Droupadi Murmu

রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিতর্ক

মোদি সরকারের দুই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ দ্রৌপদী মুর্মু।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৫, ১৪:৫৩

options
link
রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিতর্ক
ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়টিতে তাঁর মন্তব‌্য পক্ষপাতে দুষ্ট– অভিযোগ। 

Advertisement

৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রথাগত ভাষণে ভারতের সংবিধানের যাত্রাপথ, মর্যাদা এবং গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। সংবিধানকে দেশের একটি গতিশীল দলিল এবং তা ‘পরিবার হিসাবে আমাদের একসূত্রে গেঁথে রেখেছে’ বলে উল্লেখ করে তিনি সংবিধান প্রণেতা ড. বি. আর. আম্বেদকর ও গণপরিষদের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। একইসঙ্গে তিনি গণপরিষদে প্রতিনিধিত্ব ও সংবিধান গঠনে ১৫ জন নারীর অংশগ্রহণকে একটি ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি হিসাবে উল্লেখ করতে ভোলেননি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই উদ্যোগকে নবজাত গণতন্ত্রে বিভিন্ন কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা হিসাবেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যখন বিশ্বের অনেক অংশে নারীর সমতা ছিল একটি দূরের লক্ষ্য, তখন ভারতীয় নারীরা জাতির ভাগ্য গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছিলেন।’ রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে, ‘ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম‌্য এবং ভ্রাতৃত্ব শুধুমাত্র একটি আধুনিক ধারণা নয়, এগুলি সর্বদা আমাদের সভ্যতার ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।’

Advertisement

এরপরেই রাষ্ট্রপতি মুর্মু কেন্দ্রের মোদি সরকারের দু’টি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। প্রথমটি, ব্রিটিশ আমলের ফৌজদারি আইনকে তিনটি নতুন আধুনিক আইন দ্বারা প্রতিস্থাপন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে দশকের পর দশক ধরে বিদ্যমান ঔপনিবেশিক মানসিকতার চিহ্ন দূর করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সঠিক দিকে এগচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনে কেবল শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ন্যায়বিচার প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বড় সংস্কারের জন্য দূরদর্শিতার প্রয়োজন। এবং দ্বিতীয়টি হল– বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটি-তে (জেপিসি) পর্যালোচনায় থাকা ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত বিল। এর সপক্ষে সওয়াল করে রাষ্ট্রপতি
সেই বিষয়টির কী কী সুবিধা রয়েছে এবং কী কী ইতিবাচক বিষয় রয়েছে, তাও ব্যাখ্যা করেন। আর এখানেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব, এবং ‘এক দেশ, এক দল’ অ‌্যাজেন্ডার ভয় বিষয়টিকে জটিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়টিতে রাষ্ট্রপতির প্রবেশ– তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি পক্ষপাতিত্বর অভিযোগেও বিদ্ধ হচ্ছেন। দেশের অগ্রগতিকে পরিচালিত করে এমন মৌলিক মূল্যবোধগুলি প্রতিফলিত হওয়া অপরিহার্য। তাই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এই ধরনের উদ্যোগ যেন স্বচ্ছতা এবং ঐকমত্যের সঙ্গে সম্পাদিত হয়, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতিগুলিকে সমুন্নত রেখে। রাষ্ট্রপতি এই বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইসু‌্যটি না-টানলেই ভাল হত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন