সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার শাসক শিবিরের সংগ্রহে সবুজ আবির। পিছিয়ে নেই গেরুয়া শিবিরও। তাই বুধবার রাত থেকেই বেড়ে গিয়েছে এই দুই রঙের আবিরের বিক্রি। সঙ্গে শহর পুরুলিয়ার বিভিন্ন দোকানে বিজেপির দেওয়া বরাতে চলছে মতিচুর লাড্ডু তৈরির কাজও। কিন্তু শাসক ও গেরুয়া শিবিরের এমন বিজয়োৎসবের আবহে লাল আবির বিক্রিতে একেবারেই ভাটার টান। পুরুলিয়া জেলা পরিষদ ফের শাসক দলই গঠন করবে। সেই বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নিশ্চিত, তবুও যেন শাসক শিবিরে একটা চাপা টেনশন কাজ করছে। কারণ এই জেলায় ফলাফল সংক্রান্ত গোয়েন্দারা যে প্রাথমিক রিপোর্ট দিচ্ছে সেখানে কিন্তু শাসক দলের সেভাবে উচ্ছাসের জায়গা নেই। আসলে সারা রাজ্যের মধ্যে বিজেপি যে জেলাগুলিতে বেড়েছে তার মধ্যে অন্যতম এই পুরুলিয়া। তাই বিজেপি হাওয়া ঠেকাতে একেবারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলার পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ কার্যকরী হয়েছে। এই জেলায় তৃণমূলের ভোটের সেনাপতি হয়ে কাজ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ ড.শান্তনু সেন। ভোটের আগে প্রায় একপক্ষ কালের বেশি সময় ধরে তিনি এই জেলায় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। কেননা দলের লক্ষ্য রয়েছে, পুরুলিয়া জেলা পরিষদকে বিরোধী শূন্য করা।
[ঘাসফুলেই সায় বাংলার মানুষের, কোথাও কোথাও ফুটল পদ্মও]
তাছাড়া দলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেনী কল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, সহ-সভাপতি রথীন্দ্রনাথ মাহাতো, জেলা যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাতো, সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালী ও দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রার্থী হয়েও এই জেলায় ভোট পরিচালনা করেছেন। তাঁদের কথায়, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের চেয়েও এবার ভাল ফল হবে। এদিন রাতে দলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, “জেলা পরিষদ-সহ সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতি আমরা দখল করব। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত আমাদের দখলে আসবে।” তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ন’টাতেই দলের জেলা কার্যালয় সীতারাম মাহাতো ভবনে চলে এসেছেন।
এদিকে গেরুয়া শিবিরও তাদের ফল নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী। তাই সকাল থেকেই জেলাপরিষদের ক’টা আসন তারা পেতে পারেন সেই হিসাব শুরু করেন। সেই সঙ্গে চলে কমলা আবির মজুত করা সহ লাড্ডু বরাত দেওয়ার কাজও। দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “জেলা পরিষদের বেশ কয়েকটি আসন আমরা জিতব। শাসক দলের একাধিক ইন্দ্রপতন হতে পারে।” তাছাড়া যেভাবে গেরুয়া শিবির গোটা জেলা জুড়েই কমলা আবির মজুত করে রাখতে শুরু করে তাতে তৃণমূলকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছে। শহর পুরুলিয়ার আবির বিক্রেতা ঝন্টু সেন ও ফাল্গুনী সেন বলেন, “সকাল থেকেই সবুজ আবিরের বিক্রি শুরু হয়। হঠাৎ করে বিকালের পর থেকে যেন কমলা আবির সবুজকে টক্কর দিতে থাকে।” শহরের লাড্ডু বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, বিজেপির কাছ থেকে তাঁদের লাড্ডুর বরাত মিলেছে। সেই লাড্ডু তৈরির কাজও চলছে। আজ পুরুলিয়ায় যে দলই বিজয়োৎসবে মাতুক না কেন অকাল হোলিতে মাততে প্রস্তুত এই জঙ্গলমহল।
ছবি: অমিত সিং দেও
[সাত দশকের অপেক্ষার অবসান, প্রথম জনপ্রতিনিধি পাবে সাবেক ছিটমহল]
সর্বশেষ খবর
-
সিপিএম-আরএসপি দ্বন্দ্ব চরমে! চূড়ান্ত হলো না দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী
-
‘নিখোঁজ’ বিডিও কীভাবে পাচ্ছেন বেতন? প্রশান্ত বর্মনের মামলায় সিআইডিকে ‘ভর্ৎসনা’ হাই কোর্টের
-
তসলিমার বক্তৃতা নিয়ে প্রশ্ন স্কুলের পরীক্ষায়! ‘লেখাকে অত সহজে নির্বাসিত করা যায় না’, খোঁচা লেখিকার
-
মণ্ডপের বদলে এবার গঙ্গাতেই প্রতিমা নিরঞ্জন, বিতর্ক কাটিয়ে এবার থিমে কোন চমক দেবে টালা প্রত্যয়?
-
শেফালির ঝড়, দীপ্তির দুরন্ত ঘূর্ণি! বাংলাদেশকে উড়িয়ে ১০ এশিয়া কাপের ১০ আসরেই ফাইনালে ভারত