২০২২ সালে ‘ইকোনমিকা’ জার্নালে প্রকাশিত ‘দ্য ১৫ আওয়ার উইক: কেইনস্’স প্রেডিকশন রিভিজিটেড’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে সাসেক্স ও ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ক্রাফট্স এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন– কেইন্সের ভবিষ্যদ্বাণী সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিষয়ে বাস্তবায়িত হবে না। তবে তিনি তুলে ধরেছেন অন্য আরেক আকর্ষণীয় বিষয়– ১৯৩১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ব্রিটেনে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের প্রত্যাশিত জীবনকালে অবসর ও গৃহস্থালি কাজের সময়।
আরও পড়ুন:
এই ২৫ সেপ্টেম্বর চলে গেল এক অন্য ধরনের শতবর্ষ। সভ্যতার ইতিহাসে একটা মাইলস্টোনের ১০০ বছর পূর্তি। ১৯২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হেনরি ফোর্ডের ডেট্রয়েটের কারখানায় আসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সপ্তাহে ৬ দিনের কর্মদিবস কমিয়ে করা হল ৫ দিন (Henry Ford 5 Day Workweek)। তবে দৈনিক কাজের সময় বহাল থাকে সেই ৮ ঘণ্টাই। আর, গুরুত্বপূর্ণ হল, এজন্য কর্মীদের বেতনেও করা হল না কোনও রকমের কাটছাঁট। শ্রমের ইতিহাসে এ এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা– এক যুগান্তর।
ফোর্ড কোম্পানিতে এই বিপ্লব অবশ্য হঠাৎ ঘটেনি। এর এক দশক আগে, ১৯১৬ থেকেই, এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার শুরু। এবং ১৯২৬-এ যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তা নেওয়া হয়েছিল ১৯২২ সালে। হেনরি ফোর্ডের ছেলে এবং সংস্থার প্রেসিডেন্ট এডসেল ফোর্ড মনে করেছিলেন, সপ্তাহে ১ দিনের বেশি অবসরের প্রয়োজন প্রত্যেকের।
অবশ্য মানুষ যে চিরদিন এতটা খাটাখাটি করে এসেছে, তেমন নয়। মনে করা হয় যে, মানব ইতিহাসের ৯৫ শতাংশ সময় জুড়েই মানুষ কাজ করত সপ্তাহে গড়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টা। ১৭৬০ সালে শুরু হল প্রথম শিল্প বিপ্লব। কাজের ক্ষেত্র মাঠ বা কৃষি থেকে স্থানান্তরিত হল কারখানায়। কর্মঘণ্টাও গেল ব্যাপকভাবে বেড়ে। এতটাই যে ১৮০০ শতকের শেষের দিকে শ্রমিকদের সপ্তাহে ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করাটাও কোনও অস্বাভাবিক বিষয় রইল না। মোটামুটি ১৮৭০ নাগাদ শুরু হওয়া ‘দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব’-এর পরও মানুষ কাজ করেছে দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা করে, সপ্তাহে ৬ দিন। সে সময় দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধারণা ছিল, যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত আমাদের মুক্তি দেবে কায়িক শ্রমের বোঝা থেকে। যন্ত্র আমাদের সমৃদ্ধ করবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং দিনশেষে মানুষ আরও বেশি সময় পাবে নিজের জন্য, পাবে বর্ধিত অবসর। ভাবতে অবাক লাগতে পারে, ফোর্ডের সেই শ্রমবিপ্লবের ১০০ বছর পরেও কিন্তু আমরা ভাবছি সেই একই কথা– আমরা এত কঠোর পরিশ্রম করি কেন?
