Rahul Banerjee Death

বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাহুলের মৃত্যু! রহস্যের সন্ধান আদৌ হবে কি?

সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ, জান্তব উল্লাস এক শ্রেণির মানুষ করেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক তো বটেই, নিন্দনীয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৫:০৯

options
link
বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাহুলের মৃত্যু! রহস্যের সন্ধান আদৌ হবে কি?
রাহুলের মৃত্যুর অনেক বিষয় এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা।। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

রাহুল এভাবে চলে গেলেন কেন? এর পিছনে লুকিয়ে কোন গাফিলতি? মৃত্যুর পর তাঁর ঘাড়েই দায় ঠেলে দেওয়া চূড়ান্ত নোংরামি।

Advertisement

অকালপ্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। অভিনেতা-লেখক ও খেলাপাগল একজন তরতাজা মানুষ। মৃত্যু জীবনেরই অঙ্গ। প্রত্যেককেই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু যেভাবে দুর্ঘটনায় রাহুলের মৃত্যু (Rahul Banerjee death) হয়েছে, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তার উপর তাঁর প্রয়াণের পরেই সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ, জান্তব উল্লাস এক শ্রেণির মানুষ করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক তো বটেই, নিন্দনীয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রাহুলের মৃত্যু এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রম বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে তালসারির মতো বিপজ্জনক সমুদ্র সৈকতে শুটিং হল কীভাবে? শুটিং ও দুর্ঘটনা নিয়ে নানা জনের বয়ানে বিস্তর অসংগতি। সমুদ্রে নেমে শুটিংয়ের দৃশ্য নাকি চিত্রনাট্যে ছিল না। তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কে নিলেন? যদি সমুদ্রে নেমে শুটিংয়ের পরিকল্পনা ছিলই, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? যদি থাকে, তাহলে তারা রাহুলকে উদ্ধার করতে পারল না কেন? তালসারি থেকে দিঘা হাসপাতালে পৌঁছতে এত সময় লাগল কেন? এমন বহু ‘কী’ এবং ‘কেন’-র উত্তর এখনও অজানা। পুলিশ তদন্ত করছে। কিন্তু রহস্যের সন্ধান আদৌ হবে কি না, কেউ জানে না।

Advertisement

যেভাবে দুর্ঘটনায় রাহুলের মৃত্যু হয়েছে, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তার উপর তাঁর প্রয়াণের পরেই সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ, জান্তব উল্লাস এক শ্রেণির মানুষ করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক তো বটেই, নিন্দনীয়।

তাছাড়াও ঘটনার পরেই এর দায় রাহুলের ঘাড়েও চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। এমনও বয়ান উঠে এসেছিল যে, প্যাক আপের পর নিষেধ করা সত্ত্বেও রাহুল সমুদ্রের গভীরে চলে যান। যদিও পরে সত্যিটা সামনে এসেই যায়। প্রসঙ্গত, প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের সিঙ্গাপুরে জলে ডুবে মৃত্যুতেও একইভাবে তাঁর মদ্যপ অবস্থার কথা বারবার প্রচার করা হয়। পিছনে চলে যায় তাঁর বন্ধু, সঙ্গীদের গাফিলতির কথা। রাহুলের ক্ষেত্রেও কি সেই চেষ্টা হচ্ছে না? প্রযোজনা সংস্থা, পরিচালক, প্রোডাকশন ম্যানেজার, ইউনিটের বাকি লোকজন- তাঁরা কি দায় এড়াতে পারেন? রাহুলের মতো জনপ্রিয়, পরিচিত মুখ বলে তবু হইচই হচ্ছে, কোনও অখ্যাত অভিনেতার ক্ষেত্রে এমনটা হলে সেটাও হত না।

সব মিলিয়ে ঘটনার দু’-দিন পরেও অনেক বিষয় ধোঁয়াশায় ঢাকা। কোনও স্বচ্ছতা নেই, সদুত্তর নেই। বিভিন্ন ধরনের গল্প হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থার মুখে কুলুপ। সবথেকে মর্মান্তিক ও দুঃখজনক, রাহুলকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মেরুকরণ তৈরির ন্যারেটিভ। রাহুল ঘোষিত বামপন্থী। কিন্তু অন্য পন্থা নিয়ে, বিপরীত মেরুর মানুষদের নিয়ে কখনও তাঁর মুখে শ্রুতিকটু কথা শোনা যায়নি। শিক্ষিত রাহুলের লেখা ও বলার ভাষা ছিল মার্জিত। আর তাঁর মতো একজন মানুষ তো দলের ঊর্ধ্বে। তাঁর অভিনয়ের দর্শক, লেখার পাঠক, খেলার মাঠের সমর্থক-বন্ধুরা তো কোনও নির্দিষ্ট দলের অনুগামী নন। আদতে এই মেরুকরণ কি অন্য কোনও বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল? যদি তাই হয়, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হতে পারে না। এমন একটি প্রতিভার অকালে থেমে যাওয়ার নেপথ্যে যে বা যারা দায়ী, তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতেই হবে। না হলে এমন আরও ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.