Female Beauty

নারী সৌন্দর্যের ভারতীয়ত্ব, বক্ররেখার উদযাপন

বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানি নারীশরীরের সৌন্দর্যকে আরও 'ভারতীয়' করে তুলতে চান। চান, বক্ররেখার উদ্যাপন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ২১:৪৬

options
link
নারী সৌন্দর্যের ভারতীয়ত্ব, বক্ররেখার উদযাপন
করিনা কাপুরকে নিয়ে আলোড়ন শুরু হয়েছিল শরীর করায়ত্ত করায়। ফাইল চিত্র।

‘সাইজ জিরো’। এমন শরীরী বিভঙ্গ, যা নির্মেঘ আকাশের মতো নির্মেদ, ছিমছাম, মাজাঘষা। লাস্যবতী, তন্বীময় অস্তিত্বের শেষকথা যেন-বা! এই দেশে প্রথম এমন শরীরী হিল্লোলের বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী করিনা কাপুর। ‘সাইজ জিরো’ নারীর এমন রূপের কথা বলে, যেখানে ক্ষীণকটি ২২ থেকে ২৫ ইঞ্চির ধার্যমাত্রা অতিক্রম করবে না কখনও। করিনা কাপুরকে দেখে এক সময় দেশে আলোড়ন শুরু হয়েছিল অমন শরীর করায়ত্ত করায়।

Advertisement

কী করে মেদ ঝরানো যাবে, কী করে অত সুঠাম হওয়া যাবে? গুজবের বংশবৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। অতএব, রটে গেল, করিনা কাপুর সারা দিন শুধু কমলালেবুর রস খেয়ে থাকেন। তাই তিনি পেরেছেন অমন ঈর্ষণীয় রোগা হতে। এই ডায়েট ধাওয়া করতে গিয়ে অনেক তরুণী ও যুবতী অবশ্য দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লেন ও রণে ভঙ্গ দিলেন। করিনা পরে বলেছেন, কমলালেবুর রস খেয়ে সারা দিন কাটানোর মানুষই তিনি নন। বিশেষ নিউট্রিশনিস্টের সাহায্য নিয়েছিলেন। অনেক কিছু যেমন খাননি, তেমনই অনেক কিছু খেয়েওছিলেন। সে যাই হোক, ‘টশন’ (২০০৮) সিনেমার জন্য যখন করিনা সুইম স্যুটে দেখা দেন, তখন তাঁর ওজন কমে গিয়েছে ৬৮ থেকে ৪৮ কেজিতে!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

করিনা কাপুরকে দেখে এক সময় দেশে আলোড়ন শুরু হয়েছিল অমন শরীর করায়ত্ত করায়।

‘সাইজ জিরো’-র ফ্যাশন হাওয়া বেশ কিছু দিন খরবেগে দশদিক কাঁপানোর পর, আস্তে আস্তে চাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি, একটি সাক্ষাৎকারে বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানি মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘সাইজ জিরো’-র দিনগুলি, এবং তাঁর উলটো পথে যাওয়ার অভীপ্সার কথা। বলেছেন, ‘স্লিম হওয়ার ধুম এখন চারদিকে। এতে আপত্তি নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে বাঁকবহুল শরীরের উন্মাদনাকে আমি উদযাপন করতে চাই। এমন বলার জন্য ক্ষমাটমা চাইতেও পারব না। প্রায় আমি বলি, কিম কারদাশিয়ানের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আঁটসাঁট শরীরের অতিকথা থেকে তিনি নারীর শরীরী রূপকল্পকে মুক্ত করেছেন বক্রতার বিস্তৃতিতে। তাছাড়া, ভারতীয় পোশাকের মধ্যে নিরাকার অস্পষ্টতা রয়েছে। সেজন্যই ভারতীয় পোশাক নারীর স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও দেহগত সংস্কারের বাইরে গিয়ে কথা বলতে পারে।’ তরুণ, এককথায়, ‘কার্ভস’ বা নারীশরীরের বক্ররেখার সাহসী চাঞ্চল্যকে উপাস্য করে তুলতে চান। সেজন্যই ‘সাইজ জিরো’-র পশ্চিমি ধাঁচা থেকে সরে আসতে আগ্রহী।

Advertisement
ভারতীয় পোশাকের মধ্যে নিরাকার অস্পষ্টতা রয়েছে।

নিজ-শরীরের উপর নারীর অধিকার মানবীবিদ্যার অন্তর্গত সে-ই দর্শনের সপক্ষে কথা বলে- যা চরম আধুনিকতায় জারিত। শরীরের উপর যদি নারী নিজের মত ও স্বাধীন চেতনার অধিকার স্থাপন করতে না পারে, তাহলে মুক্তির আলো অধরা থেকে যেতে বাধ্য। ‘সাইজ জিরো’ হোক বা বক্ররেখার বৈদুর্য, নারী যেমন চাইবে, সেভাবে নিজেকে গড়েপিঠে নিক। আবার, এই পাঠক্রমে পাশ্চাত্যের অভিজ্ঞানই যে চূড়ান্ত, তাও নয়। তরুণ তাহিলিয়ানি যেমন শাড়িকে কেন্দ্র ভারতীয় নারীর ঘননিবদ্ধ সৌন্দর্যের ঢলোঢলো লাবণ্যকে পুনরাবিষ্কার করতে চান। শালীনতা রক্ষা করে এমনটি করা আদৌ অসম্ভব নয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন