সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: দেশের এই সংকটকালে ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখন পুলিশের দায়িত্ব বেড়েছে। যেমন লকডাউন ভেঙে রাস্তাঘাটে মানুষজনকে ঘুরতে দেখলে, তাঁদের শাস্তি দিতে হবে, সেইসঙ্গে ঘরবন্দি মানুষজনের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াও তাঁদের কাজ। আর তা বুঝতে পেরে আইনরক্ষকরাও এগিয়ে এসেছেন। শুধুমাত্র রেশন বণ্টনকারীদের উপর নির্ভর না করে পুলিশ নিজেই জনগণকে সাহায্য করতে নেমেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দিকে দিকে উর্দিধারীদের দেখা গেল বন্ধু রূপে।

ডায়মন্ড হারবারে লকডাউন চলাকালীন বিপদে পড়া ৭৫ বছরের এক প্রবীণ মহিলাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। বাড়িতে একা থাকা ওই মহিলার গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ায় রান্না করে খেতে পারছিলেন না। শুক্রবার সে কথা জানতে পেরেই পুলিশ নগদ টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এমনকী গ্যাস ওভেনের সঙ্গে ওই নতুন সিলিন্ডারের সংযোগও করে দিয়ে আসে পুলিশ। এছাড়া ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের উদ্যোগে এই জেলায় আটকে পড়া ভিনরাজ্যের মানুষজনকে নিজে হাতে পরিবেশ করে খাওয়ালেন ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি।
[আরও পড়ুন: বিদেশফেরতদের চিহ্নিতকরণ শুরু উত্তরপাড়ায়, বাড়ির বাইরে দেওয়া হল নোটিস]
একই ছবি দেখা গেল নদিয়ার তেহট্টে। লকডাউন চলাকালীন এলাকার যাদের ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলে এবং যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার, ভবঘুরে মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জনের এক সপ্তাহের আহার দেওয়ার কাজ শুরু করল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাঁদের হাতে চার কিলো চাল, দু কিলো আলু, ৫০০ গ্রাম লবণ, সাবান, তেল-সহ রান্নার সামগ্রী তুলে দেওয়া হল। তবে দাঁড়িয়ে থেকে সুশৃঙ্খলতার সঙ্গে গোটা কাজটাই করালেন পুলিশকর্মীরা।

রাস্তার ভবঘুরেরা যাতে অভুক্ত না থাকেন, সেদিকেও নজর দিল মালদহ জেলা পুলিশ প্রশাসনও। শুক্রবার দুপুরে শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভবঘুরে এবং মানসিক ভারসাম্যহীনদের হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট তুলে দিলেন স্বয়ং মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে এই আশ্রয়হীনদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন মালদহের এসপি। সেইসঙ্গে তাঁদের হাতে তিনদিনের খাবারের একটি প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। সেই প্যাকেটে ছিল চিঁড়ে, মুড়ি, গুড়, দুধ, কলা ও জলের বোতল। ভবঘুরেদের পরিয়ে দেওয়া হয় মাস্কও। এসপি অলোক রাজোরিয়া বলেন, “আপাতত খাবারের যে প্যাকেজটা ওঁদের হাতে তুলে দেওয়া হল তা অন্তত তিন-চার দিন চলবে। থানার আইসিদের এই কাজটি করে যেতে বলা হয়েছে। ভবঘুরে মানুষজন যাতে অভুক্ত না থাকেন, সেটা পুলিশ দেখবে।”
[আরও পড়ুন: লকডাউনে স্তব্ধ রোজগারের রাস্তা, ড্রামভরতি দুধ পুকুরে ফেলে প্রতিবাদে দুগ্ধ ব্যবসায়ীরা]
এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশও। জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশ নিজে হাতে সকলকে চাল, ডাল-সহ রেশন সামগ্রী তুলে দিলেন সংশ্লিষ্ট থানার আধিকারিকরা। দুশ্চিন্তার সময়ে তাঁদের এই ভূমিকায় ভরসা পেলেন সাধারণ মানুষ।

হুগলির বলাগড় থানা এলাকায়ও একই ছবি। থানা থেকে বহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। শুধু পুলিশই নয়, লকডাউনের দিনগুলোয় ঘরবন্দি মানুষকে যাবতীয় সুযোগসুবিধা দুয়ারে পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছেন আরও অনেকে। এভাবেই কঠিন সময়ে একে অপরের হাত ধরে পেরিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
সর্বশেষ খবর
-
‘সহ অভিনেত্রী হাঁড়ির খবর রাখে!’ সুনীতাকে ‘খুনি’ কটাক্ষে কোমলকে তোপ গোবিন্দার ভাগ্নে বউ কাশ্মীরার
-
খালি পেটে খেলতে হয়েছিল ফাইনালে! এশিয়াডে সোনা জিতে অজানা তথ্য ফাঁস কবাডি অধিনায়কের
-
বেআইনি চক্রের ষড়যন্ত্র! বর্ধমানের নার্সিংহোমে শিশুমৃত্যুতে গ্রেপ্তার ২ কর্ণধার
-
অর্থের অভাবে জোটেনি শিক্ষক, কনস্টেবলের ‘বিনামূল্যের’ কোচিংয়ে পড়েই পুলিশে চাকরি ২১ জনের
-
মুসলিম বলেই নাবালিকা স্ত্রী’র সঙ্গে যৌন সম্পর্কে ছাড় নয়! বড় সিদ্ধান্ত দিল্লি হাই কোর্টের