবাসীদের

ঘটনার তদন্ত চলছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৭, ১৫:৫৫

options
link
ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগ, মুসলিম শিক্ষককে মারধর গ্রামবাসীদের

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: স্কুলের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে ঘুসি, থাপ্পড় ও লাঠিপেটা করার ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল কালীগঞ্জ থানার অনন্তপুরে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৫ জুলাই দুপুরে অনন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিতর ঢুকে যায় কয়েকজন। আচমকা তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ রেজাকে পড়ুয়াদের সামনে ঘুসি, থাপ্পড় ও কঞ্চি দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। কিন্তু কেন আবদুল্লাহ রেজাকে গ্রামের মানুষ এভাবে মারধর করল? এ প্রশ্নে আবদুল্লাহ বলেন, “স্কুলের সার্টিফিকেট চাইত গ্রামবাসীরা। অবৈধ কাজ আমি করি না। মিড ডে মিলের জিনিস গ্রাম থেকে না কেনায় রাগ হয়েছিল। এছাড়া স্কুলের নির্মাণ কাজে টাকা চাওয়া হয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে সহমত না হওয়ায় ওরা আমাকে মারধর করেছে। একইসঙ্গে আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যে অভিযোগও করছে।” গ্রামের অনেকে মারধরের ঘটনা দেখেও আটকানোর চেষ্টা করেননি। এই ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে মারধর করার পাশাপাশি শিক্ষকের গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দিতেও বলা হচ্ছে। আহত শিক্ষক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করান। রাতে শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে থানায় যান আবদুল্লাহ রেজা। বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। দু-পক্ষের সহমতেই বিষয়টি মিটেও যায়।

Advertisement

[জানেন, গুরুপূর্ণিমা নিয়ে কী টুইট করল নাসা?]

তবে এখানেই সব কিছু ঠান্ডা হয়ে যায়নি। প্রধান শিক্ষক বলেন, “এরপরই জানতে পারি আমাকে মারধর করার ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সম্মানহানি করার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ আমার কামারি গ্রামের মানুষজন। আর এই কারণেই যারা মারধর করেছিল, সেই সাতজনের নামে শাস্তি চেয়ে পরের দিন থানায় অভিযোগ জানাই।” এতেই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। ৭ জুলাই অনন্তপুর গ্রামের এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এমন অভিযোগে তেতে ওঠে অনন্তপুরের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ এই শিক্ষক পড়ুয়াদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।

Advertisement

[জানেন, গত দু’দশকে মাওবাদী হামলায় কতজন নিহত হয়েছেন?]

পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ রায় বলেন, ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। ওখানকার এসআই-কে পুরো রির্পোট দিতে বলা হয়েছে। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.