ফোর্ড কোম্পানিতে এই বিপ্লব অবশ্য হঠাৎ ঘটেনি। এর এক দশক আগে, ১৯১৬ থেকেই, এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার শুরু। এবং ১৯২৬-এ যে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তা নেওয়া হয়েছিল ১৯২২ সালে।
প্রশ্নটি বিশেষ কৌতূহলকরও বটে। কারণ, ইতিমধ্যে প্রযুক্তি তো এগিয়েছে দ্রুতগতিতে। উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে দেদার। আশা ছিল, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমবে মানুষের কাজের সময়। কিংবদন্তি ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইন্স স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন এই স্বপ্নের ছবিটা। ফোর্ডের শ্রমবিপ্লবের ৪ বছর পরে, ১৯৩০ সালে কেইন্স লিখেছিলেন এক আকর্ষণীয় প্রবন্ধ: ‘ইকোনমিক পসিবিলিটিস ফর আওয়ার গ্র্যান্ডচিলড্রেন’। এতে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০৩০ সাল নাগাদ সপ্তাহে মাত্র ১৫ ঘণ্টা কাজ করলেই চলবে। কেইনসের মতে, আমাদের অধিকাংশের মধ্যেই যে ‘পুরনো আদম’ বা সহজাত প্রবৃত্তি সুপ্ত থাকে, তার চাহিদা মেটানোর জন্য দিনে তিন ঘণ্টা কাজ করাই হবে যথেষ্ট।
২০৩০ তো প্রায় এসেই গিয়েছে। অথচ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের লক্ষ্য থেকে আমরা এখনও আলোকবর্ষ দূরে। আমাদের এখনকার যন্ত্রগুলো উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সঙ্গে। এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা– যা লেখালেখি, কোডিং, বিশ্লেষণ, অনুবাদ এবং সারসংক্ষেপ তৈরির মতো কাজ করে ফেলছে দক্ষভাবে। এআই আমাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে আরও নানাভাবে। তা সত্ত্বেও, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কাজের সপ্তাহ কিন্তু মোটামুটি আটকে আছে সেই পরিচিত গণ্ডিতেই– ঠিক যেমনটি নির্ধারণ করেছিলেন হেনরি ফোর্ড, এক শতাব্দী আগে।
এবার ফিরে দেখা যাক কেইন্সের ভবিষ্যদ্বাণীকে। কেইন্স সম্ভবত ধরে নেন যে, সম্পদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভোগবিলাসের চেয়ে অধিক প্রাধান্য দেবে অবসরকে। এমনকী, হেনরি ফোর্ডও তো যুক্তি দিয়েছিলেন, অবসর আসলে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে ভোগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে। অর্থাৎ, সপ্তাহে ৫ দিন কাজের যে নিয়ম চালু হয়েছিল ১ শতক আগে, তা ছিল প্রযুক্তি, বর্ধিত উৎপাদনশীলতা, সামাজিক চাপ এবং ব্যবসায়িক হিসেবনিকেশের এক সম্মিলিত রূপায়ণ। কিন্তু মানুষের স্বভাব অনেক বেশি জটিল। এরপর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। উৎপাদনশীলতা বাড়তে থাকল ক্রমাগত।
২০৩০ তো প্রায় এসেই গিয়েছে। অথচ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের লক্ষ্য থেকে আমরা এখনও আলোকবর্ষ দূরে। আমাদের এখনকার যন্ত্রগুলো উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সঙ্গে। এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা– যা লেখালেখি, কোডিং, বিশ্লেষণ, অনুবাদ এবং সারসংক্ষেপ তৈরির মতো কাজ করে ফেলছে দক্ষভাবে।
অথচ কাজের সপ্তাহের দৈর্ঘ্য কমল না সেই অনুপাতে। এর কারণ হল, সম্ভবত, উৎপাদনশীলতার আমাদের সামনে একটি বিকল্প বা পছন্দের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্জিত বাড়তি উৎপাদনশীলতাকে মানুষ রূপান্তরিত করতে পারে অবসরে, আবার তা না করে পরিবর্তে সে বাড়াতে পারে পণ্য ভোগের পরিমাণ। কোনটা যে মানুষ আর তার সমাজ করবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নিয়ম নেই। সম্ভবত তঁার ভবিষ্যদ্বাণীতে এই বিষয়টিই বিবেচনাই করেননি কেইনস। পরিবর্তে অনুমান করেছিলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে অর্জিত বস্তুগত প্রাচুর্য কমিয়ে দেবে আমাদের কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ও কাজ করার সময়। তার বদলেে তা আমাদের প্রত্যাশাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে সমানভাবে।
