অভয়া কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন সন্তানহারা মা রত্না দেবনাথ। তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনর্তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এছাড়া তাঁর আরও দাবি, নির্মল ঘোষ, সন্দীপ ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়রা তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করেছে। অভয়ার সৎকারের সময় শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, তা বারাকপুরের সিপিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন তিনি। অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
ক্ষমতার পালাবদলের পর শুভেন্দু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২ বছর আগে এই দিনটার কথা আমাদের সকলের মধ্য়ে জাগ্রত হলে বা স্মরণ করলে বিচলিত হই। আমাদের হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে পড়ে। চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে। কোনও সভ্য সমাজে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে, একটা সুরক্ষিত জায়গায় সভ্য ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারিনি। ৯ আগস্ট, ২০২৪ – তার পরের বছর ৯ আগস্ট, ২০২৫ রাখিপূর্ণিমায় অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান ছিল সেই সময় আমাদের ‘দিদি’, ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় পুলিশের লাঠি, এত বড় ফোলা আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর অত্যাচারী শাসকের হাতে ছিল বাংলা। ভর্তি করাতে দেয়নি। হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছিল। আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামিদিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে।”
রবিবার সকালে সরকারি হাসপাতালে নীরবতা পালনের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যভবন। শুভেন্দু বলেন, “রাজ্য় সরকার ঘোষিত ১১টা থেকে ১১টা ০২ মিনিট পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৌনতা পালন দেখছিলাম। আর দু’চোখ থেকে জল বয়ে যাচ্ছিল। স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্সকে নয়। সব বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, মেডিক্যাল কলেজে মাথানত করে ২ মিনিট বোনকে স্মরণ করেছিল। মাতৃসমা দিদিকে বলব, চন্দ্র, সূর্য যতদিন ততদিন বোনের কথা সবাই মনে রাখবে। কেউ ভুলবে না। কেউ কেউ সোশাল মিডিয়াতেও ডাক্তার বোনের বিদেহী আত্মার শান্তিকামনা করেছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই ধরনের ঘটনায় রাজনীতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের কথা ভাবব না। স্বজনপ্রীতি দেখাব না, দুর্বলতা প্রকাশ করব না, ব্যক্তি সম্পর্ক থেকে দূরে থাকব। চোখ বন্ধ করে যত কঠোর শাস্তি দেওয়া যায়, তা-ই দেব।” এই প্রসঙ্গে বারুইপুরের এনকাউন্টার কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। তবে নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি সিবিআই। অভয়ার বাবা-মায়ের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে। সিবিআইয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্টও। এবার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’, আনন্দে নাচ প্রপিতামহীর! মাইক বাজিয়ে কন্যারত্নকে ঘরে আনল পরিবার
-
স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা মোটেই ভালো নয়! মাকে হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গোবিন্দা?
-
‘কাঞ্চনের স্পার্ম কাউন্ট নিয়ে চিন্তায়…’, দ্বিতীয় সন্তান হতেই নিন্দুকদের কী জবাব শ্রীময়ীর?
-
বাংলার ডিম থেপারি এবার ইউরোপেও! কসোভোর ভরা পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর উপর ডিম বর্ষণ
-
‘কাঁটা’ হাসিনা, আগামী মাসে ভারত সফর এড়াচ্ছেন তারেক! ত্রিবেদীর কথায় কোন ইঙ্গিত?