সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: গৃহবধূর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের ১৮ দিন পর ঘটনার কিনার করল পুলিশ৷ গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ গৃহবধূ খুনের পেছনে তন্ত্রসাধনার যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানা এলাকার মেন গেটের কাছে তামলাখালে উদ্ধার হয় গৃহবধূর বস্তাবন্দি মৃতদেহ৷ মহিলার দেহ উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ৷ বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারের পর মহিলার পরিচয় জানার কাজ শুরু হয়৷ পরে মহিলার নাম-পরিচয় পাওয়ার পর অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ধৃতদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷

[চন্দ্রকোনার এই বনেদি বাড়ির পুজোয় কালো পাঁঠা চাই-ই চাই! কেন জানেন?]
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর মা দুর্গাপুর থানায় মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন৷ বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার ও নিখোঁজ ডায়েরির সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে পায় পুলিশ৷ গৃহবধূর নাম জানতে পারে পুলিশ৷ এরপরই তদন্ত করতেই উঠে আসে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর শ্বশুর মলিন্দ্র মিদ্যা পেশায় রিকশচালক হলেও তন্ত্রসাধনার সঙ্গেও যুক্ত বলে প্রতিবেশীদের অভিযোগ৷ দৈনিক কালী ঠাকুরের পুজো ছাড়াও তার কাছে বহিরাগত তান্ত্রিকরাও আসত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা৷ ঘরের মধ্যে বিশালাকার ত্রিশূল ও কালী মূর্তিও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে৷ গৃহবধূর শাশুড়ি কুন্তি মিদ্যাও এই তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত বলেই প্রতিবেশীদের দাবি৷ তাদের বড় ছেলে রাজেশের স্ত্রী সোনিয়া৷ দুই বছর আগে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় রাজেশের৷ বিয়ের পর থেকে প্রায় দেড় বছর বাপের বাড়িতেই ছিলেন সোনিয়া৷ মাস তিনেক হল শ্বশুর বাড়িতে ওঠেন৷
[ইট বহন থেকে গা টেপানো, খুদে পড়ুয়াদের দিয়ে সবই করাচ্ছেন স্কুল শিক্ষকরা]
প্রতিবেশীদের দাবি, শুধু শারীরিকভাবেই নয় মানসিকভাবেও অত্যাচার চালানো হতো সোনিয়ার উপর৷ রাতে তন্ত্রসাধনার আচার অনুষ্ঠানেও সোনিয়াকে জোর করে অংশ নিতে বাধ্য করত শ্বশুর ও শাশুড়ি বলে প্রতিবেশীদের অভিযোগ৷ এছাড়াও পারিবারিক বিবাদও ছিল এই পরিবারের মধ্যে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে৷ পুলিশের অনুমান, তন্ত্রসাধনার জন্য ওই গৃহবধূকে খুন করে বন্তাবন্দি করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়৷ তবে, খুনের দায় অভিযুক্তরা এখনও স্বীকার না করলেও জেরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ৷
সর্বশেষ খবর
-
উলুবেড়িয়ায় কোচিং সেন্টারে দিনের পর দিন ছাত্রীকে ধর্ষণ! অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা, গ্রেপ্তার শিক্ষক
-
মেঠো রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ছে কমরেডরা! সোশাল মিডিয়াতেও তথৈবচ অবস্থা, কী বলছে সিপিএমের রিপোর্ট?
-
৯ লক্ষ কোটি উধাও, ধর্মঘট বাতিলেও ব্যাঙ্কের শেয়ারে ধস, উৎসবের মরশুমে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত
-
বকেয়া ১৩০০ কোটি, পুরকর আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি কলকাতায়
-
এআই গবেষণায় নতুন উদ্যোগ টিসিএস ও আইইএম কলকাতার, তৈরি হচ্ছে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’