‘আলিবাবা’-র প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা আমাদের এক ‘ইউটোপিয়ান’ ভবিষ্যতের ধারণা দেন ২০১৯ সালে। তঁার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সঠিক শিক্ষাব্যবস্থার ফলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের হয়তো কাজ করতে হবে সপ্তাহে মাত্র ১২ ঘণ্টা– অর্থাৎ ৩ দিন, ৪ ঘণ্টা করে। তঁার যুক্তি ছিল, প্রযুক্তির ফল হওয়া উচিত মানুষকে মানুষ হিসাবে জীবন উপভোগ করার জন্য আরও বেশি সময় দেওয়া। ৭ বছর পর, এই কথা হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদীই ঠেকছে। কিন্তু প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভবত কেইনসের মতোই জ্যাক মা-ও ভুলে গিয়েছিলেন মানবস্বভাবের একটি বিষয়। এআই কোনও কাজ সম্পন্ন করার সময় কমিয়ে আনতে পারে, কিন্তু সমাজ কতটা কাজ করাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করবে তা তার নিজস্ব মানদণ্ড। এবং সমাজ নিজে থেকেই কমিয়ে দেয় না কর্মকাল।
দুনিয়ার ধনীতম মানুষ ইলন মাস্ক আবার গত কয়েক বছরে বারবার বলেছেন যে এআইয়ের ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এতটাই যে দুনিয়ার প্রত্যেকেই হতে পারে সেই মুহূর্তের ধনীতম মানুষের চেয়েও ধনী। এর ফলে, মানুষের কাজ করা হয়ে যেতে পারে ঐচ্ছিক– যেন সুপারমার্কেটে গিয়ে বাজার করার পরিবর্তে বাড়ির পিছনের বাগানে সবজি ফলানো।
মাস্কীয় কল্পনার জগৎকে ছেড়ে আমরা বরং চলে আসি হালের বাস্তব দুনিয়ায়। গত কিছু বছরে কর্মসপ্তাহের সময়সীমা কমিয়ে আনা নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছে দুনিয়ার নানা প্রান্তে। এবং তার কার্যকারিতার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। উল্লেখযোগ্য একটা পরীক্ষা হয়েছিল আইসল্যান্ডে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে, যাতে অংশ নিয়েছিল আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের কাজের সময় কমানো হলেও কমানো হয়নি পারিশ্রমিক। দেখা গিয়েছে যে, এর ফলে উন্নত হয়েছিল কর্মীদের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য এবং সামগ্রিক সুস্থতা। এমন পরীক্ষণ হয়েছে ব্রিটেনে, হয়েছে জাপান কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন কোম্পানিতে, হয়েছে আরও অনেক জায়গায়। অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষুদ্র গণ্ডিতে এইসব পরীক্ষার ফলাফল বেশ ইতিবাচক। তাই দুনিয়ার নানা প্রান্তে চারদিনের কর্মসপ্তাহের ঝোঁক ক্রমশ বাড়ছে।
এআই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে সেই পুরনো দর কষাকষির বিষয়টিকে। এই সেপ্টেম্বরেই, বার্নি স্যান্ডার্স এবং মার্ক তাকানো একটি বিল উত্থাপন করেছেন আমেরিকায়। এই বিলে রাখা হয়েছে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজের বিধান– আয় বা সুযোগ-সুবিধা না কমিয়েই। শুধুমাত্র ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ নিশ্চিত করতে চাইছে বলেই যে বিলটি গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, সেই সঙ্গে এটি খোঁজার চেষ্টা করছে একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর– প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সুফল ভোগ করবে কারা? এমনকী, ‘ওপেনএআই’-এর মতো কোম্পানিও প্রস্তাব দিয়েছে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার, যাতে কর্মীরা এআই-জনিত বর্ধিত উৎপাদনশীলতা থেকে পেতে পারে ‘এফিশিয়েন্সি ডিভিডেন্ট’।
