Pellet Gun

প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, পেলেট গান কি সত্যিই নিষিদ্ধ করা উচিত?

যে কোনও বিক্ষোভ ও আন্দোলন ঠেকাতে সারা বিশ্বেই কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়। ব্যতিক্রম নয় ভারতও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১৩:৪৬

options
link
প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, পেলেট গান কি সত্যিই নিষিদ্ধ করা উচিত?
ফাইল ছবি।

সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই তাদের উপর গুলি চালিয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানসূত্র বের হওয়া কাম্য।

Advertisement

সম্প্রতি, যন্তর মন্তরে ‘জেন জি’ প্রতিবাদ ও আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। আপাতত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রের রফা হয়ে যাওয়ায় উঠে গিয়েছে অবস্থান। কিন্তু পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে আদালতের চৌকাঠে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

যে কোনও বিক্ষোভ ও আন্দোলন ঠেকাতে সারা বিশ্বেই কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়। ব্যতিক্রম নয় ভারতও। আইন বলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হলে, বা আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করতে পারে। প্রথমে লাঠিচার্জ, তারপর কাঁদানে গ্যাস, ও জলকামান ব্যবহার করা যায়।

Advertisement

তাতেও কাজ না হলে যদি সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ নিয়ম মেনে গুলি চালাতে পারে। কিন্তু তা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিসাপেক্ষ। তাঁর অবর্তমানে সেই অনুমতি দেবেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা গেজেটেড মর্যাদার সিনিয়রমোস্ট পুলিশ অফিসার। অস্ত্র বিতরণের লগ এন্ট্রি বাধ্যতামূলক। অস্ত্র ব্যবহারের পরে হিসাব জমা দিতে হয়। সাধারণত শেষ ‘বিকল্প’ হিসাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবসময় পেলেট গান বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় না। সেজন্য বিশেষ পরিস্থিতি মাথায় রাখতে হয়।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রের রফা হয়ে যাওয়ায় উঠে গিয়েছে অবস্থান। কিন্তু পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে আদালতের চৌকাঠে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টি।

প্রশ্ন, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধাতব পেলেট গান ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মন্তব্য, পেলেট গান সম্পূর্ণ ‘নিষিদ্ধ’ করার কথা এখনই বলা সম্ভব নয়। অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। সাধারণ প্রতিবাদে যখন দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ে হিংসা ছড়ায়, তখন লাঠিচার্জ কিংবা কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করেও পরিস্থিতি সামলানো যায় না। তখন পুলিশ গুলি চালানোর ক্ষমতাও রাখে। সেক্ষেত্রে পেলেট গান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

তাতেও কাজ না হলে যদি সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ নিয়ম মেনে গুলি চালাতে পারে। কিন্তু তা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিসাপেক্ষ। তাঁর অবর্তমানে সেই অনুমতি দেবেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা গেজেটেড মর্যাদার সিনিয়রমোস্ট পুলিশ অফিসার।

দিল্লি পুলিশের দাবি, যাবতীয় নিয়ম মেনেই পেলেট গান চালানো হয়েছিল। রিপোর্টে কোথাও ধাতব পেলেট নয়, ছিল প্লাস্টিক পেলেটের উল্লেখ। কিন্তু অভিযোগ, ধাতব পেলেটও ব্যবহার করেছিল দিল্লি পুলিশ। এখানেই উঠছে সীমারেখার প্রশ্ন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। কিন্তু আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ পদক্ষেপ করবেই। এই বাস্তবতা আন্দোলনকারীদের মাথায় রাখা দরকার। আবার পুলিশকেও বুঝতে হবে, যারা প্রতিবাদ করছে, তারা সহ-নাগরিক। শুধু সরকার-প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বলেই তাদের উপর গুলি চালিয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানসূত্র বের হোক, সেটাই কাম্য। আপাতত, আদালতের দর্শিত পথরেখা সম্বল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.