Extortion

সর্বগ্রাসী ‘তোলাবাজি’, যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না নেয়

যে-সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল এ রাজ্যে পূর্বতন সরকারের আমলে, তারই বহমানতার শিকার এই রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের একাংশ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২৬, ১২:০৮

options
link
সর্বগ্রাসী ‘তোলাবাজি’, যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না নেয়
প্রতীকী ছবি।

বাংলা ভাষার অত্যন্ত প্রচলিত প্রবাদ বা বাগধারা– ‘সাধু সাবধান’। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের কোনও বিপদ বা দুষ্কর্ম বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যাওয়া। ঠকে যাওয়ার আগেই সজাগ হওয়া বা কাউকে কোনও বিপদ থেকে সতর্ক করে দেওয়ার সময় এই কথাটি ব্যবহার করা হয়। তবে এর ব্যবহার হতে পারে দু’অর্থেই। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষই হতে পারেন এই সাবধানবাণীর লক্ষ্য। আবার যে সৎ বা সাধু প্রকৃতির নয়, তাকে সামলে চলতে বলার হুঁশিয়ারি দিয়েও কেউ বলতেই পারেন, ‘সাধু সাবধান!’

Advertisement

সেই প্রসঙ্গ মাথায় রাখলে এটা ধরে নেওয়া যায় যে, বঙ্গ বিজেপি ‘সাবধান’ হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র মাস তিনেক অতিক্রান্ত। কিন্তু তার মধ্যেই দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দাদাগিরি-সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। যাকে গোদা বাংলায় অনেকে বলছে, তৃণমূলের রোগ ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপিতেও। দীর্ঘদিন খাবারের স্বাদ থেকে বঞ্চিত বুভুক্ষুরা যেমন সামনে খাবার দেখলেই হামলে পড়ে, ক্ষমতার অলিন্দে ব্রাত্য থাকা নেতারা তাই সুযোগ পেয়েই একটু ‘কামিয়ে নেওয়া’-র রাস্তা খুঁজতে নেমে পড়েছে। যা বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষে চরম অস্বস্তির কারণ।

Advertisement

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেই নীতি অনুসরণ করেই এবার তোলাবাজির অভিযোগে সাসপেন্ড ২২ জন নেতা।

যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল এই রাজ্যে, তারই বহমানতার শিকার এই রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের একাংশ। শুধু দলের নীচু স্তরের কর্মীদের মধ্যেই এই অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে, তা নয়। বিধায়কদের নিয়েও মাথাব্যথা তৈরি হচ্ছে। যে সমস্ত কারণে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতৃত্বের চরম তোলাবাজি তার অন্যতম কারণ। পট পরিবর্তনের পরও যদি মানুষকে একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে যে কোনও সময় ধাক্কা খেতে হতে পারে। সেটা বিজেপির অভিজ্ঞ নেতারা ভালই বুঝতে পারছেন।

Advertisement

তাই গোড়া থেকেই সতর্ক তাঁরা। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেই নীতি অনুসরণ করেই এবার তোলাবাজির অভিযোগে সাসপেন্ড ২২ জন নেতা। অন্তত ২৫০ জনকে শো-কজ করেছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সূত্রের খবর, গত ৪ মে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কোনও অভিযোগ উঠলে রাজ্য বিজেপি নিয়মিত শো-কজ করছে নেতাদের। কড়া পদক্ষেপ করছে। তাতে কতটা ফল হবে, তা ভবিষ্যতের গর্ভে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য, গোড়া থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সচেতন। তোলাবাজির রোগ সর্বগ্রাসী হয়ে যাতে দলের সর্বস্তরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য একটা ‘বাঁধ’ দেওয়ার চেষ্টা অন্তত হচ্ছে। যা অতীতে দেখা যায়নি।

ক্ষমতায় থাকা ‘দাদা’দের তোলাবাজি বা শক্তি প্রদর্শন নতুন নয়। স্থানীয় স্তরে এর প্রচলন আগে থেকেই। কিন্তু তা যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তাহলে সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে বাধ্য। যার পরিণতি ভাল হতে পারে না।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.