তাহলে, কেইন্স কি ঠিক ছিলেন, না কি ছিলেন ভুল? কাজের সময়ের হিসাবের ক্ষেত্রে তিনি হয়তো ভুলই ছিলেন। ২০২২ সালে ‘ইকোনমিকা’ জার্নালে প্রকাশিত “দ্য ১৫ আওয়ার উইক: কেইনস্’স প্রেডিকশন রিভিজিটেড” শীর্ষক গবেষণাপত্রে সাসেক্স ও ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ক্রাফট্স এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন– কেইন্সের ভবিষ্যদ্বাণী সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিষয়ে বাস্তবায়িত হবে না। তবে তিনি তুলে ধরেছেন অন্য আরেক আকর্ষণীয় বিষয়– ১৯৩১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ব্রিটেনে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের প্রত্যাশিত জীবনকালে অবসর ও গৃহস্থালি কাজের সময়। এর নেপথ্যে আংশিক ভূমিকা রয়েছে মানুষের দীর্ঘায়ুর ও দীর্ঘ অবসরকালের। সুতরাং, সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টার সংখ্যার বিষয়ে কেইনস হয়তো ভুলই ছিলেন, কিন্তু মানব উন্নয়নের সামগ্রিক গতিপথের বিষয়ে তাঁর ধারণা সঠিক ছিল।
ঘটনা হল, মানবোন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব সুফল সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের সেই আদর্শ কাঠামোর রূপ নিয়ে আসেনি। এছাড়া, এটাও তো ঠিক যে, বহু মানুষের কাছেই কাজ মানে কেবল অর্থ উপার্জন নয়। কাজের মাধ্যমেই মানুষ খুঁজে পায় জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য, গড়ে তোলে নিজের পরিচয় ও বন্ধুত্ব, নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারে– যে ব্যস্ততা অভিপ্রেত অনেকের কাছেই। এমনকী, জীবন এক ধরনের শৃঙ্খলাও পায় কাজের মাধ্যমেই। কেইন্স নিজেও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে, অভাবের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পর মানুষের সামনে দেখা দেবে আর-একটি সমস্যা– নতুন পাওয়া এতটা অবসর সময় দিয়ে কী করবে তারা?
তাই কর্মসপ্তাহ বা কর্মকালের বিষয়টি হয়তো যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এখন সার্বিকভাবে সপ্তাহে ৪ দিন কাজের সময় ঠিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা সম্ভবত প্রযুক্তিগত নয়, বরং সমস্যাটা সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক।
গত এক শতাব্দী ধরে অর্থনৈতিক সাফল্য বলতে মূলত বোঝানো হয়েছে বেশি উৎপাদন, আয় ও ভোগকেই। অথচ, সেসব ঠিক কতটা হলে ‘যথেষ্ট’ হয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা– মানুষরা– খুব একটা দক্ষ নই, সম্ভবত। এ বিষয়ে কোনও সর্বজনগ্রাহ্য স্পষ্ট সীমারেখা দিতে পারে না আমাদের অর্থনৈতিক শিক্ষা। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ হয়তো বদলে দেবে শক্তির এই ভারসাম্য। তা সুযোগ করে দেবে আমাদের উৎপাদনশীলতাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে তোলার। এই বর্ধিত উৎপাদনশীলতার সুফল হিসাবে আমরা কি উৎপাদন করব আরও আরও লক্ষ কোটি টাকার পণ্য, না কি অর্জন করব মানুষের জীবনের বাড়তি একটা ছুটির দিন, একটুখানি অবসর, নিজের এবং পরিবারের জন্য আর একটু সময়– তা একান্তই আমাদের সামাজিক পছন্দের বিষয়।
(মতামত নিজস্ব)
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘রাম ধনীদের দেবতা, শিব গরিবের’, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির মন্তব্যে বিতর্ক
-
‘রাতটা স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করব’, ব্রাজিল ম্যাচের আগে হুঙ্কার উইলিয়ামসের
-
৬ মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচাতে প্রয়োজন ১৭ কোটি! জনতার দরবারে ‘ত্রাতা’ হয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
শত্রু এখন বন্ধু! পাক ক্রিকেটের ‘সুদিন’ ফেরাতে সমালোচক আখতারকে বড় দায়িত্ব দিচ্ছেন নকভি
-
ড্রাইভার-কন্ডাক্টর থেকে বাসমালিক, গণপরিবহণ সচল নারীদের বাসযাত্রায়