বাতিলের নাম নোট, আর অচলের নাম সংসদ৷ গোটা শীতকালীন অধিবেশনের হল্লার মাঝে শুধু শোনা গেল একটি কথা৷ মুলতবি৷ না হল তর্ক, না হল বিতর্ক৷ প্রতিবাদের নামে শিকেয় সব সিদ্ধান্ত৷ আখেরে লাভটা কার হল? প্রশ্ন তুললেন সুপর্ণা মজুমদার৷
আরও একটা শীত পেরিয়ে গেল৷ শেষ হল মরশুম৷ বছরের মত কাজ শেষ৷ কিন্তু কাজ আর হল কই? কই মাছের প্রাণের মত অধিবেশনের পর অধিবেশন আটকে বিলগুলি৷ কোনওটাতে চাই সংশোধন, কোনওটাতে সামান্য পরিবর্তন৷ তাতেই হয়তো বদলে যেতে পারত কয়েক কোটির জীবন৷ কিন্তু, ইহার নাম সংসদ৷ বছর ঘুরে গেলেও যার অচলাবস্থার কোনও পরিবর্তন নেই৷
যেই টাকার জন্য হাসিমুখে এটিএম-এর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ৷ সেই টাকার জন্যই বাদি-বিবাদি পক্ষের হল্লায় অধিবেশন বন্ধ থাকল গোটা একটা শীতকালীন মরশুম জুড়ে৷ একটি দিনও হল না কোনও আলাপ-আলোচনা কিংবা সমালোচনা-পর্যালোচনা৷ রাজ্যসভা থেকে লোকসভা সর্বত্র কেবল বিক্ষোভ, বিক্ষোভ আর বিক্ষোভ৷ ফল? কখনও বেলা দু’টো পর্যন্ত মুলতবি সংসদ, কখনও বা দিনের মতো৷
সুমিত্রা মহাজনও যেখানে বারবার হাল ছাড়লেন, সেখানে হাল ধরার চেষ্টা করলেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ কিন্তু শেষে তিনিও ধৈর্য হারিয়ে বলতে বাধ্য হলেন, “যা চলছে তা মেনে নেওয়া যায় না৷ আন্দোলন করার জন্য রাস্তা রয়েছে। সংসদটা আন্দোলনের জায়গা নয়৷” প্রবীণ রাজনীতিবিদের কথা কেউ কি কানে তুললেন? কেউ তুললেন না৷ তুললেন কিছু প্ল্যাকার্ড৷ নোট বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কিছু ধ্বনি৷ সে ধ্বনি ভোটের জন্য নয়, বরং অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য৷
বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন আরও এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ৷ সংসদ বন্ধ রেখে যে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না৷ সেকথা বারবার বলেছেন লালকৃষ্ণ আডবানী৷ কিন্তু বিজেপির লৌহপুরুষের কথাও কেউ শুনলেন না, কেউ বললেনও না৷ সারা বছরে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে প্রায় একদিনও সুস্থভাবে বসল না কোনও অধিবেশন৷ না হল তর্ক, না হল বিতর্ক৷ প্রতিবাদের নামে শিকেয় সব সিদ্ধান্ত৷
লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৭৯০ জন সাংসদ৷ কেউ নির্বাচিত, কেউ বা মনোনীত৷ সম্প্রতি সকলেরই মাইনে বেড়েছে৷ গাড়ি-সহ অন্যান্য সুবিধা তো রয়েছেই৷ সবই করদাতা সাধারণ মানুষের সৌজন্যে৷ আর এই সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বাজেট অধিবেশন, বাদল অধিবেশন, শীতকালীন অধিবেশন৷ যার কোনওটাই চলতি বছরে ঠিকঠাক ভাবে সম্পন্ন হল না৷ পক্ষ-বিপক্ষ সব পক্ষই রয়েছে৷ সবাই নাকি এই সাধারণ মানুষের পক্ষে৷ কেউ বলছেন জন জন কি বাত, তো কেউ বলছেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়ার কথা৷
আখেরে লাভটা কার হল জানা নেই, তবে ক্ষতিটা বোধহয় সাধারণ মানুষেরই হল৷ যেই সাধারণ মানুষ আজও দাঁড়িয়ে এটিএম-এর লাইনে৷ যেই সাধারণ মানুষের মনে প্রতিবাদের বদলে এই চিন্তা মাসের বাজার খরচটা কীভাবে কমানো যায়৷ আর যেই সাধারণ মানুষের মনে এইটা চিন্তা পেটিএম, ই-ওয়ালেট গুলি কীভাবে ব্যবহার করা যায়৷ যাতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যায়৷ কারণ এগিয়ে চলার নামই জীবন, থেমে থাকার নয়৷ বাকিটা ব্যক্তিগত…
সর্বশেষ খবর
-
‘দেড় বছরের নাতনি রোজ মোদি-নাম জপে’, রাহুল-আথিয়াকন্যার ‘সিক্রেট’ ফাঁস দাদু সুনীল শেট্টির
-
‘বেকার গৌরব চা-সিগারেটের টাকাও নিত অন্তরার থেকে, খ্যাতি পেতেই বাড়ায় দূরত্ব’, গোপন তথ্য ফাঁস ‘বন্ধু’দের
-
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েই আইরিশ দলে, টিম ইন্ডিয়াকে উড়িয়ে দেওয়া কে এই ‘ভারতীয়’ বোলার?
-
বসিরহাটে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি বিজেপির, শুরু প্রস্তুতিও
-
শেষ মুহূর্তে গোল বাতিলে ঝুলে ইরানের ভাগ্য, নকআউটে মিশর-বেলজিয়াম, শেষ ৩২-এ আর কারা?