COVID

কোভিড আতঙ্ক, চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের আইসোলেশনে মৃত্যু বৃদ্ধার

চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২০, ২২:৪৮

options
link
কোভিড আতঙ্ক, চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালের আইসোলেশনে মৃত্যু বৃদ্ধার
ছবি: প্রতীকী।

গৌতম ব্রহ্ম: ‘টাইপ টু রেসপিরেটরি ফেলিওর’। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসাবে এটাই লেখা রয়েছে। আগে-পরে আর কিছু নেই। তবে রোগী যে ‘কোভিড নেগেটিভ’ তার উল্লেখ রয়েছে। অথচ, কোভিড উপসর্গ থাকার কারণেই রোগীর সঠিক চিকিৎসাই শুরু হয়নি। আইসোলেশনে রেখে শুধু অক্সিজেন আর স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

Advertisement

তহমিদা খাতুন (৬০)। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির হাজিনগরের হরিশ মিত্র রোডে। ২০ জুলাই সকাল আটটা দশে মৃত্যু হয় তহমিদার। এরপরই তহমিদার পরিবারের লোকজন গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। ছেলে শেখ নওশাদ জানান, “মায়ের জ্বর হয়েছিল। শ্বাসকষ্ট ছিল। তাই ঝুঁকি না নিয়ে হাসপাতালে যাই। আইসোলশেন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কোনও চিকিৎসা শুরু হয়নি। চিকিৎসকরা শুধু ফাটা রেকর্ডের মতো একটাই কথা বলছিলেন, ‘আগে কোভিড রিপোর্ট আসুক। তারপর ওষুধ দেওয়া হবে। চিকিৎসা শুরু হবে।’ সোমবার কোভিড রিপোর্ট আসে। দেখা যায় মা কোভিড নেগেটিভ। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। ওইদিন সকালেই মা চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ভয়ে ডাক্তারবাবুরা কোনও চিকিৎসাই করলেন না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: অমানবিক! বৃদ্ধের মৃত্যুতেও এগিয়ে এল না কেউ, দিনভর দেহ আগলে বসে রইল ছেলে]

কোভিড না হওয়া তহমিদার দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে তহমিদার মৃত্যু নিয়ে। নওশাদের বক্তব্য, আমার মাকে সুস্থ করার পরিকাঠামো মজুত হাসপাতালে। ডাক্তার-নার্সও ছিলেন। কিন্তু শুধু কোভিড জুজুর ভয়ে কেউ ভাল করে দেখলেন না, চিকিৎসাই শুরু করলেন না। শুধু নাম কা ওয়াস্তে একটু অক্সিজেন আর স্যালাইন দিল। জেএনএম হাসপাতালের সুপার ডা. অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় একপ্রকার স্বীকার করে নিয়েছেন যে কোভিড পর্বে অনেক রোগীরই চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা যাচ্ছে না। তিনি জানালেন, “আগে কয়েকটি রোগী পজিটিভ হয়েছিল। তারপর থেকেই কোভিড পরীক্ষার রেজাল্ট আসা পর্যন্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। তবে চিকিৎসা শুরু হয়নি, এমন অভিযোগ বোধহয় ঠিক নয়। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

Advertisement

কিন্তু মুমুর্ষু হওয়া সত্ত্বেও আইসোলেশনে থাকা রোগী কেন অক্সিজেন আর স্যালাইন ছাড়া কিছু পাবে না? মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস জানালেন, এই সমস্যা প্রায় সর্বত্র। উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা তো দেওয়া যায়। পারিবারিক সূত্রের খবর, তহমিদা খাতুনের টাইফয়েড হয়েছিল। জ্বরের কারণ সেটাই। টাইফয়েড যদি সেপসিসের পর্যায়ে পৌঁছয় তবে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এক্ষেত্রে কী হয়েছিল তা আর এখন বোঝার উপায় নেই। তবে, ডেথ সার্টিফিকেট যে অসম্পূর্ণ তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অরিন্দমবাবু। তাঁর মতে, “গাফিলতির প্রমান বহন করছে ডেথ সার্টিফিকেট। মৃতু্যর কারণ কখনও ‘টাইপ টু রেসপিরেটরি ফেলিওর’ হতে পারে না। তদন্ত হওয়া উচিত।”

[আরও পড়ুন: ফের রাজ্যে রেকর্ড করোনা সংক্রমণ, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় আড়াই হাজার]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.