এক বছরে পুলিশ হেফাজতে ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে (Death in Police Custody)। অর্থাৎ, প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একজন। এই তথ্য যে কোনও সভ্য দেশের পক্ষেই লজ্জাজনক।
আরও পড়ুন:
সভ্য দেশ পরিচালিত হবে আইনের শাসনে, এটাই দস্তুর। কিন্তু আইনের শাসন যদি মানুষের উপকারের বদলে গলার ফঁাস হয়ে দঁাড়ায়, তাহলে আর কী বাকি থাকে? ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক কাঠামোয় অনেক বিষয় সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় না। ইচ্ছে থাকলেও না। কারণ, পরিকাঠামোর অভাব। পাশাপাশি ভারতে সদিচ্ছার বড় অভাব। তার উপর আইন না মানার প্রবণতাও রয়েছে ষোলোআনা। যে যত বড় ক্ষমতাধর, সে-ই তত বেশি আইন লঙ্ঘন করে। এবং এই তালিকায় পুলিশের স্থান বেশ উপরের দিকেই।
পুলিশ যে নিজেরাই আইনের পরোয়া করে না, তার সর্বশেষ প্রমাণ সংসদে পেশ হয় কেন্দ্রীয় রিপোর্টেই। লোকসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ২০২৫-এর ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ, এক বছরে পুলিশ হেফাজতে ১৭০ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় একজন। এই তথ্য যে কোনও সভ্য দেশের পক্ষেই লজ্জাজনক। শিউরে ওঠার মতো। বাংলায় প্রবাদ আছে, ‘যে রক্ষক, সেই ভক্ষক’। এ কথা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এ দেশের জনগণ।
ভারতে সদিচ্ছার বড় অভাব। তার উপর আইন না মানার প্রবণতাও রয়েছে ষোলোআনা। যে যত বড় ক্ষমতাধর, সে-ই তত বেশি আইন লঙ্ঘন করে। এবং এই তালিকায় পুলিশের স্থান বেশ উপরের দিকেই।
জেলে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কখনও অসুস্থতা, কখনও সহ-বন্দির আক্রমণ আবার ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পনামাফিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অথচ বিচারাধীন বা দোষীর অপরাধ যাই হোক না কেন, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির দায়িত্ব হেফাজতকারীর। তাতে খামতি থাকলে তদন্ত করে দোষীকে শাস্তি দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। কিন্তু ক’জন এমন ঘটনায় সাজা পায়, হাতে গুনে বলা যায়। আবার অনেক সময় কাউকে বলির পঁাঠা বানানো হয়।
অন্যদিকে, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ– অত্যাচার। স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ, মানসিক নির্যাতনের জেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। উর্দিধারীরা ভুলে যায়, বন্দিরাও মানুষ। তাদেরও কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। এখানেই উদ্বেগের শেষ নয়। কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে কয়েকশো হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় মাত্র একটি ক্ষেত্রে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ– অত্যাচার। স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ, মানসিক নির্যাতনের জেরে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। উর্দিধারীরা ভুলে যায়, বন্দিরাও মানুষ।
আবার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা বিজেপিশাসিত রাজ্যে সর্বাধিক। শীর্ষে বিহার, বাকি উল্লেখযোগ্য রাজ্য তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা। সবক্ষেত্রে ক্ষমতায় বিজেপি। হতে পারে কাকতালীয়। আবার প্রশাসন এ নিয়ে গুরুত্ব দেয় না, সেটাও হওয়া অসম্ভব নয়। কারণ যাই হোক, একজন মানুষের জীবন এইভাবে চলে যাওয়া হালকাভাবে নেওয়া যায় না। ঘৃণ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও না। গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভ নিজের কাজ সঠিকভাবে করা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত করা বা শাস্তি দেওয়ার অধিকার প্রশাসনের নেই। তার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। সেই অধিকার লঙ্ঘন করে পুলিশ বা জেল কর্তৃপক্ষ নিজের হাতে আইন তুলে নিলে তা লজ্জার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে সমূহ বিপদ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মানসিক ফাঁদে পা নয়, বাজারের সঙ্গে সঙ্গে ‘আচরণ’ বদলাতে হবে লগ্নিকারীদেরও
-
এবার কলকাতাতেও ইথানল মিশ্রিত পেট্রল, কোন কোন জায়গায় মিলবে এই পরিষেবা
-
সবার দল ভাঙাচ্ছেন বিজয়, রাজ্যপালের কাছে একযোগে নালিশ ডিএমকে-বিজেপি-এআইএডিএমকের
-
সংগঠনে একঝাঁক নতুন মুখ! চলতি মাসেই রদবদলের সম্ভাবনা রাজ্য বিজেপিতে
-
গুলশন কলোনিতে অস্ত্র হাতে দাপাদাপি! অবশেষে সাগরেদ-সহ পুলিশের জালে কুখ্যাত ‘মিনি ফিরোজ’