Durga Puja 2026

সংকল্পে বসেন ওসি, এবার ‘মা দুর্গার সৃষ্টি’ থিমে পুজো হবে কলকাতার কোন থানায়?

ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের তেজ থেকে কীভাবে মহিষাসুরমর্দিনীর সৃষ্টি হল, তা-ই তুলে ধরা হবে এই পুজোয়।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১৪:৩১

options
link
সংকল্পে বসেন ওসি, এবার ‘মা দুর্গার সৃষ্টি’ থিমে পুজো হবে কলকাতার কোন থানায়?
ফাইল ছবি

দুর্গা প্রতিমার সামনে বেজে ওঠে ঢাক। ধূপ ও  ধুনোয় ভরে ওঠে মণ্ডপ। সঙ্গে পুরোহিতের শুদ্ধ সংস্কৃতে মন্ত্রোচ্চারণ। মহাষষ্ঠীতে ঘট স্থাপনের সময় পট্টবস্ত্র পরে যিনি সংকল্পে বসেন, তিনি থানার ওসি। দশ বছরে পা দিল কলকাতা পুলিশের কোনও থানা আয়োজিত পুজো শেক্সপিয়র সরণি সার্বজনীন। এই পুজোর আয়োজক শেক্সপিয়র সরণি থানা। ২০১৬ সালে থানার উল্টোদিকে অত‌্যন্ত ছোট করেই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মূল উদ্দেশ‌্য এলাকার বাসিন্দাদের মাধ‌্যমে জনসংযোগ। তাই এগিয়ে এসেছেন এলাকার বাসিন্দারা। আর এই বছর এই পুজোই ‘থিমের পুজো’। পুজোর থিম ‘মা দুর্গার সৃষ্টি’। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের তেজ থেকে কীভাবে মহিষাসুরমর্দিনীর সৃষ্টি হল, তা-ই তুলে ধরা হবে এই পুজোয়।

Advertisement

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শেক্সপিয়র সরণি থানার প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে সেরকম কোনও পুজো নেই। আবার শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বেশিরভাগই থাকেন বহুতলে। আবার একাংশ থাকেন নিজস্ব বাড়িতে। বেশিরভাগই পেশায় ব‌্যবসায়ী বা শিল্পপতি। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। পুলিশের প্রয়োজন ছিল জনসংযোগের। আর মূলত জনসংযোগের জন‌্যই থানার তৎকালীন ওসি সুজিত চক্রবর্তীর উদ্যোগে শুরু হয় দুর্গাপুজো। জনসংযোগের সঙ্গে সঙ্গেই এই পুজোয় পুরো শহর ও কলকাতা পুলিশের মঙ্গল কামনা করা হয়। পুজোর জন‌্য বাজার থেকে শুরু করে ডেকরেটার্সদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিমা পছন্দ করে কেনা, মণ্ডপসজ্জা, আলো, মাইক, ফুল, ফল, পুজোর যাবতীয় উপকরণ, ঢাকি, আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা-সহ সবকিছুই নিজেদের হাতে করেন শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রথম বছর থেকেই থানার পক্ষে এলাকার বাসিন্দাদের আবেদন জানিয়ে বলা হয়, তাঁরা যেন পুজোয় যোগ দেন। প্রতিমা দর্শন করেন। প্রথম কয়েক বছর কম সংখ‌্যক বাসিন্দা পুজোয় যোগ দিতেন। কিন্তু ক্রমে আরও বাসিন্দা এগিয়ে আসেন। অনেকেই জানিয়ে দেন, তাঁরা স্বতঃপ্রোণিতভাবে পুজোয় বিভিন্নভাবে সাহায‌্য করতে চান। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এই বছর এলাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এগিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি তাঁদের সঙ্গে বৈঠকও হয় থানার আধিকারিকদের। পুজো ভালো করে সম্পন্ন করতে তাঁরা বিভিন্নভাবে পুলিশকে সাহায‌্য করবেন বলে জানান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকবারের মতো পঞ্চমীতে হবে পুজোর উদ্বোধন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীর দিন পুরোহিতের সঙ্গে বসে নিষ্ঠাভরে সংকল্প করবেন থানার ওসি অয়ন ভৌমিক। সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন থানার অতিরিক্ত ওসি, অন‌্য আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা। বোধনের পর সব নিয়ম মেনে হবে পুজো। পুলিশের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা প্রত্যেকদিন পুষ্পাঞ্জলি দেন।

Advertisement

এছাড়াও পুজো ও পুষ্পাঞ্জলি দিতে আসেন নিকটবর্তী একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরাও। এই পুজোয় টানা চারদিন ভোগ হয়। একাধিক ধর্মীয় সংগঠন, ব‌্যবসায়ী সংস্থা ভোগের দায়িত্ব নেয়। মহাষ্ঠমী ও মহানবমীতে কয়েক হাজার মানুষও ভোগ নিতে আসেন। পুজোর প্রত্যেকদিন আয়োজন হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর পুজো উদ্যোক্তা, তথা ওই থানার পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পুজোর কাজ ছাড়াও করতে হয় পুজোর ডিউটি। এই বছর পার্ক স্ট্রিটের অ‌্যালেন পার্কের পুজোর আইন ও শৃঙ্খলার মূল দায়িত্ব বর্তাবে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের উপর। তার মধ্যেও তাঁরা নিজেদের নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো সম্পন্ন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.