কুড়মি আবেগেই জঙ্গলমহলে ফুটল পদ্ম! আর তার কিং মেকার আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের কুড়মি অধ্যুষিত বিধানসভা আসনগুলির ফল দেখে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিকমহল এমন কথাই বলছে। এই চার জেলার বিধানসভা আসন রয়েছে ২০ টি। প্রত্যেকটি কুড়মি অধ্যুষিত। তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর গ্রামীণ বাদ দিয়ে সবকটিতেই কুড়মি ভোট ব্যাঙ্ককে ভর করে ১৯ টি বিধানসভাতেই পদ্ম ফোটায় বিজেপি। সেই গেরুয়া ঝড়ে হেরে যান রাজ্যের দুই আদিবাসী মন্ত্রী ঝাড়গ্রামের বিনপুর থেকে বিরবাহা হাঁসদা ও পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু।
এই বিষয়ে আরও খবর
একসময় কুড়মি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য উপদেষ্টা রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদান করে গোপীবল্লভপুর থেকে বিধায়ক হন। অন্যদিকে পুরুলিয়ার জয়পুরের আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতার ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতোও জয়ী হন। কুড়মি আবেগে জঙ্গলমহলে বিজেপির এই বিপুল জয়ের পর আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “কুড়মি জনজাতির উপর অত্যাচারের, অবহেলার জবাব দিল জঙ্গলমহল।” এদিন মূল মানতা ফুল-মালায় সম্বর্ধনায় ভেসে যান। গেরুয়ার সঙ্গে জঙ্গলমহল পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে ওড়ে হলুদ আবিরও। হলুদ-গেরুয়া মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
কুড়মি আবেগে জঙ্গলমহলে বিজেপির এই বিপুল জয়ের পর আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “কুড়মি জনজাতির উপর অত্যাচারের, অবহেলার জবাব দিল জঙ্গলমহল।”
জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় কুড়মি জনজাতির ভোট রয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এখানকার ৯ টি বিধানসভা কুড়মি অধ্যুষিত। তার মধ্যে রঘুনাথপুর বিধানসভায় কুড়মি জনজাতির ভোটার সবচেয়ে কম প্রায় ৬ শতাংশ। এছাড়া পাড়ায় ১৮ শতাংশ। বাকি সব বিধানসভাগুলিতে ২০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বাঁকুড়ায় কুড়মি জনজাতির ভোটার রয়েছে ৭ শতাংশ। তবে ওই জেলার রানীবাঁধ, রায়পুর, তালডাংরা এই তিনটি বিধানসভা কুড়মি জনজাতি অধ্যুষিত। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের ঝাড়গ্রাম, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম, বিনপুর এই চারটি বিধানসভা কুড়মি অধ্যুষিত কেন্দ্র। এই জেলায় কুড়মি জনজাতির ভোটার রয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। যা জঙ্গলমহলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

একইভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরে কুড়মি জনজাতির ভোটার প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে এখানে ৪ টি বিধানসভা কুড়মি অধ্যুষিত। সেগুলি হল শালবনি, মেদিনীপুর খড়গপুর গ্রামীণ ও গড়বেতা। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো ‘নো ভোট টু টিএমসি’ বলাই যে তৃণমূলের কাল হল তা পরিষ্কার। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তিনি এই ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেইবারে সেভাবে কার্যকর হয়নি। মানুষ ‘নো ভোট টু তৃণমূলের’ ডাকে সাড়া দেননি। কিন্তু অজিত মাহাতোর ডাকে সাড়া দেয় জঙ্গলমহলের মানুষ।
কিন্তু কুড়মি জনজাতিদের মধ্যে কেন এত ক্ষোভ? আদিবাসী তালিকাভুক্তের বিষয়ে রাজ্য সরকার কমেন্ট- জাস্টিফিকেশন না পাঠানোতেই কুড়মি জনজাতির মানুষজন ক্ষুব্ধ হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই দাবি পূরণে রেল অবরোধের ডাক দিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাত বাধে। কারণ ওই অবরোধকে হাইকোর্ট বেআইনি বলায় পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। আর তাতেই কুড়মি জনজাতির মানুষজন অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন। আর তারপর গত ৮ অক্টোবর পুরুলিয়ায় পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসভাতে মূল মানতা আবার ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র ডাক দেন। এদিন এই সংক্রান্ত সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। “অজিত মাহাতো ভোট টু টিএমসি বলাই টিএমসির জঙ্গলমহলে বেলাইন।”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
অসুস্থ হয়ে দিল্লি এইমসে ভর্তি বিমান বসু, কী জানাল বামফ্রন্ট রাজ্য নেতৃত্ব?
-
হাওড়ায় বাড়ির সামনে জমা জলে উদ্ধার ব্যক্তির দেহ, তদন্তকারী দল পাঠালেন মন্ত্রী, আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস
-
আচমকা অসুস্থ বুদ্ধদেবজায়া মীরা ভট্টাচার্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
-
বাবাকে ‘টার্গেট’ ভেবে ঘরে ঢুকে ছেলেকে খুন! যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল হাওড়া আদালত
-
অভয়া মামলা থেকে নিস্তার নেই! তোলাবাজিতে জামিন হলেও জেলেই প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব



