Sonam Wangchuk

মহাত্মার পথে সোনম! অহিংস আন্দোলন যেন রাজনীতির ফাঁসে বন্দি না হয়

টানা ২৬ দিন যে অনশন করলেন তাতে দেশের সরকারও নড়েচড়ে বসেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:৩৭

options
link
মহাত্মার পথে সোনম! অহিংস আন্দোলন যেন রাজনীতির ফাঁসে বন্দি না হয়
ফাইল ছবি।

সোনমের অহিংস গান্ধীবাদী আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী তথা কেন্দ্রকে বাধ্য করল ‘নিট’ ইস্যুতে দ্রুত বিচারের উদ্দেশে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে।

Advertisement

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের টানা ২৬ দিনের অনশন আন্দোলন ফের ভারতীয় সমাজজীবনে গান্ধীবাদের প্রবাহমানতাকে স্বীকৃতি দিল। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও যে অনশনের মতো অংহিস আন্দোলনের পথ দেশের বিশাল জনতার মধ্যে আলোড়ন তৈরি করতে পারে, তার হাতে গরম প্রমাণ মিলল। প্রায় ন’-দশ কেজি ওজন খুইয়ে সোনম টানা ২৬ দিন যে অনশন করলেন তাতে দেশের সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেনে নিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা মামুলি ব্যাপার নয়। জানাতে কার্যত বাধ্য হয়েছেন, সরকারও ঘটনাগুলিকে লঘুভাবে দেখছে না। প্রধানমন্ত্রী কিছু কঠোর পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়ার পরই সোনম তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেছেন।

Advertisement

২০১৭ সালে মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বেই কেন্দ্র ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলিকে ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ তথা এনটিএ-র অধীনে নিয়ে আসে। নিট-ইউজি, জেইই (মেইনস), সিইউইটি ইত্যাদি পরীক্ষা ২০১৭ সালের পর থেকে এনটিএ পরিচালনা করে আসছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, মোদির ১৫ বছরের জমানায় বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে মোট ১৫২ বার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে সাত কোটি পড়ুয়া। রাহুলের দেওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান কতটা নির্ভুল তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যাটি যে উপেক্ষা করার মতো নয় তা বোঝা যাচ্ছে সোনমের আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, যুবসমাজকে নিয়ে এইভাবে ছিনিমিনি খেলা তাঁর সরকার বরদাস্ত করবে না। দোষীদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেনে নিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা মামুলি ব্যাপার নয়। জানাতে কার্যত বাধ্য হয়েছেন, সরকারও ঘটনাগুলিকে লঘুভাবে দেখছে না। প্রধানমন্ত্রী কিছু কঠোর পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়ার পরই সোনম তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেছেন।

এই বছরই ডাক্তারিতে ভর্তির নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস হয়েছিল। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। অল্পদিনের মধ্যে পুনরায় নিট-ইউজির ব্যবস্থা হয়। যার ফল কয়েকদিন আগে নির্বিঘ্নে প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করা গিয়েছে। সিবিআই তদন্তে দেখা যাচ্ছে, প্রশ্নফাঁসে সরাসরি এনটিএ-র কোনও আধিকারিকের যোগ নেই। প্রশ্ন তৈরির কাজে যুক্ত কিছু বেসরকারি লোক এইসব চক্রে জড়িত। এদের দ্রুত বিচারের উদ্দেশে সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করেছে।

আশা, আগামিতে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হবে। এনটিএ-র সংস্কারের কাজও হবে। এই কাজগুলি সম্পন্ন হলেই সোনমের অহিংস গান্ধীবাদী অনশনের সার্থকতা। অনশনের মতো আত্মপীড়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে মহাত্মা ব্রিটিশ রাজত্বের বিরুদ্ধে সারা দেশের চেতনাকে জাগ্রত করেন। এখন যখন সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় তখনও অনশনের মতো অহিংস ও আত্মপীড়নের পথ সমান কার্যকর। অহিংস সামাজিক আন্দোলন যাতে রাজনীতির ফাঁসে বন্দি হয়ে সহিংস না হয়ে ওঠে তা এবার সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে।

রাহুলের দেওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান কতটা নির্ভুল তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যাটি যে উপেক্ষা করার মতো নয় তা বোঝা যাচ্ছে সোনমের আন্দোলনের জেরে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, যুবসমাজকে নিয়ে এইভাবে ছিনিমিনি খেলা তাঁর সরকার বরদাস্ত করবে না। দোষীদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.