করোনা যোদ্ধা

নামেই শ্রদ্ধা, মেদিনীপুরে সামাজিক বয়কটের মুখে করোনা যোদ্ধারা

শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল করে বিরূপ মন্তব্যও করা হচ্ছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২২, ২০২০, ২১:৩৯

options
link
নামেই শ্রদ্ধা, মেদিনীপুরে সামাজিক বয়কটের মুখে করোনা যোদ্ধারা
ছবি: প্রতীকী

সম্যক খান, মেদিনীপুর: একদিকে করোনা যোদ্ধাদের শ্রদ্ধায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অপরদিকে তাঁদেরকেই সামাজিক বয়কটের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদেরকে খাবারের জল পর্যন্ত সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের ঘরের জানালা দরজাও খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল করে বিরূপ মন্তব্যও করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব ঘটনা ঘটে চলেছে মেদিনীপুর শহরের বেসরকারি নির্ণয় হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে। শহরবাসীর একাংশের এধরনের আচরণ দেখে চরম অপমানিত ও ক্ষুব্ধ বোধ করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এভাবে চলতে থাকলে তাঁরা শহর থেকে চিকিৎসা পরিষেবা চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে হাত গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবতে পারেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ওই হাসপাতালে এক রোগীর করোনা পজিটিভ হওয়াকে কেন্দ্র করে। ঘাটাল মহকুমা থেকে আসা ওই বৃদ্ধ বুকে পেসমেকারের সমস্যা নিয়ে গত ১ মে মেদিনীপুরের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। পরদিনই তিনি কলকাতায় অপর এক বেসরকারি হাসপাতালে রেফার হয়ে যান। পরে সেখানেই তার শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। তখন থেকেই শহরবাসীর একাংশ বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করেছিলেন ওই হাসপাতালের কর্মীদের। পরে তা আরও বেড়ে যায় ওই বৃদ্ধের সেবায় নিযুক্ত থাকা এক নার্সও করোনা পজিটিভ হওয়ায়। বর্তমানে দুই রোগীই সুস্থ হয়ে করোনা হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। এমনকি হাসপাতালের বাকি প্রায় ১৫০ স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু থেমে থাকেনি সামাজিক বয়কট। সাবধানতার জন্য ওই হাসপাতাল ও রবীন্দ্রনগরে থাকা নার্সদের মেস দুটিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করে কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় রেখেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্যদপ্তর। সেখানেই আটকে আছেন প্রায় ১৫০ কর্মী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

হাসপাতালের ম্যানেজার সুজিত শর্মা বলেছেন, সবকটি জায়গাতেই চলছে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর চরম মানসিক নির্যাতন। তাঁদেরকে দরজা জানালা খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের জল নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদেরকে একটু দরজার বাইরে দেখলেই তাদের ছবি তুলে বা বাড়ির ছবি তুলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করে নানান তির্যক মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি তারা নাকি করোনার কারখানা- এধরনের টিটকিরিও শুনতে হচ্ছে। যা দেখে মনোবল ভাঙছে কর্মীদেরও। নির্ণয় হাসপাতালের অন্যতম মালিক ডা. কাঞ্চন ধাড়া ও ডা. এস বি পাণ্ডে বলেছেন, তাঁরা সরকারের সমস্ত নির্দেশিকা পালন করে চলেছেন। সরকারের নির্দেশিকায় আছে কোনও মুমুর্ষু রোগীকে ফেরানো যাবে না। তাঁরা এভাবে রোগী ফিরিয়ে দিলে কি সেটা ভাল হত? কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই যেখানে বলছে করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের সকলকে এগিয়ে যেতে হবে সেখানে আমাদের অপরাধ কোথায়। অতীত যুগের উঁচু জাতি নিচু জাতির ন্যায় আমাদের সঙ্গেও অচ্ছ্যুৎ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আবাসনে, বাড়িতে থাকার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ প্রতিবেশীরাই প্রয়োজনে সবার আগে এইসব হাসপাতালেই সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের আচরণে ব্যথিত তারা।

Advertisement

উল্লেখ করা যেতে পারে, এর আগে মেদিনীপুর শহরের আরেক বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একইধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বারংবার পুলিশকে গিয়ে এলাকাবাসীকে বোঝাতে হয়েছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেছেন, প্রতিবেশী তথা সাধারন মানুষের এটা বোঝা উচিত যে করোনার বিরুদ্ধে যাঁরা সামনে থেকে লড়াই করছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফলে তাঁদের মনোবলে আঘাত নয়, তাঁদের উৎসাহ দিন। কারণ নিজে অসুস্থ হলে ওই স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সাহায্য নিতে হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.