বিশ্বভারতীর কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন সংক্রান্ত মামলায় চাপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ! জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থার ডিরেক্টর জলি চৌধুরী, নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের আধিকারিকেরা, জেলাশাসক ধবল জৈন, বোলপুরের মহকুমাশাসক অনিমেষ কান্তি মান্না, বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ, ইঞ্জিনিয়ার বাপি বীরবংশী, বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, কর্মসূচি বিকাশ মুখোপাধ্যায় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন:
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে উৎপন্ন কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সোমবার বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবন ও হোস্টেলে সমীক্ষা চালাবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং বোলপুর পুরসভার যৌথ পর্যবেক্ষকেরা। সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে বুধবার ফের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসন। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ ও সংলগ্ন এলাকায় উৎপন্ন কঠিন ও তরল বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করে অন্যত্র প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও কার্যকর কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায়, আপাতত বোলপুর পুরসভা বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের দায়িত্ব নেবে। তবে এর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির খরচ বাবদ বিশ্বভারতীকে কত টাকা দিতে হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, “উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা দায়ের করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে পরিবেশবান্ধবভাবে পৌষমেলার আয়োজনের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পুনরায় দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ ওঠে, সারা বছর ধরে বিশ্বভারতী চত্বরে বিভিন্ন ভবন ও হোস্টেলে বসবাসকারীদের কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
২০২০ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত আইন অনুযায়ী কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর না হওয়ায় ফের মামলা রুজু হয়। দীর্ঘদিন মামলা চলাকালীন আদালত একাধিকবার বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের কাছে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে বললেও তা না দেওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শুনানিতে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শুনানিতে জেলাশাসক ও বিশ্বভারতীর কর্মসচিব ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত হন। শেষে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিস জারি করে আদালত। নির্দেশে বলা হয়, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ কতটা পালন করা হয়েছে তার বিস্তারিত ও প্রামাণ্য তথ্য পেশ করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে চলতি বছরের ৩০ মার্চ।
মামলাকারী পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, “পরিবেশের কথা ভেবে দীর্ঘ ন’ বছর ধরে বিশ্বভারতী কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনও স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি চরম প্রশাসনিক গাফিলতি। পরিবেশ আদালত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।”অন্যদিকে, বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধান পর্ণা ঘোষ বলেন, “বিশ্বভারতী ন্যূনতম খরচ দিলেই বর্জ্য সংগ্রহ, নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের পাশাপাশি প্লাস্টিক, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে। তবে খরচের পরিমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা চলছে।”যদিও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরই বিভিন্ন বৈঠক ও পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
শিবভক্তদের জন্য অনুষ্ঠানে নর্তকীকে কোলে তুলে নাচ বিজেপি কর্মীদের! বরানগরে শুরু বিতর্ক
-
‘ফ্রিজ’ আরও ৪ অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হোক! ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল
-
এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা: দ্বিতীয় ডোপ পরীক্ষাতেও ফেল, গাঁজা সেবন করেই চালকের আসনে পাইলট!
-
পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, অথচ একবর্ণও পড়া হয়নি! এমন স্বপ্ন তাড়া করলে জানুন নেপথ্য কারণ
-
‘বন্দে মাতরমের’ অপমান শাস্তি, হতে পারে কারাদণ্ড, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তৈরি হল আইন!