Economic Crisis

বিশ্বজুড়ে সংকটের আবহে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়া প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ আরও ঘোলাটে!

কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের অভ্যাস যদি কিছুটা বদলায়, তাহলে তার সামগ্রিক প্রভাব ব্যাপকতর হতে পারে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১২, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
বিশ্বজুড়ে সংকটের আবহে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়া প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ আরও ঘোলাটে!
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট।

জ্বালানি সাশ্রয় এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে ভারত। কেন্দ্র যে জ্বালানি সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো, এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে, তা কেবল সাময়িক সতর্কবার্তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার রূপরেখা মনে করা যেতে পারে।

Advertisement

এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এমন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিটি দেশের কাছেই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত কাটার আগেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যে জ্বালানি সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো, এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে, তা কেবল সাময়িক সতর্কবার্তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার রূপরেখা মনে করা যেতে পারে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভারতের মতো দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানি একটি বড় সমস্যা। অপরিশোধিত তেল, সার, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে বহু শিল্প উপকরণের জন্য এখনও আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার, মুদ্রাস্ফীতি, সরকারি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর। এমতাবস্থায় নাগরিকদের ছোট ছোট সচেতনতা- যেমন: কম জ্বালানি ব্যবহার, গণপরিবহণের দিকে ঝোঁক, স্থানীয় পণ্য কেনা কিংবা অপচয় কমানো জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Advertisement

কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের অভ্যাস যদি কিছুটা বদলায়, তাহলে তার সামগ্রিক প্রভাব ব্যাপকতর হতে পারে। কম জ্বালানি ব্যবহার মানে কম তেলের আমদানি, কম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা থেকে তুলনামূলক সুরক্ষা। একইভাবে দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রতি আস্থা বাড়লে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চক্র আরও শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় আত্মনির্ভরতার ভিত মজবুত হবে। ভারতের ইতিবাচক দিকটি হল, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি, পরিশোধনাগার, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় টার্মিনাল এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকাঠামো দেশের শক্তি নিরাপত্তাকে ধরে রেখেছে। বিশ্বের বহু দেশ যখন জ্বালানি রেশনিং বা তীব্র মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়েছে, তখন ভারত তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রমাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও ফল। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দূরদর্শী মানসিকতা।

এখনকার এই বিশ্ব-সংকট সাময়িক হলেও, ভবিষ্যতের পৃথিবী যে আরও অনিশ্চিত ও ঘোলাটে হবে, স্পষ্ট। তাই পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, ইথানল মিশ্রণ জ্বালানি, সৌরশক্তি, প্রাকৃতিক কৃষি এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ কেবল পরিবেশবান্ধব কর্মসূচিই নয়, ভারতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তিও। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে যে, আত্মনির্ভরতা ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য কৌশল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.