RTI

অন্ধকারে আরটিআই-এর ভবিষ্যৎ, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এড়াতে চায় সরকার?

২০২৫-’২৬ সালের আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট আশাবাদী, দেশের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে। তবে সংশয়ী ‘আরটিআই’-এর সবল ভবিষ্যৎ নিয়ে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ২০:৩৬

options
link
অন্ধকারে আরটিআই-এর ভবিষ্যৎ, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এড়াতে চায় সরকার?
আরটিআই আইন রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ। ফাইল ছবি

২০২৫-’২৬ সালের আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট সংসদে পেশ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে পেশ হওয়া এই সমীক্ষা রিপোর্ট সবসময় নানা কারণে গুরুত্ব পায়। সমীক্ষা রিপোর্টে দেশের অর্থনীতি নিয়ে কিছু পূর্বাভাস থাকে। এবারের আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ ভবিষ‌্যদ্বাণী করেছে।

Advertisement

রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশে-দেশে শুল্কযুদ্ধের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় মন্দা আসতে পারে। এই মন্দা-র চেহারা ২০০৮ সালের তুলনাতেও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা। সে-বছরের বিশ্বজোড়া আর্থিক মন্দার ঝাপটা অবশ‌্য ভারতে সেভাবে লাগেনি। এবারও তেমনটাই হতে পারে বলে রিপোর্ট আশাবাদী। আগামী অর্থবর্ষের জন‌্য দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হবে বলেও জানানো হয়েছে। বর্তমান আর্থিক বছরের জন‌্য আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৬.৫ শতাংশ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বলা যায়, বিশ্বের আর্থিক হালচাল যেমনই থাক, কেন্দ্রীয় সরকারের আশা ভারতের অর্থনীতি এগবে নিজস্ব গতিতেই। তবে আগামী এক বছর দেশে বিনিয়োগের চিত্রটা যে খুব উজ্জ্বল হবে না, সেই হতাশার কথাও রিপোর্ট শুনিয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রাজনৈতিক মহল অবশ‌্য অর্থনীতির ভাল-মন্দ নিয়ে রিপোর্টে দেওয়া ব‌্যাখ‌্যায় উদ্বিগ্ন নয়। তারা সরব তথ্যের অধিকার আইনের ভবিষ‌্যৎ নিয়ে। এবার আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্টে বর্তমান তথ্যের অধিকার আইনের সংশোধন ও সংস্কারের প্রস্তাবিত। প্রস্তাবটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল তোলপাড়। এটি অস্বাভাবিক নয়। ২০০৫ সালে ইউপিএ আমলে দেশের বর্তমান তথ্যের অধিকার আইনটি তৈরি হয়েছিল। সংক্ষেপে আইনটি ‘আরটিআই’ (‘রাইট টু ইনফরমেশন অ‌্যাক্ট’)। এটি দেশের গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই আইন গত দু’-দশকে জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি সেতু তৈরি করেছে। জনগণের ক্ষমতায়ন ছাড়াও এর সবচেয়ে বড় ভূমিকা সরকারের কাজে স্বচ্ছতা আনা। দুর্নীতির উৎস বন্ধ করার ক্ষেত্রেও এই আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারি টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ হচ্ছে তা জনগণকে জানায় সংশ্লিষ্ট আইনটি। অর্থাৎ, এই আরটিআইয়ের কারণেই জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চুম্বকে, আরটিআই দেশের গণতান্ত্রিক ব‌্যবস্থার ভিতকে মজবুত করেছে।

Advertisement

আরটিআই আইন দেশের গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই আইন গত দু’-দশকে জনগণের সঙ্গে সরকারের একটি সেতু তৈরি করেছে। জনগণের ক্ষমতায়ন ছাড়াও এর সবচেয়ে বড় ভূমিকা সরকারের কাজে স্বচ্ছতা আনা।

এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন সম্পর্কে আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্টে বলছে, এর বর্তমান কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর দিতে সরকারি কর্মীদের বহু সময় নষ্ট হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে গোপন প্রশাসনিক তথ‌্য প্রকাশ্যে চলে আসায় প্রকল্প রূপায়ণে অযথা বিলম্ব হচ্ছে। এই কারণে আইনটির সংশোধন ও সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই আইনের কাঠামো দুর্বল হলে যে তার ধাক্কা সরাসরি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় গিয়ে লাগবে!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন