সিপিএমের সভায় হামলার ঘটনায় গতকাল, শুক্রবার উত্তেজনা ছড়িয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে। রাতেই দত্তপুকুরের সিপিএমের একাধিক পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল! দুটি ঘটনাতেই অভিযোগের তির রাজ্যের শাসক দল বিজেপির দিকে। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় সিপিএমকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বাম নেতাদের। যদিও এই অভিযোগ আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতারা।
দত্তপুকুরে রাতভর একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ। পাঁচটি পার্টি অফিসে ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বামেদের। শনিবার সকালে ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সিপিএমের অভিযোগ, হামলাকারীরা রড ও হাতুড়ি নিয়ে অফিসগুলিতে তাণ্ডব চালায়। ভাঙা হয় আসবাবপত্র। দেওয়ালে থাকা বাম নেতাদের ছবিও খুলে ভাঙা হয়েছে। ঘটনায় সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম।
আরও পড়ুন:

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খানের বক্তব্য, “রাতের অন্ধকারে বিজেপি এই হামলা চালিয়েছে।” শুক্রবারই বারাসত ১ বিডিও অফিসে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছিল সিপিএম। সেই কর্মসূচির পর রাতেই পার্টি অফিসগুলিতে হামলা হওয়ায় দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেছে সিপিএম।
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতা অরিন্দম দে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আমাদের দলের নাম জড়ানো হচ্ছে।” এদিকে, একই রাতে হাবড়াতেও বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। হাবড়া ১ নম্বর রেলগেটের কাছে এসএফআইয়ের পথসভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের মারধরের অভিযোগ করেছে এসএফআই। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ঘটনায় হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এসএফআইয়ের সভা ঘিরে সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর রাতভর বিরাটি এলাকাতেও উত্তেজনা ছিল। বামেদের একাধিক কার্যালয় ও শহিদ বেদিতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। ভাঙা হয়েছে ‘গণশক্তি’র বোর্ডও। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
এসএফআইয়ের সভা ঘিরে সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর রাতভর বিরাটি এলাকাতেও উত্তেজনা ছিল। বামেদের একাধিক কার্যালয় ও শহিদ বেদিতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। ভাঙা হয়েছে ‘গণশক্তি’র বোর্ডও। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। সিপিএমের অভিযোগ, সভার পর পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পুলিশ হামলাকারীদের আটকানোর বদলে আড়াল করেছে। এর বিরুদ্ধে বিরাটিতে দ্রুত প্রতিবাদে নামব।” অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি বলেন, “এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। সভায় দেশবিরোধী স্লোগানের প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয়রা। উল্টে বামেদের হাতে যুব মোর্চার মহিলা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সন্ধেয় জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে মিছিল, রাতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সিপিএম পার্টি অফিস!
-
হারের ভয়ে পারিবারিক ‘গড়’ রায়বরেলিতেও লড়তে চাননি রাহুল, বিস্ফোরক অখিলেশের দলের সাংসদ
-
মহালয়ার আগেই বর্ষার বিদায়ঘণ্টা! পুজো বৃষ্টিহীন? কী জানাল হাওয়া অফিস
-
ছুরির কোপেও অটল! ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে ‘বীর’ পাইলট মচ্ছর-মোদিকে আমন্ত্রণ নেতানিয়াহুর
-
পুজোর আগে খুশির খবর! সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদেরও ৮.৩৩ শতাংশ বোনাস