একদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা- দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় অর্থনীতির ছবিটি একদিকে যেমন আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে যথেষ্ট সতর্ক থাকারও দাবি রাখে। প্রথম ত্রৈমাসিকের প্রত্যাশার চেয়ে ভাল ‘জিডিপি’ বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা চলতি বছরের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক’ ৬.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ, ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’ ৭ শতাংশ এবং ‘ওইসিডি’ ৬.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এর আগে ‘মুডিজ’-ও তাদের পূর্বাভাস ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, অর্থনীতির গতি প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী।
শিল্পোৎপাদন, সরকারি বিনিয়োগ এবং রফতানি- এই তিনটি ক্ষেত্র আপাতত দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এপ্রিল-জুলাই ত্রৈমাসিকে শিল্পোৎপাদন সূচক বা ‘আইআইপি’ ৬.৩ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন শিল্পের বৃদ্ধিও প্রায় ৭ শতাংশ। এই সময়ে কেন্দ্রের মূলধনী ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখানে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদদের একাংশ। কারণ, অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক মাস একইভাবে বজায় থাকবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
পণ্য রফতানিতেও এপ্রিল-আগস্ট মাসে ১৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা। যদিও দুর্বলতর মুদ্রার কারণে রফতানিতে কিছু সুবিধা মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবু বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু এখানে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদদের একাংশ। কারণ, অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক মাস একইভাবে বজায় থাকবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্র নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে কৃষি উৎপাদনের ওঠা-নামার প্রভাব শুধু গ্রামীণ। অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা খাদ্যমূল্য, ভোগব্যয় এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির উপরও প্রভাব ফেলে।
‘এল নিনো’-র প্রভাবে কৃষি উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও প্রকাশ করেছে। ফলে শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে ভাল ফল হলেও কৃষিক্ষেত্রে দুর্বলতা সামগ্রিক অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির চাপ। ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫.১ শতাংশ হতে পারে, এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে।
ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে কৃষি উৎপাদনের ওঠা-নামার প্রভাব শুধু গ্রামীণ। অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা খাদ্যমূল্য, ভোগব্যয় এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির উপরও প্রভাব ফেলে।
‘ওইসিডি’-ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে সাময়িকভাবে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছে। ফলে সামনে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার প্রয়োজন, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সঙ্গে স্থিতিশীল মূল্যস্তর এবং বিস্তৃত কর্মসংস্থান-ভারতীয় অর্থনীতির জন্য শেষ পর্যন্ত এই সমন্বয়ই হবে আসল পরীক্ষা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভক্তির সামনে মাথা নুইয়েছিল ব্রিটিশ দম্ভ! গরান কাঠের বেড়ায় ইংরেজদের জব্দ করেছিলেন রাসমণি
-
‘ডাঙ্কি’ পথে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা! ইথিওপিয়ায় অপহৃত ৩ ভারতীয়, ১ কোটি মুক্তিপণের দাবি
-
নবম নয়, অষ্টম শ্রেণিতেই মিলবে সাইকেল! স্কুলপড়ুয়াদের জন্য ‘সারথি’ প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর
-
বিয়ের ৫ মাসে বাবা হলেন জুবিন নটিয়াল, ‘স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেই গোপনে সাতপাক?’, খোঁচা ভক্তদের
-
আশঙ্কার মধ্যেই মিলল আশ্বাস! কৃষকবন্ধুতে বাদ যাবেন না যোগ্য উপভোক্তারা জানালেন কৃষিমন্ত্রী