টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারের সুর চড়াতে গিয়ে ফের উসকানিমূলক মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)। শনিবার বাঁকুড়া জেলা বিজেপির যুব মোর্চা আয়োজিত ভারচুয়াল সভায় যোগ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বললেন, “বিজেপি করতে দেবেন না বলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান,পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, মন্ত্রী, জেলা পরিষদের মেন্টররা এলাকায় এলাকায় গিয়ে বিজেপি কর্মীদের দিকে চোখ রাঙাচ্ছেন। এবার বিজেপির যুব সম্প্রদায় সেই চোখ উপড়ে নেবে। আমরা আর চুপ করে বসে থাকব না।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ফের উঠেছে বিতর্কের ঝড়।
শনিবার বাঁকুড়া জেলা বিজেপির যুব মোর্চার ভারচুয়াল সভায় যোগ দিতে যান সৌমিত্র খাঁ। এদিনের সভা শুরুর প্রথম থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি। দিন কয়েক আগে আমফান বিধ্বস্তদের সুষ্ঠভাবে ত্রাণ বিলি, বিজেপি কর্মীদের সর্বত্র ত্রাণ দিতে যাওয়ার অনুমতি-সহ একাধিক দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়ে বারুইপুরে তিনি বলেছিলেন, “রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অনুমতির অপেক্ষা, তারপর কোনও বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হলে, পালটা মার খেতে হবে।”
[আরও পড়ুন: ফাঁকা ফ্ল্যাটে উদ্দাম যৌনতা, টাকা বেশি চাইতেই খুন যৌনকর্মী]
এদিন বাঁকুড়ার সভা থেকেই প্রায় একই সুরে হুমকি দিলেন। বললেন, বিজেপি করতে বাধা দিয়ে এলাকার কর্মীদের দিকে চোখ রাঙাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান-সহ শাসকদলের একাধিক নেতা। তাঁদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে। এদিন বাঁকুড়া শহরের ধর্মশালায় যুব মোর্চা সভাপতির এই ভারচুয়াল সভায় বিজেপির যুব মোর্চার ২০ থেকে ২৫ জন দলীয় কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
[আরও পড়ুন: ‘অর্ধেক রুটি খেয়েও বদলা চায় মানুষ, সরকার যেন বোকা না বানায়,’ বলছেন অধীর]
বাঁকুড়া শহরে এই কর্মসূচির পর সৌমিত্র খাঁ বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিষ্ণুপুরের কর্মসূচি ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখানে বিজেপি সাংসদ একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। জেলায় বালিপাচার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “লকডাউনের সময় বিগত তিন মাস ধরে বিষ্ণুপুর এলাকার নদ-নদী থেকে যেভাবে রাতের অন্ধকারে বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে, তা হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হোক। আজ থেকে আমি গ্রামের যুবকদের বলব, রাস্তা কেটে দিন, বালিবোঝাই ট্রাক বের হতে দেবেন না এলাকা থেকে।” সৌমিত্র খাঁ’র এসব মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন তিনি। এদিন বিষ্ণুপুর অর্থাৎ তাঁর নিজের সংসদীয় এলাকার যুব মোর্চার পক্ষ থেকে ছোটখাটো সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ খবর
-
নিশ্চিত সেমিফাইনালের দিনক্ষণ, ফাইনাল এখনও অন্ধকারে! শিল্ডের জন্য ধাক্কা আইএসএলের প্রস্তুতিতে?
-
ভাড়ার অ্যাকাউন্টে দেশজুড়ে সাইবার জালিয়াতি! পার্ক স্ট্রিটের ব্যাঙ্কে ‘মিউল অ্যাকাউন্টের’ সন্ধান পেল পুলিশ
-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে ফিরলেন বঙ্গবন্ধু, হাদির নাম মুছে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান হল
-
শ্রীঘরে দুই বেয়াই! দু’বছর আগে নাবালিকার বিয়ে, কোলে ৬ মাসের শিশু, খবর পেতেই ‘অ্যাকশন’ পুলিশের
-
‘হিরো, আপনিই বাঁচিয়েছেন’, ককপিটে সতীর্থের ছুরিতে রক্তাক্ত হয়েও কর্তব্যে অবিচল ভারতীয় পাইলট