মনিরুল ইসলাম, হাওড়া: লকডাউন (Lockdown) হলেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে রাস্তায় বেরোতেই হবে। সংক্রমণ এড়াতে এক হাত দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। তাই নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে অভিনব পন্থ নিলেন ডোমজুড়ের মাকড়দহের বাসিন্দা সুভাষ ঘড়ুই। এক মিটার দূরত্ব সম্বলিত লোহার রড দিয়ে খাঁচা তৈরি করে তা নিজে পরে তবে রাস্তায় বের হচ্ছেন সুভাষ ঘড়ুই।
করোনা মোকাবিলায় কি না করছেন মানুষ। কেউ ছাতা গায়ে পরছেন কেউ বা বেলুনের আবরণ দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলছেন। করোনার আতঙ্ক একদিকে যেমন মানুষকে সজাগ করে তুলেছে তেমনই নানা নতুন উপায় বাতলে সংক্রমণ রোধেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ। নিজেকে মারণ ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে ডোমজুড়ের বাসিন্দা সুভাষ ঘড়ুই এক মিটার দূরত্ব সম্বলিত লোহার রড দিয়ে খাঁচা তৈরি করে নিজের গায়ে পরে রাস্তায় বের হন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে একলা চলার পন্থাই অবলম্বন করেছেন সুভাষ বাবু। তবে তাঁর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। সুভাষবাবু বলেন, “সারা বিশ্ব এখন করোনা সংক্রমণে কাঁপছে। আমাদের দেশের সরকার ও রাজ্য সরকার যথাসাধ্য প্রচার চালাচ্ছে জনসাধারণের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার। তবে তাদের কথা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। কিন্তু হাটে বাজারে গেলেই দেখা যায় সরকারের কথা লোকেদের কানে ঢুকছে না। তারা একে অপরের গায়ে উঠে পড়ছে। প্রতিবাদ করলে উলটে সমস্যা তৈরি হয়। তাই নিজের ভালোটা নিজেই বোঝার চেষ্টা করলাম। শেষে রবি ঠাকুরের আশ্রয় নিলাম। তাই এই খাঁচা বানানো। এটা দেখে যেন লোকেরা সচেতন হন, সেই প্রচেষ্টাও করেছি। এটা পরেই রাস্তায় বাজার-হাট করছি।”
[আরও পড়ুন:মিলল রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলের ছাড়পত্র, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরি করবে বেঙ্গল কেমিক্যালস]
কিভাবে তৈরি এই খাঁচা? জানতে চাইলে পেশায় মোটর ম্যাকানিক সুভাষবাবু দেখান, নিজের কোমরে একটি রিং আটকে সেই রিং থেকে বেরিয়ে রয়েছে এক মিটার লম্বা কয়েকটি রড। রডের মাথায় লাল, সাদা, কালো রঙের কাপড় তিনি ঝুলিয়ে রেখেছেন। সুভাষবাবুর ব্যাখ্যা, লাল কাপড় দিয়ে বোঝানো হয়েছে বিপদের সঙ্কেত। এক মিটার দূরত্ব টপকালেই বিপদ। আর পিছনের দিকে রয়েছে কালো কাপড়। অর্থাত বিপদের কালো ছায়া বোঝাতে এটা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাড়িতে নয় রীতিমত করোনা মোকাবিলা করতে এক গ্রীল কারখানায় বরাত দিয়ে এই খাঁচা বানিয়েছেন তিনি। খাঁচাটির নাম দিয়েছেন বাঁচার সঙ্গী।
[আরও পড়ুন:লকডাউনকে থোড়াই কেয়ার, জুম্মার নমাজ পড়তে মসজিদে হাজার লোকের ভিড়!]
লকডাউনের জেরে একদিকে মানুষ বন্দি বাড়িতে অন্যদিকে বাড়ছে আর্থিক মন্দা। ফলে কাউকে কিছু বোঝানোই ঝকমারি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত সুভাষ ঘড়ুইয়ের কথায়। তাই ঝামেলায় না গিয়ে নিজেকে রক্ষা করার পথই বেছে নিলেন তিনি। সরকারেপ উদ্যোগকে বারবার ধন্যবাদ জানালেন তিনি।
সর্বশেষ খবর
-
হাসিনা কাঁটা এড়িয়ে আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে তারেক! ইতিবাচক কূটনৈতিক মহল, কী বলছে ঢাকা?
-
ব্রিটিশ আমলেও অন্যের অধীনে ছিল ভারতের এই রাজ্য়, ৩৬ ঘণ্টার ‘অপারেশন বিজয়ে’ মেলে স্বাধীনতা
-
কৌতুক না উপহাস! দিব্যাঙ্গ বিতর্কে ‘সুপ্রিম’ স্বস্তি সময় রায়নার, সব মামলা খারিজ
-
অভিভাবকের সামনেই ছাত্রের ‘গলা টিপে’ মারধর প্রিন্সিপালের, স্কুলে ব্যাপক ভাঙচুর, পুলিশের লাঠিচার্জ!
-
‘স্কুলের কাজ সামলে সেনসাস কীভাবে?’ জনগণনায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের