‘সর্বশক্তিময় তৈল নানারুপে সমস্ত পৃথিবী ব্যাপ্ত করিয়া আছেন। তৈলের যে-মূর্তিতে আমরা গুরুজনকে স্নিগ্ধ করি তাহার নাম ভক্তি, জাহাতে গৃহিণীকে স্নিগ্ধ করি তাহার নাম প্রণয়, জাহাতে প্রতিবেশীকে স্নিগ্ধ করি তাহার নাম মৈত্রী, যাহা দ্বারা সমস্ত জগৎকে স্নিগ্ধ করি তাহার নাম শিষ্টাচার ও সৌজন্য ‘ফিলিনথ্রপি’। …অনেকের নিকট তৈল দিয়া তৈল বাহির করি।’ বহুকাল আগেই হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছিলেন এমনটা, বলা বাহুল্য, এ কথা বর্তমান সময়েও একইভাবে প্রাসঙ্গিক।
আরও পড়ুন:

চলতি বছরে বেহালা ক্লাব সর্বজনীন দুর্গোৎসব সেই ‘সর্বশক্তিমান’ তেলকেই বেছে নিয়েছে থিম হিসেবে। অবাক হলেন? ভ্রু জোড়া শূন্যে উঠল বুঝি? হওয়ারই কথা। তেলের মাহাত্ম্য বোঝানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন শিল্পী প্রদীপ দাস। আসলে, মানুষ যতখানি অনুধাবন করে, দৈনন্দিন জীবনে তেলের গুরুত্ব তার চাইতে অনেক বেশি। কর্মক্ষেত্রে হোক বা পারিবারিক পরিসরে, যেচে কাউকে তোয়াজ করে চললে, ‘তেল দিচ্ছে’ অতি সহজেই বলে থাকি আমরা। তবে এই তেলই যে মানুষকে বহু সময় এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেই গিয়েছেন সে কথা।
রান্নাঘরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এটি। স্বাস্থ্যকর খাবারের হুজুগ এড়িয়ে বাঙালির রান্নাঘরে তেলের পাকাপাকি ঠাঁই। কেবল বাহুল্য তো নয়, তেল সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তা। তার দাম আচমকা ঊর্ধ্বমুখী হলে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়ে গৃহস্থের। মন্দির, বাজার, বাড়ির কাজের অদৃশ্য সেতুখানি নির্মাণে যা যা লাগে, তার মধ্যে অন্যতম তেল। তেলের যাত্রাপথে জড়িয়ে থাকে আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস, শ্রম ও অর্থনীতি।
তেলের জন্য দেশে দেশে যুদ্ধ লাগে। রান্নাঘরে যে আচমকা তেলের অপ্রতুলতা, তার নেপথ্যে তো এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যুদ্ধই! বেহালা ক্লাবের পুজো মণ্ডপ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে কীভাবে রাজায় রাজায় যুদ্ধে উলু খাগরার প্রাণ যায়। দেখা যাবে তেলের জন্য মানুষের নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম। আর এ সবের মাঝেই অধিষ্ঠান করছেন দেবী। প্রতিমা গড়ছেন পিন্টু শিকদার। জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি।

অন্যদিকে ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কে তৈরি হয়েছে কয়লার খনি! মণ্ডপে ঢুকছে টন টন কয়লা। অবাক হলেও সত্য। ৫৬তম শারদ উৎসবে তাদের থিম ‘কোলিয়ারি’, শিল্পী রাজু সরকার। মূলত রানিগঞ্জ কয়লাখনি অঞ্চলের অতীত গৌরব এবং বর্তমানে বহু খাদানের করুণ পরিস্থিতি ফুটে উঠবে মণ্ডপে। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের হাত ধরে যে শহর কয়লা উত্তোলনের সাক্ষী থেকেছে, সেই স্থানে আজ দুর্নীতি আর অনটনের আঁধার। পুজো কমিটির সদস্য সঞ্জয় মজুমদার জানান, যুগের পর যুগ কেটে যাচ্ছে অথচ কয়লাখনি এলাকার মানুষদের জীবনে বদল ঘটেনি। এখানকার বাচ্চারা ছোটবেলা থেকেই কয়লা পাচারে জড়িয়ে পড়ে। আবার কয়লা শ্রমিকদের জীবন ও আর্থিক নিরাপত্তা থাকে না। অথচ এই কয়লার উপরই দাঁড়িয়ে ঝাঁ চকচকে আধুনিক সভ্যতা। আলো আর অন্ধকারের এই বৈপরীত্যই এবার এসবি পার্কের ইউএসপি।
এখানে মণ্ডপ থাকছে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায়। ২০ ফুট নিচে নেমে কয়লাখনি দেখতে পাবেন দর্শকরা। প্রতিমাতেও থাকছে বিশেষ চমক। উদ্যোক্তারা বলছেন, দশভুজা যেন এখানে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবেই আবির্ভূত। বাকিটা, ক্রমশ প্রকাশ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নেই খিচুড়ি বা ভাত, ডাল-সবজি-ডিমেই মিড ডে মিল শ্যামপুরের অঙ্গনওয়াড়িতে
-
‘বিগ বস বাংলা’র দূর্গে হবে রবিবাসরীয় ধামাকা, দাদার দরবারে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ প্রসেনজিৎ!
-
সতীর্থদের সমালোচনা করা বিতর্কিত পোস্টে ‘লাইক’, জাতীয় দলের সঙ্গে আরও দূরত্ব বাড়ছে রোনাল্ডোর?
-
ডিজে বিটে রাশ, ঢাকের বোলেই আগমনির মেজাজ শহরে! বাড়তি বায়নায় ঢাকির ঘরে ‘আলো’
-
বিরাটির পর দত্তপুকুর, সিপিএমের একের পর এক কার্যালয়ে আগুন! ব্যাপক উত্তেজনা